

আসাদ বেহেস্তী
নিম্নের চাপ শেষে
লঘুচাপ আসছে,
তার চাপে কৃষকের
ফসলটা ভাসছে।
ভেসে যায় ঘর-বাড়ি
ভেসে যায় সম্বল,
রিলিফেতে মেলে রুটি
আর দু’টো কম্বল!
কাগজ সংবাদ : যশোর শহরের কলেজগুলোতে আবাসন সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব কলেজে প্রতিবছর দশ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী আবাসন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
যশোর সরকারি এম এম কলেজ, মহিলা, সিটি, সরকারি পলিটেকনিক, রাজ্জাক, মডেল পলিটেকনিক, ক্যান্টনমেন্ট কলেজে আবাসন সংকট বেড়েই চলেছে। আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কলেজের আবাসনের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
জানা যায়, দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী সরকারি এম এম কলেজে চারটি আবাসিক হলের ব্যবস্থা আছে। দুটো ছাত্রদের অপর দুটো ছাত্রীদের জন্য। বর্তমান কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪ হাজার। মোট চারটি হলে পাঁচশত শিক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতা আছে। বাকি ২৩ হাজার ৫শ’ শিক্ষার্থীর মধ্যে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে এবং অন্য শিক্ষার্থীরা মেসে থেকে পড়াশোনা করে। কলেজে আবাসন সংকটের কারণে শহরের মেসগুলোতে চাপ বাড়ছে। এতে করে মেস মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া মেটাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
যশোর মহিলা কলেজে দু’টি, সিটি কলেজে একটি, সরকারি পলিটেকনিক কলেজে একটি, এম এম কলেজে চারটি, ক্যান্টনমেন্ট কলেজে দু’টি হল আছে। এছাড়া শহরের আর কোন কলেজে আবাসনের ব্যবস্থা নেই।
এসব কলেজগুলোতে মোট ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। ভোগান্তির কারণ উল্লেখ করে এম এম কলেজ শিক্ষার্থী লিংকন পারভেজ জানান, মেসে থেকে অতিরিক্ত খরচ বহন করায় আমাদের অনেক ক্ষতি পোহাতে হচ্ছে।
মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী রিনি খাতুন জানান, কলেজে আবাসন সংকটের কারণে আমরা মেসে থাকি। এতে করে অতিরিক্ত খরচ বহন ছাড়াও অনেক নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়।
পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থী জনি আহম্মদ বলেন, আবাসন সংকটের জন্য আমাদের মেসে থাকতে হয় কিন্তু খরচ বহন করে শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব কিনা বলতে পারি না।
এম এম কলেজের আসাদ হল ও পুরাতন হল ছাত্রাবাসের হল সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রত্যেক বছর দু’শ আবেদন আমরা পাই কিন্তু হলে পর্যাপ্ত ছিট না থাকায় তাদের থাকতে দিতে পারি না।
সরকারি পলিটেকনিক হলের সুপার ওলিয়ার রহমান জানান, কলেজে তিন হাজার শিক্ষার্থী থাকা সত্বেও একটি মাত্র হলের ব্যবস্থা আছে কিন্তু সেখানে মাত্র ২শ’ ৪৬জন শিক্ষার্থী থাকতে পারে। যা শিক্ষার্থীদের জন্যে অপ্রতুল।
তিনি আরও জানান, কলেজে আরও একটি হল হওয়ার কথা ছিল তবে সেটা কবে হবে তা তার জানা নেই।

