

আসাদ বেহেস্তী
রক্ষা করতে জনগণের
জীবন এবং পণ্য,
মিছিল-মিটিং বন্ধ রবে
একটি মাসের জন্য।
গণতন্ত্রে আছে নাকি
এমন রেওয়াজ বেশতো,
জনমনে এসব কিছুর
থাকবে লেগে রেশতো!
কাগজ ডেস্ক : সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে হামলা করেছে এটিএন বাংলার সংবাদকর্মীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে পূর্বঘোষিত সমাবেশে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শুরু হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা অংশ নেন।
এতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্যে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের প্রসঙ্গ আনলে টেলিভিশন চ্যানেলটির সাংবাদিকরা তার ওপর হামলা চালান।
জাহাঙ্গীর আলমকে মারতে মারতে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শার্টের কলার ধরে ভেতরে নিয়ে যান এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি শওকত মিল্টন। এরপর প্রেসক্লাবের ভেতরে মিল্টনের সাথে যোগ দেন এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ জ ই মামুন, প্রধান বার্তা সম্পাদক ভানু রঞ্জন চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি মাহমুদুর রহমান, মানস ঘোষ ও আরেক রিপোর্টার রাহাত মিনহাজ।
এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুর নেতৃত্বে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
পরে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা ও প্রেসক্লাবের কর্মীরা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে হামলাকারী এটিএন বাংলার সাংবাদিকদের বের করে দেন।
এসময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, যারা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চায় না, তারা কিছু লোক লাগিয়ে হামলা করে সাংবাদিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘যারা সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে সংঘবন্ধ সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, আমরা মনে করি, তারা সাগর-রুনি হত্যাকারীদের সাথে আছে।’
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে যারা এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের পক্ষে অবস্থান নেবেন, তাদের পরিণতি কী হবে তা জানি না।
সোমবার অনুষ্ঠিতব্য মাহফুজুর রহমানের পক্ষে শিল্পীদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে কোনো সাংবাদিক অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবদুস শহীদ বলেন, ‘এটিএন বাংলার কর্মী বা মালিকরা আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। কিন্তু সাংবাদিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমরা এটিএন বাংলার কর্মীদের আহ্বান জানাব, আপনারা এটিএন বাংলার মালিকের পক্ষ না নিয়ে সাংবাদিক সমাজের পক্ষ নিন। সাংবাদিক সমাজের বিপক্ষে গেলে আপনাদের ডিইউজে, প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যপদ বাতিল করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাংবাদিক নেতারা মাহফুজুর রহমানের বিপক্ষে লাগেনি। বরং তিনিই বিতর্কিত কথা বলে সমস্যা তৈরি করেছেন।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা সাংবাদিকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যারা মাহফুজুর রহমানের হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছেন, প্রয়োজনে তাদের ডিআরইউর সদস্যপদ বাতিল করা হবে।’
হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটিএন বাংলার চাকরি আপনাদের শুরু বা শেষ নয়। আপনারা পুরো সাংবাদিক সমাজের স্রোতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন না।’
বাদশা বলেন, ‘মাহফুজুর রহমান কী ব্যবসা করে মিডিয়ার মালিক হয়েছেন তা আমরা জানি। তিনি যদি মনে করেন পুরো মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করবেন, তবে তার স্বপ্ন পূরণ হবে না।’
তিনি মাহফুজুর রহমানের উদ্দেশে বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের আন্দোলন থামানোর জন্য যে ক্যাডার আপনি মাঠে নামিয়েছেন, তা দিয়ে আমাদের আন্দোলন একদিনের জন্যও থামাতে পারবেন না।’
এদিকে, এটিএন বাংলা টেলিভিশনের খবরে দাবি করা হয়, প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের মানববন্ধনে সাগর-রুনি খুন সম্পর্কে অপপ্রচারের প্রতিবাদ করায় এটিএন বাংলার সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
সম্প্রতি এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান লন্ডনে এক সভায় বলেন, ‘সাগর-রুনি পরকীয়ার বলি’। সাগর-রুনির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তার কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান বিএফইউজের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজের মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি আবদুস শহিদ ও ওমর ফারুক, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন ও শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান প্রমুখ।

