http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
রক্ষা করতে জনগণের
জীবন এবং পণ্য,
মিছিল-মিটিং বন্ধ রবে
একটি মাসের জন্য।
গণতন্ত্রে আছে নাকি
এমন রেওয়াজ বেশতো,
জনমনে এসব কিছুর
থাকবে লেগে রেশতো!

হিগস সদৃশ ‘নতুন’ কণার সন্ধান
    A+ A A-

হিগস সদৃশ ‘নতুন’ কণার সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নতুন একটি ‘অতিপারমাণবিক’ কণার সন্ধান পেয়েছেন ইউরোপীয় সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চের (সার্ন) বিজ্ঞানীরা, যেটিকে তারা হিগস বোসন সদৃশ কণা হিসেবেই দাবি করছেন। 

সংস্থাটি বলছে, এই কণার কাঠামো ও আচরণ হিগস বোসন কণার সঙ্গে যথেষ্ট ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ’।

বুধবার জেনেভায় সার্ন মিলনায়তনে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে (এলএইচসি) দুই দফা চালানো পরীক্ষার সমন্বিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

দুটি গবেষণায় সম্পৃক্ত কমপেক্ট মিউন সোলনয়েড বা সিএমএস গবেষক দল দাবি করেছে, আচমকা এমন একটি কণার উপাত্ত পাওয়া গেছে যেটি ১২৫ দশমিক ৩০ গিগাইলেক্ট্রন ভোল্টের এবং প্রোটনের চেয়ে ১৩৩ গুণ ভারি।

এই কণাকেই হিগস সদৃশ কণা হিসেবে বলছেন তারা।

ঘোষণা শুনে অশ্রু সংবরণ করে রাখতে পরেননি খোদ প্রফেসর পিটার হিগস।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এই অর্জনের জন্য আমি গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাচ্ছি। জীবদ্দশায় আমি এটি দেখে যেতে পারবো তা কল্পনাও করতে পারিনি।”

হিগস বোসনের নাম রাখা হয়েছে এই ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর নামের শেষাংশ ও বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামে।

‘বিগ ব্যাং’ নামের মহা বিস্ফোরণের পর মহাবিশ্বের সূচনালগ্নে যে কণাটি প্রধান ভূমিকা রেখেছে সেটি ‘ঈশ্বর কণা’ নামেও পরিচিত। এই কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা গেলে ‘মহাবিস্ফোরণের’ পর কীভাবে সূর্য ও গ্রহ তৈরি হয়েছিল, এমনকি জীবনের রহস্যও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

যদিও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে গবেষণা করেও এর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ বিজ্ঞানীরা এখানো পাননি।

তাত্ত্বিক এই কণার অস্তিত্ব প্রমাণে জেনেভার কাছাকাছি ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের সীমান্তবর্তী ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র সার্নে দুই দফা মাটির নিচে সুড়ঙ্গে বিগ ব্যাংয়ের ‘মিনি সংস্করণ’ সৃষ্টির চেষ্টায় বিজ্ঞানীরা আলোর গতির কাছাকাছি অতি উচ্চ মাত্রায় কণিকাগুলোর সংঘর্ষ ঘটান।

সার্নের লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারের (এলএইচসি) ২৭ কিলোমিটার ডিম্বাকৃতির সুড়ঙ্গপথে আলোর গতির কাছাকাছি এক ন্যানো সেকেন্ডে রেকর্ড ৭ বিলিয়ন বিলিয়ন ইলেক্ট্রন ভোল্ট ক্ষমতায় এই পরীক্ষা চালানো হয়।

দুটি পরীক্ষার উপাত্ত সমন্বয়ের পরই বুধবারের ঘোষণা এলো।

সিএমএসের মুখপাত্র প্রফেসর জো ইনকানডেলা বলেন, “এই ফলাফল প্রাথমিক। তবে ১২৫ গিগাইলেক্ট্রন ভোল্টের সিগমা-৫ সংকেত পাওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে বড় রকমের চমক।”

এ কণাটি নিশ্চিতভাবে একটি নতুন কণা সে ব্যাপারে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই এই পদার্থবিদের।

সিএমএস গবেষক দলের প্রাপ্ত ভরের চেয়ে খানিকটা বেশি ভরের কণা পেলেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এলএইচসিতে অ্যাটলাস এক্সপেরিমেন্ট গবেষক দলের মুখপাত্র ড. ফাবিওলা জিয়ানত্তি।

“আমরা আমাদের পরীক্ষায় নতুন কণার স্পষ্ট তথ্য পেয়েছি, যা কিনা সিগমা-৫ লেভেলের এবং ভর ১২৬ গিগাইলেক্ট্রন ভোল্টের কাছাকাছি।”

আর সার্নের মহাপরিচালক রল্ফ হিউয়ের বললেন, “আমি মনেকরি আমরা এতদিন যে কণার সন্ধানে ছিলাম তা পেয়ে গেছি। অথবা আমরা নতুন কিছুর সন্ধান পেয়েছি যা হিগস বোসন কণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে কোনটি সত্য? এ বিষয়ে গবেষণার পথ তো খোলাই রইলো।”

এই আবিষ্কারকে একটি মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরলেও উদ্ভাবনকে ‘শুরু’ বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন এই উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত গবেষক দলের আবেগের বিষয়ে প্রফেসর ইনকানডেলা বলেন, “এই গবেষণায় আমরা এতোটাই নিমজ্জিত ছিলাম যে আজকের আগে আমার আবেগে এর কোনো স্থান ছিল না। তবে আজ আমি গর্বিত।”

জেনেভায় নতুন কণার ঘোষণার পাশাপাশি একই সময় বুধবার লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটেন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাসিলিটিজ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী জন উমার্সলিও একই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “একটি নতুন কণার আবিষ্কারের বিষয়ে আমরা নিশ্চিত, যা হিগস বোসন তত্ত্বে উল্লেখিত কণার সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

তবে এই কণা ‘হিগস-বোসন’, নাকি সম্পূর্ণ নতুন একটি কণা- সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। আর যদি দ্বিতীয়টি সঠিক হয়, তাহলে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে তাদের আবার নতুন করে ভাবতে হবে।