http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

ইন্টারনেট ত্রুটির কারণে গ্রামের কাগজ এর ২১ মে অনলাইন প্রকাশনা স্থগিত রয়েছে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্যে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করছি ২২ মে থেকে আবারো ফিরে আসব আপনাদের মাঝে। গ্রামের কাগজের সাথেই থাকুন।

প্রধান সম্পাদক

আসাদ বেহেস্তী
রক্ষা করতে জনগণের
জীবন এবং পণ্য,
মিছিল-মিটিং বন্ধ রবে
একটি মাসের জন্য।
গণতন্ত্রে আছে নাকি
এমন রেওয়াজ বেশতো,
জনমনে এসব কিছুর
থাকবে লেগে রেশতো!

যশোরের কয়েকটি ক্রাইম পয়েন্টে পুলিশের অভিযান : আলোচিত ১২ জন আটক
    A+ A A-

বিশেষ প্রতিনিধি : বোমাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আটকে যশোরের খেলাডাঙ্গা, পুলেরহাট, খড়কী ও শংকরপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে থানা পুলিশ। অভিযানে আলোচিত বোমাবাজ দূর্বৃত্ত মন্ডলগাতীর হিমায়েতসহ ১০ অসাধু আটক হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। হেমায়েত আটক হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে খোলাডাঙ্গার একটি মসজিদে শুকরিয়া আদায় করেছেন মুসল্লীরা। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অভিযানের খবর থানা থেকে আগাম ফাঁস হয়ে পড়ায় আলোচিত সন্ত্রাসীদের অনেকে আটক হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। 
৩ জুলাই সকাল থেকে যশোর কোতোয়ালী থানার কয়েকটি চৌকস পুলিশদল শহর ও শহরতলীর আলোচিত কয়েকটি ক্রাইম পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে। ওই দিন আনুমানিক সকাল ১১ টায় এসআই আমীর আব্বাসের নেতৃত্বে একটি টিম পুলেরহাট ও মন্ডলগাতী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে ওই এলাকার দূর্বৃত্তরা গা ঢাকা দেয়। তাৎক্ষনিকভাবে তিনি খবর পান আলোচিত বোমাবাজ দূর্বৃত্ত হেমায়েত স্থানীয় এম,এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আত্মগোপন করেছে। তিনি টিম নিয়ে ওই স্কুল থেকে পাকড়াও করেন বোমাবাজ ও দূর্বৃত্ত হিমায়েত হোসেনকে। হিমায়েত মন্ডলগাতীর জিন্নাত আলীর ছেলে। এ সময় তার সহযোগী নুর মোহাম্মদ সোহাগ নামে আরও এক দূর্বৃত্ত আটক হয়। এ ছাড়া ওইদিন গভীর রাতে দেলোয়ার গ্রুপের সদস্য মনিকে আটক করে। হিমায়েত, সোহাগ ও মনি পুলেরহাট ও খোলাডাঙ্গা কেন্দ্রিক অপরাধ সিন্ডিকেটের সদস্য। খোলাডাঙ্গার হাসান গ্রুপের সক্রিয় সদস্য তারা। ওই টিম খোলাডাঙ্গায়ও অভিযান চালান। তবে ওই এলাকা থেকে কেউ আটক হয়নি। এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, আগে থেকে অভিযানের সংবাদ চাউর হওয়ায় অপরাধীরা পালিয়ে যেতে সুযোগ পেয়েছে। তবে হেমায়েত আটক হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করে এ অভিযান অব্যাহত রাখাসহ এলাকায় চিহ্নিত দূবৃর্ত্তদের আটক দাবি করেছেন।
ওই দিন দুপুরে থানার আর একটি টিম অভিযান চালায় রেল স্টেশন, চাঁচড়া ও শংকরপুরের বিভিন্ন মাদক আস্তানায়। এসময় আটক হয় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত পাঁচজন। এরা হচ্ছে নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়ার আব্দুর রবের ছেলে হামিদ হোসেন, শংকরপুরের ইমারুল বিশ্বাসের ছেলে পিন্টু বিশ্বাস, নড়াইলের মহেশ খোলার হযরত আলীর ছেলে সাজেদুল ইসলাম, খুলনা সোনাডাঙ্গার ফজর আলীর ছেলে ইব্রাহীম ও শংকরপুরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে কুদরত আলী। তবে আটককৃত এ পাঁচ জনের তিনজন নেশাখোর বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রকৃত মাদক ব্যসায়ীরা পালিয়েছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। আলোচিত অনেক মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালায়নি।
ওই দিন সন্ধ্যায় থানার অফিসার ইন্চার্জ আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস সিভিল টিমসহ আরও দুটি টিম খড়কী এলাকায় অভিযান চালায়। ওই এলাকায় একজনকে জখম করার ঘটনার জের ধরে বোমাবাজি ও অস্ত্রের মহড়া চলছে সংবাদে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে কেউ আটক হয়নি বলে থানা সূত্র জানিয়েছে। এলকাবাসী দাবি করেছেন, খড়কীতে প্রতিনিয়ত অস্ত্রবাজ বোমাবাজ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করে। পুলিশ আন্তরিক হলে তাদের সহজেই আটক করা সম্ভব। গতকাল দুপুরে যশোর পৌর পার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন ছিনতাইকারী আটকসহ ছিনতাইয়ের মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছে অভয়নগরের নূরবাগ গ্রামের রাঙা মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন, শংকরপুরের মতিয়ার রহমানের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম, ও আতিয়ার রহমানের ছেলে মিলন। মনিরামপুরের শ্যামকুড় থেকে যশোরে কাজের খোঁজে আসা রাকিবুল ইসলাম নামে এক যুবককে কাজ দেয়ার নামে পৌর পার্কে নিয়ে এরা ছিনতাই সংঘঠিত করে।
এদিকে, গতকাল সন্ধ্যায় কুয়াদা বাজার থেকে আলোচিত ডাকাত আনিছুর রহমানকে আটক করে পুলিশ।
অভিযানের ব্যাপারে থানার অফিসার ইন্চার্জ আব্দুল জলিল জানান, পুলিশ দায়িত্বশীলভাবে অপরাধী আটকে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল অপরাধী চক্রের কয়েকজন আটক হয়েছে। অভিযানের খবর থানা থেকে আগাম দেয়ার বিষয়টির ব্যাপারে তিনি সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন বলেও জানান।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল -এর সকল খবর