

আসাদ বেহেস্তী
আসছে বাজেট অধিবেশন
চলবে লম্বা ভাষণ,
তারই আগে জনগণে
খাবে নানান কষন,
প্রথম কষণ ব্যবসায়ীদের
কারণ ছাড়াই তারা,
দাম বাড়াবে নিত্য মালের
হিসাব-নিকাশ ছাড়া!

কাগজ ডেস্ক : দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নামতে থাকায় এবং ভূ-উপরিভাগের পানি ক্রমশ ‘অপ্রতুল’ হয়ে পড়ায় বর্ষা মওসুমে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, দেশে গড়ে ২ হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় সরকার বৃষ্টির পানির ব্যবহার জনপ্রিয় করার জন্য একটি নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে।
শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এ বছরের বর্ষা মৌসুম।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে শতকরা ৮৪ ভাগ মানুষের আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় এই চিত্র ভিন্ন। যেখানে পানযোগ্য পানি ‘অপ্রতুল’।
জাতীয় কোনো পরিকল্পনা ও প্রচারাভিযান না থাকলেও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত মানুষেরা পানির লবণাক্ততার মুখে পানযোগ্য পানির চাহিদা মেটাতে চিরাচরিত পদ্ধতিতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখে।
পানি বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “বেশি দেরি হওয়ার আগেই সরকারের উচিৎ বৃষ্টির পানি ব্যবহারের জন্য জনগণকে সচেতন করা।”
প্রতিবছর ভূগর্ভস্থ পানি ২ থেকে ৩ মিটার করে নিচে নামায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভূগর্ভস্থ পানি নবায়নের জন্যও এটা একটা প্রধান উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।”
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. খায়রুল ইসলামও উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে বলেন, “বিশুদ্ধ পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও নগরায়নের প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত বৃষ্টির পানি ধরে রাখার বিষয়ে নীতিমালা গ্রহণ করা।”
তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহরের পানির শতকরা ৯০ ভাগ চাহিদা পূরণ করা হয় ভূগর্ভস্থ পানির উৎস থেকে আর বাকিটা আসে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে।
“জলাধারের সংখ্যা সীমিত থাকায় ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানি পর্যাপ্তভাবে নবায়ন না হয়ে শেষ হয়ে যাবে। মিরপুর ও পুরানো ঢাকার কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই এটা ঘটেছে।”
বৃষ্টির পানি একটি বিকল্প হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভূগর্ভস্থ পানির ওপরে আমাদের নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।”
বুয়েট ও ভারতের বিজ্ঞান ও পরিবেশ কেন্দ্রের সহায়তায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশ শনিবার থেকে ঢাকায় বৃষ্টির পানি দরে রাখার বিষয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করছে।
“সম্মেলনে আমরা বৃষ্টি পানি ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতির বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব,” বলেন তিনি।
ওয়াটারএইড গণপূর্ত বিভাগের ভবনের ছাদে এর জন্য একটি মডেল স্থাপন করেছিল। এটা থেকে পাওয়া পানি ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওয়াটারএইডের পক্ষ থেকে বিল্ডিং কোডের ভেতরে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার বিধান অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “আমাদেরকে আগে বৃষ্টির পানি ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার আন্দোলন শুরু করতে হবে।”
বৃষ্টির পানি ধরে রাখার উপযুক্ত আরো বিকল্প বের করতে গবেষণা পরিচালনার উপর জোর দেন তিনি।

