

আসাদ বেহেস্তী
রাজনীতিতে মন্দা বাতাস
থমথমে সব কিছু,
একই কথার ঘ্যানর ঘ্যানর
ছাড়ছেনাতো পিছু!
একই গানের ভাঙ্গা রেকর্ড
বাজছে রোজই দেখি,
লম্বা ভাষণ শুনলে এখন
লাগছে শুধু মেকি!
কাগজ ডেস্ক : প্রতিবেশি মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান গণহত্যা ও একে কেন্দ্র করে দেশে নতুন শরণার্থী সংকটের আশঙ্কার জাতীয় ইস্যুতে এ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। তবে শুক্রবার দলটির সদ্য কারামুক্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য এ বিষয়ে কথা বলেছেন। রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে কোনো অনুষ্ঠানে নয়, অন্যান্য উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা। এতে দেখা গেছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা আরাকানে মানবিক সংকট ও বাংলাদেশে শরণার্থী সমস্যা বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন। কোনো ঐকমত্য নেই তাদের অবস্থানে এবং তারা ঠিক নিশ্চিতও নন যে, মিয়ানমারে আসলে কি ঘটছে।
এমন এক সময়ে মিয়ানমারে এ সহিংসতা হচ্ছে যখন দেশটির সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ‘বেসামরিক’ সরকার দাবি করছে, দেশটি ‘গণতন্ত্র ও সংস্কারের দিকে যাত্রা’ করেছে। চলমান রোহিঙ্গা বিরোধী সহিংসতায় আরো একটি নতুন মাত্রা হচ্ছে, দেশটি এখন পর্যন্ত যাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী’ হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করে রেখেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে- আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বের স্বীকৃতিহীন সেই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ই শুধু নয়- দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসী নানা জাতিগোষ্ঠির ইসলাম ধর্মালম্বী সংখ্যালঘুরাও এর শিকার। তাছাড়া সরকার এবং রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো একে স্রেফ ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’ বলে বর্ণনা করা হলেও এখন প্রমাণ মিলছে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী এতে সক্রিয়ভাবে সংখ্যালঘুদের দমনে অংশ নিয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন পর গত এপ্রিলে এত ব্যাপক মাত্রায় সহিংসতা নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলেও দেশটির সরকার ও সংবাদমাধ্যম তা আড়াল আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক বিবৃতিতে সরকারের পর্যবেক্ষণ জানিয়ে বলেছেন যে মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’। সহিংসতার পেছনে যে দেশটির দীর্ঘদিনের দমনমূলক নীতি দায়ী এবং সর্বশেষ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সম্পৃক্ত থাকার যেসব প্রমাণ সংবাদ মাধ্যমে এসেছে তা নাকচ করে দিয়ে মিয়ানমার সরকারের বরাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতে দেশটির সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, মিয়ানমারের এ অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে বাংলাদেশ যে নতুন করে শরণার্থীর স্রোত মোকাবিলা করছে, এ বিষয়ে দেশটিকে সতর্ক করে দিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার কোনো তৎপরতা চালায়নি। তাছাড়া, শরণার্থী গ্রহণ বিষয়ে সাফ না করে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সরকারের এ একাট্টা স্পষ্ট অবস্থানের বিপরীতে বিএনপি নেতাদের দেখা গেলো ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করতে। শুক্রবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে সদ্য কারামুক্ত বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সব সময় মানবতার পক্ষে। আমরা মনে করি, যখনই কোনো গোষ্ঠী, সমাজ বা মানুষ আরেকটি গোষ্ঠীর কাছে নির্যাতিত হয়, তখন তাকে সহযোগিতা করা মানবতার ধর্ম।’ এ সময় ‘মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান’ জানান তিনি।
তবে এর ঠিক উল্টো কথা বললেন দলটির অপর সিনিয়র নেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। শুক্রবার সকালে রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক পরিষদে’র একটি মানববন্ধনে ড. খান সরকারের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির ব্যর্থতার করণে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নতুন করে হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।’’ সংখ্যালঘুদের প্রতি মিয়ানমারের নীতির প্রতি বেখেয়াল ড. খান এ পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশের ‘সমুদ্র বিজয়ের উল্লাস’কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘সমুদ্র বিজয়ের উল্লাসের কারনে রোহিঙ্গাদের ঠেলে দিচ্ছে মিয়ানমার। হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাহলে আমাদের পূর্বাঞ্চলের সমাজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।’’ সাভার থেকে নির্বাচিত বিএনপির সাবেক একজন সাংসদের কারামুক্তির দাবিতে মানবন্ধনটি আয়োজন করা হয়।
একই সময় একই স্থানে ‘জিয়া ব্রিগেড’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তৃতার এক পর্যায়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া আরাকানের পরিস্থিতিকে ‘জাতিগত দাঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের ‘সাময়িকভাবে’ আশ্রয় দেয়া উচিত ‘কারণ সে দেশের মুসলিম জনগণ এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে’। দলের মহাসচিব ‘মানবতা’র ওপর জোর দিলেও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ‘মুসলিম জনগণ’ বিষয়টিকে জোর দিয়ে শুক্রবার বলেন, ‘‘পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি ভালো হলে রোহিঙ্গাদের সে দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে আলাচনা করা যেতে পারে।” ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল সহ বিএনপির কয়েকজন নেতার কারামুক্তির দাবিতে মানববন্ধনটি।

