http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
রক্ষা করতে জনগণের
জীবন এবং পণ্য,
মিছিল-মিটিং বন্ধ রবে
একটি মাসের জন্য।
গণতন্ত্রে আছে নাকি
এমন রেওয়াজ বেশতো,
জনমনে এসব কিছুর
থাকবে লেগে রেশতো!

খুলনার ৩ হাসপাতালে ১৫শ’ জনবল সংকট
    A+ A A-

কাজী শামীম আহমেদ, খুলনা ব্যুরো : জনবল সংকটের কারণে খুলনার স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কাঙ্খিত জনবল না থাকায় সাধারণ রোগীরা প্রয়োজনী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনবল সংকটের কথা খোদ স্বাস্থ্য বিভাগই স্বীকার করেছেন। খুলনা নগরীতে তিনটি হাসপাতালে ১৫০০ লোকবল সংকট রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
খুলনায় আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে বহির্বিভাগে প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগী দূরদূরান্ত থেকে হার্টের চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকটে তাদেরকে প্রত্যাশিত চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। চিকিৎসকরা জানালেন, মোটামুটি এখানে যে জনবল আছে তা’ দিয়ে গড়ে ৪ থেকে ৫ জন রোগীর এনজিওগ্রাম ও রিং পরানো সম্ভব। আর হাসপাতালে এ বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত শয্যা রয়েছে মাত্র ২৫টি। ফলে ইচ্ছা থাকলেও এখানে অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই হাসপাতালের প্রস্তাবিত ১২৪৩টি পদের বিপরীতে অনুমোদিত পদ মাত্র ২৭৯টি। এর মধ্যে ৩৯টি পদ আবার দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। পূর্ণাঙ্গভাবে এই হাসপাতালটি পরিচালনায় এখনো চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারী মিলিয়ে ৭৯৯ জনের প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা কম হওয়ায় হাসপাতালে স্বাস্থ'্য সেবার মানও সেই হারে কমার আশংকা থেকে যায়।
সূত্র অনুযায়ী, ৫শ শয্যার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য জনবল থাকার কথা সাড়ে ৮শ’। কিন্তু এখানে আছেন সাড়ে ৩শ’র মতো। বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগ মিলিয়ে কনসালটেন্ট, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার থাকার কথা দেড়শ জন। বর্তমানে আছে ৬০ থেকে ৬৫ জন। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ওয়ার্ড বয়, আয়া-পিয়ন থাকার কথা ৩শ’ জন, কিন্তু আছে ১০৯ জন। নার্স থাকার কথা ২৫০ জন, আছে ১৪৯। অফিসিয়াল স্টাফ ৪০ জনের জায়গায় আছেন ১০ থেকে ১২ জন। অফিস সহকারী ১৮ জনের মধ্যে আছেন ২ জন।
হাসপাতালের তত্তবাবধায়ক পরিতোষ কুমার কুন্ডু জানান, ১৮ ফেবরুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খুলনায় ২০ শয্যার অনুমোদিত বার্ন ইউনিটের জন্য ৫টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা দেয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। জনবল বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে বারবার চিঠি দেয়া হয়েছে। সশরীরে ঢাকায় গিয়েও চেষ্টা করেছেন চিকিৎসকদের অনেকে। কিন্তু সংকট মেটানো সম্ভব হয়নি।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল থাকার কথা ৪শ’ জন। কিন্তু এখানে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২৫৬টি। এর মধ্যেও শূন্য রয়েছে ৩৬ পদ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রথম শ্রেণীর পদ রয়েছে ৩৪টি। এর মধ্যে ৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। হাসপাতালে সার্জারী, ইএনটি, চক্ষু, ডেন্টাল, সার্জারী ও গাইনী বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এখনো সেই আগের জনবল দিয়েই হাসপাতালের কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সহকারী কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষক শাহিন মোল্লা জানান, জনবল সংকটে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু ক্রমেই তা দুরুহ হয়ে পড়ছে। বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণীর মাত্র ২৫ জন কর্মচারী দিয়ে ৭টি ওয়ার্ডের কাজ করানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আবু নাসের হাসপাতালের পরিচালক মনি মোহন সাহা বলেন, বিশেষায়িত এই হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও জনবল বাড়ানো হয়নি। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ১২৪৩টি পদ প্রস্তাব করা হলেও প্রাথমিকভাবে মাত্র ২৭৯টি পদ অনুমোদন দেয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউ, বার্ন, প্লাস্টিক সার্জারীসহ কয়েকটি ইউনিটের জন্য আরো ১৬৫ পদ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও প্রায় ৮শ পদ রয়ে গেছে শূন্য। ভুক্তভোগীদের মতে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স না থাকলে বড় বড় হাসপাতালে এসে লাভ কি। দিনের পর দিন প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে এক সময় সরকারি হাসপাতালের ওপর থেকেও ভরসা হারাবে মানুষ।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল -এর সকল খবর