http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

এমপিওভুক্তি হচ্ছেন বেসরকারি স্কুলের ২৫ হাজার শিক্ষক
    A+ A A-

কাগজ ডেস্ক : বেসরকারি স্কুলের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষক ও কর্মকর্তা এমপিওভুক্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে শূন্য পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার, ইনডেক্সধারী ১৫ হাজার ও প্যাটার্নভুক্ত শিক্ষক ২৫৪২ জন। এর মধ্যে সাধারণ স্কুল-কলেজে ১৪৪১ জন ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ১১০১ জন। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদের বিপরীতে এমপিও বন্ধ ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও শাখা থেকে এসব শিক্ষক-কর্মকর্তার এমপিও চালু করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব শিক্ষক বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন। প্রতিষ্ঠান থেকে নামে মাত্র কিছু টাকা পেলেও সরকারি অংশ থেকে কোন অংশ পান না। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশ অর্ডার (এমপিও) নিয়ন্ত্রক ও মাউশি সূত্রে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তাদের এমপিও চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে মাউশির এমপিও শাখার কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা তার তালিকা চূড়ান্ত করছেন। শিগগিরই এ ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা জারি হবে। শূন্য পদে শিক্ষকরা হচ্ছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক মারা গেছেন অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন ভাল সুবিধা পেয়ে। কিন্তু তাদের ওই খালি পদে কোন যোগ্য শিক্ষক নিয়মনীতি মেনে নিয়োগ দেয়া হলেও তাদের এমপিও টাকা দেয়া হতো না। এ ছাড়া ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা হচ্ছেন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে ভাল সুবিধা নিয়ে বদলি হলে বা চাকরি ছেড়ে ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে গেলে তাদেরও এমপিও বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন থেকে।
২০০৯-১০ সালে ১৬২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সময় ওইসব প্রতিষ্ঠানে মোট ১৪৪১ জন প্যাটার্নভুক্ত শিক্ষক এমপিও বঞ্চিত হয়েছিল। গত দু’-আড়াই বছর ধরে এমপিওর দাবিতে এসব শিক্ষক আন্দোলন করে আসছেন। অবশেষে তাদের ভাগ্যও খুলছে। ১৩ই আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি পর্যালোচনা কমিটির সর্বশেষ বৈঠক হতে যাচ্ছে। এ বৈঠকে ১৪৪১ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ওই সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এমপিও খাতে ৪৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। এ টাকা থেকেই গত আড়াই বছর আগে বঞ্চিত রাখা ১৪৪১ জন শিক্ষককে এবার এমপিওভুক্ত করা হবে। তারাও আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই এমপিও তালিকায় নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। এছাড়া কারিগরির ১১০১ শিক্ষক-কর্মকর্তাও এমপিওভুক্ত হচ্ছেন। প্যাটার্নভুক্ত সাভারের তেতুলঝোড়া হাইস্কুলের শিক্ষক হাদিছুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। কিন্তু সরকারি টাকা পাইনি। এ অবস্থায় মানবতের জীবনযাপন করছি। তিনি বলেন, অসংখ্য শিক্ষক তিনবেলা খেতে পর্যন্ত পারেন না। সারা দেশে বর্তমানে এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হচ্ছে ৪৬৯৩টি। গত ২০১০ সালে জুন মাসে সর্বশেষ এমপিও দেয়ার সময় এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরূপ একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ের হাতে রয়েছে। এ ফিট লিস্ট তৈরি করতে চারটি বিশেষ মানদণ্ডের ভিত্তিতে যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। তা হচ্ছে- ক) প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি খ) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সংখ্যা। গ) বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার সংখ্যা। ঘ) পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর হার। বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল কলেজ ও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) সংখ্যা হচ্ছে ২৭ হাজার ৩০৭টি। এমপিও বাবদ প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। এই ব্যয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের ৬২ ভাগ। কেননা, চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ মাত্র ৪৫ কোটি টাকা। এ টাকায় যোগ্য সব প্রতিষ্ঠানকে বা তার একাংশকে এমপিওভুক্ত করা যাবে না। এ কারণে বিগত দু’টি অর্থ বছরের ন্যায় কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওর তালিকায় যুক্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মাউশির ডিজি অধ্যাপক নোমান-উর রশিদ বলেন, শূন্য পদের বিপরীতে, প্যাটার্নভুক্ত ও ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের এমপিও শিগগিরই হবে। এজন্য আমাদের কিছু সময় দরকার। এমপিওভুক্তির কাজ চলছে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে।