http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
বাজেট করতে পাশ
সংসদ বসছে,
এই নিয়ে কেউ কেউ
অংকটা কসছে!
অংকের মারপ্যাচে
পিষে যত যন্ত্র,
বাঁচবার মন্ত্রটা
যপে গণতন্ত্র!

মসজিদ নির্মাণে ১০ বস্তা সিমেন্ট দান এক ভিক্ষুকের!
    A+ A A-

কাগজ ডেস্ক : মসজিদ নির্মাণের জন্য চাঁদপুরে ১০ বস্তা সিমেন্ট দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খোরশেদ আলম (৫৫) নামে এক পঙ্গু ভিক্ষুক।

দীর্ঘদিন ভিক্ষা করে সঞ্চয় করা ৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনি গত ২৩ জুলাই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সংস্কার ও নির্মাণ কাজে ১০ বস্তা সিমেন্ট কিনে দিয়েছেন। খোরশেদের এই মহৎ উদ্যোগ দেখে এলাকার ধনি-গরিব সবাই হতবাক হয়ে গেছেন। তার এ উদ্যোগের পর থেকে এলাকার অনেক ধনি-গরিব ওই মসজিদে বিভিন্ন জিনিসপত্র দান করা শুরু করেছেন।

জানা গেছে, খোরশেদ আলমের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা তীরে অবস্থিত বাকরপুর গ্রামে। তবে ওই গ্রামটি এখন আর নেই। তিনি ওই গ্রামের মৃত আতিক উল্লাহর ছেলে। ২০-২২ বছর আগে মেঘনার করাল গ্রাসে তার গ্রামের বাড়ির ভিটেমাটি সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর কিছুদিন পর, খোরশেদের টায়ফয়েড হয়। এতে তার হাত ও পা অকেজো হয়ে যায়। সেই থেকেই তিনি বিকলাঙ্গ। এর কিছুদিন পর তার মা মারা যান। একের পর এক হারানোর ফলে বাবা আতিক উল্লাহসহ নিঃস্ব হয়ে পড়েন খোরশেদ।

একসময় তিনি বাবাকে নিয়ে চলে আসেন চাঁদপুর শহরে। সেখানে এসে বাবা ও ছেলে দুজনে মিলেই ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে পড়েন। এভাবেই চলতে থাকে তাদের দুজনের সংসার। এর কিছুদিন পর খোরশেদের বাবা মারা যান। আবারও একা হয়ে পড়েন তিনি।

সব কিছু হারিয়ে বেকায়দায় পড়ে যান খোরশেদ। কেউ খাওয়ালে খাওয়া হয়, গোসল করালে গোসল করা হয়, অন্যের সহায়তায় বাথরুমের কাজ সারা হয়। এভাবেই চলতে থাকে তার জীবন। এমনও হয়েছে যে, মাসে ১৫ দিনে একবার গোসল করা হয়েছে তার। তাও কোনো টোকাই পাওয়া গেলে টাকা-পয়সা দিয়ে এসব কাজ সারতে হয় তাকে। বর্তমানে এভাবেই চলছে তার জীবন।

মসজিদে সিমেন্ট দান করা সম্পর্কে জানতে চাইলে খোরশেদ বলেন, ‘আমি আমার জন্য নয়, আমার বাবার জন্য সিমেন্ট দান করেছি।‘

তিনি আরও বলেন, ‘বাবা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তাই, বাবা যাতে পরজগতে বেহস্ত পান, সে জন্য আল্লার রাস্তায় দান করলাম।’

তবে, এ খবর স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এখন আর কেউ খোরশেদকে টাকা দিতে চায় না বললেন খোরশেদ। এ জন্য গত কয়েকদিন ধরে আয় রোজগার কমে গেছে তার।

বর্তমানে খোরশেদ একটি ছোট ঠেলাগাড়ির ওপর বসে বিভিন্ন মসজিদের সামনে ভিক্ষা করছেন। রাত হলে চাঁদপুর শহরের চৌধুরী মসজিদ সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলের নিচে থাকেন তিনি।

এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ ম্যানেজার মো. আমির হুসাইন বলেন, ‘খোরশেদের এই দান দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে আমাদের সমাজের অনেক বিত্তবান আছেন, যারা খোরশেদ আলমের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারি।‘

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ খতিব, মুফতি আবদুর রউফ জানান, এ মসজিদ দান-খয়রাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সবার দানেই এ মসজিদ প্রতিষ্ঠিত আজ।