http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

ব্যর্থতার দায়ভার কিছুটা কমল বাংলাদেশের
    A+ A A-

কাগজ ডেস্ক : বাংলাদেশের কাঁধ থেকে এবার ব্যর্থতার দায়ভার কিছুটা কমেছে। গতবারের চেয়ে এবার ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের সামান্য উন্নতি হয়েছে। ব্যর্থতার সূচক ২.২ পয়েন্ট কমে বাংলাদেশ এগিয়েছে চার ধাপ। তবে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা থেকে বের হতে পারেনি দেশটি।
গত সোমবার মার্কিন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফান্ড ফর পিস তাদের ওয়েবসাইটে এই তালিকা তৈরি করেছে। তালিকায় এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। ২০১১ সালে এ ক্ষেত্রে অবস্থান ছিল ২৫তম।
এ বছরও বিশ্বের ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় ১১৪.৯ পয়েন্ট নিয়ে গতবারের মতো সোমালিয়ার অবস্থান সবার শীর্ষে।
তালিকার ১৭৮টি দেশের মধ্যে ব্যর্থতার দিক দিয়ে দ্বিতীয় কঙ্গো, তৃতীয় সুদান ও দক্ষিণ সুদান, চতুর্থ চাদ, পঞ্চম জিম্বাবুয়ে, ষষ্ঠ আফগানিস্তান, সপ্তম হাইতি, অষ্টম ইয়েমেন, নবম ইরাক ও দশম স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র।
তালিকায় সূচকের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে কিরগিজস্তান। ৪.৪ পয়েন্ট কমে গিয়ে এ বছর দেশটির সূচক ৮৭.৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অবনতি লিবিয়ার। গত বছর দেশটির সূচক ছিল ৬৮.৭। আর এবার তা ১৬.২ পয়েন্ট বেড়ে ৮৪ দশমিক ৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থানের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে কিউবা। গত বছর দেশটির অবস্থান ছিল ৮৬তম। এ বছর তা ১০১। লিবিয়ার অবস্থান ছিল গত বছর ১১১তম। এ বছর তা ৫০তম।
সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ১২টি নির্ধারকের ওপর ভিত্তি করে ব্যর্থ রাষ্ট্রের এই তালিকা করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি সূচকের মান ১০ এবং এ হিসাবে ১২ সূচকে মোট স্কোরিং পয়েন্ট ১২০।
সূচকগুলো হচ্ছে জনসংখ্যার চাপ, শরণার্থী-সমস্যা, সামষ্টিক দুঃখ-দুর্দশা, মানুষের অবস্থান্তর, অসম উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক অবক্ষয়, সরকারের অবৈধতা, রাষ্ট্রপ্রদত্ত চাকরি-সুবিধা, মানবাধিকার, নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির উপস্থিতি, অভিজাতদের দলাদলি ও বাইরের হস্তক্ষেপ। সূচক অনুসারে সর্বোচ্চ মোট নম্বরপ্রাপ্ত দেশগুলোকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং সর্বোচ্চ নম্বরধারী ৬০টি দেশের তালিকা ‘ফরেন পলিসি’ সাময়িকীর বার্ষিক তালিকায় প্রকাশ করা হয়।
জনসংখ্যার চাপ, শরণার্থী বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট গুরুতর মানবিক বিপর্যয়, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া প্রতিহিংসা বা গোষ্ঠীগত দুঃখ-দুর্দশা ও অভিবাসন—এই চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক ক্ষেত্রের অবস্থা নির্ণয় করা হয়েছে।
দেশের ভেতরে অসম অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের অবস্থা নির্ণয় করা হয়েছে। রাজনৈতিক অবস্থা পরিমাপ করা হয়েছে রাষ্ট্রে অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি বা আইনের অভাব, জনপ্রশাসনের অবনতি, আইনের স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার ও মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন, নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, এলিট শ্রেণীর উত্থান এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে।