http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
নিম্নের চাপ শেষে
লঘুচাপ আসছে,
তার চাপে কৃষকের
ফসলটা ভাসছে।
ভেসে যায় ঘর-বাড়ি
ভেসে যায় সম্বল,
রিলিফেতে মেলে রুটি
আর দু’টো কম্বল!

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুশ অর্থায়নের চুক্তি ‘চূড়ান্ত’
    A+ A A-

কাগজ ডেস্ক : পাবনার রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অর্থায়ন নিয়ে মস্কো ও ঢাকার চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি গবেষণার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে কমপক্ষে চার শতাংশ সুদে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান শনিবার মস্কো থেকে ঢাকায় ফিরে বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কত খরচ হবে, তা নির্ধারণে কারিগরি গবেষণার জন্য আগামী দুই বছর এই ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। 

রূপপুরে ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যয়ও রাশিয়া দেবে বলে জানান তিনি।

এই পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থায়নের চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য গত ৪ অগাস্ট অর্থনৈতিক উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মস্কো সফরে যায়।

মশিউরের সঙ্গে ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ এবং অর্থ, পররাষ্ট্র ও আইণ মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন ও বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধিরা।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে কী পরিমাণ অর্থ লাগতে পারে- জানতে চাইলে মশিউর বলেন, “সাধারণ হিসাবে গতানুগতিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এক মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য ১ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। তবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এই খরচ আরো বেশি হবে।”

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য এই ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।

অর্থায়নের এই চুক্তি কবে সই হবে বা কারিগরি গবেষণা কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে উপদেষ্টা স্পষ্ট কিছু বলেননি।

“মন্ত্রণালয় তা ঠিক করবে। এ চুক্তি অন্য কোনো প্রকল্পের জন্য নয়, এটা এ প্রকল্পের জন্যই এবং তা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে করা হবে,” বলেন তিনি।

কারিগরি গবেষণা শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, সুদের হার এখনো ঠিক হয়নি, এটা বাজারের ওপর নির্ভর করবে।

বাজার-সংশ্লিষ্ট সুদের হার কত- তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে রাশিয়ার ধার করার ব্যয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

তবে তিনি বলেন, ৯০ এর দশকে বাংলাদেশ রাশিয়ার কাছ থেকে চার শতাংশ সুদে ঋণ নিয়েছিল। বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের সুদের হারের বিষয়ে বাংলাদেশ দেনদরবার করবে।

৫০ কোটি ডলারের এই ঋণ পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (এই সময়ে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হবে না) ১২ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে এবং চূড়ান্ত নির্মাণের ব্যয় ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

মশিউর বলেন, “যে কোনো অর্থায়নের চুক্তির ক্ষেত্রে সুদের হার নির্ধারণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরো এক দিন ধরে এ নিয়ে আলোচনা করতে হয়েছে।”

পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত রাশিয়া থেকে সর্বাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তির দিয়ে সরকার রূপপুরে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে, যার প্রতিটি উৎপাদন করবে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির মানের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।

তবে পরমাণু শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কম পড়ে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এর আগে বলেছিলেন, এই কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ দুই টাকার বেশি হবে না। কারণ এক গ্রাম ইউরেনিয়াম থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা উৎপাদন করতে তিন টন কয়লা বা আড়াই টন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে হয়।

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ খরচ বেশি হলেও চালু হওয়ার ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সেই খরচ তুলে আনা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

মশিউর বলেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন এবং সরকারের উচিত হবে পর্যায়ক্রমে দুটি কেন্দ্র নির্মাণ করা।

“আগের ব্যাপক আকারের অভিজ্ঞতা ছাড়া আপনি উচ্চ কারিগরি ও সূক্ষ্ম কার্যক্রমে যেতে পারেন না,” বলেন তিনি।

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যে কোনো দেশকে ৬২টি গবেষণা সম্পন্ন করতে হয় এবং বাংলাদেশ এর মধ্যেই কতগুলো গবেষণার কাজ শেষ করেছে বলে মশিউর জানান।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে গত নভেম্বরে পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা রোসাটমের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করে বাংলাদেশ।

ওই চুক্তি অনুয়ায়ী, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে রুশ সরকার এবং কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং ব্যবহৃত জ্বালানিও ফেরত নেবে তারা।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ হবে ৬০ বছর। পরে তা আরো ২০ বছর তা বাড়ানো যাবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকি প্রশমনের দিকে সরকারের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে জানিয়ে ইয়াফেস ওসমান বলেন, “আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগুচ্ছি। এটি এমনভাবে নির্মাণ করা হবে, যাতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি এক সঙ্গে আঘাত করলেও তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পরিকল্পনা হয় ১৯৬১ সালে। সে জন্য ২৬০ একর জমিও অধিগ্রহণ করা হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রকল্পটি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার এই প্রকল্প গতি পায়।