

আসাদ বেহেস্তী
আসছে বাজেট অধিবেশন
চলবে লম্বা ভাষণ,
তারই আগে জনগণে
খাবে নানান কষন,
প্রথম কষণ ব্যবসায়ীদের
কারণ ছাড়াই তারা,
দাম বাড়াবে নিত্য মালের
হিসাব-নিকাশ ছাড়া!
কাগজ ডেস্ক : দ্রুত বিচার আদালত-৫-এর কার্যক্রমে আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ওই আদালত গঠন কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালত থেকে বের হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, দ্রুত বিচার আদালত-৫-এর বিচারিক কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এ সময়ে ওই আদালতে গাড়ি পোড়ানো মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। ওই আদালত গঠন কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুলও জারি করেছেন। কাল (মঙ্গলবার) সাক্ষ্যগ্রহণ করা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না।’
আবেদনকারীর আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, হাইকোর্ট দ্রুত বিচার আদালত-৫-এর কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। এই আদালতে বিরোধী দলের নেতাদের মামলা বিচারাধীন। এর কার্যক্রম স্থগিত করায় এ মামলার বিচারকাজও স্থগিত থাকবে।
রিটের শুনানি
গত ২৯ জুলাই ওই মামলার আসামি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন রিট আবেদনটি করেন। রোববার সকালে আবেদনকারীর আইনজীবী জয়নুল আবেদিন আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক-উল হক ও আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ আদেশের জন্য সোমবার বেলা দুইটায় সময় নির্ধারণ করেন।
শুনানি গ্রহণে বিব্রত বিচারপতি
বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য তোলা হয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার ১২টায় শুনানির সময় নির্ধারণের আরজি জানান।
একপর্যায়ে বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ শুনানি গ্রহণে বিব্রত বোধ করলে আদালত বলেন, ‘আমাদের একজন বিব্রত বোধ করেছেন।’ অন্য আদালতে আবেদনটি নিয়ে যেতে পারবেন উল্লেখ করে আদালত আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।
পরে ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আবেদনকারীর আইনজীবী আবেদনটি বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চে নিয়ে যান।
আবেদনটি তুলে ধরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক-উল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও জরুটি বিষয়ে। শুনানি হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ এনে গত ২৯ এপ্রিল তেজগাঁও থানায় মামলা করে পুলিশ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮-দলীয় জোটের ৪৫ নেতার বিরুদ্ধে গত ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২৭ মে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বারকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার ৪৬ আসামির মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৩৯ জন জামিনে আছেন। চারজন পলাতক ও তিনজন কারাগারে আটক আছেন।
গত ৩১ জুলাই এ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮-দলীয় জোটের ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
রিট আবেদন
রিটে সরকার কর্তৃক গেজেট জারির পরিবর্তে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) দেওয়া আদেশের মাধ্যমে বিচারকের বিচারিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে দ্রুত বিচার আদালত-৭ গঠন এবং মামলার চলমান প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়। এতে আইনসচিব, মন্ত্রিপরিষদের সচিব, জনপ্রশাসন-সচিব, মুখ্য মহানগর হাকিম বিকাশ কুমার সাহা ও মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এরফান উল্লাহকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদন থেকে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৮(১) ধারা অনুযায়ী গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করবে সরকার। একই সঙ্গে ৮(২) অনুযায়ী সংশ্লি¬ষ্ট আদালতে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবে সরকার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইনের এ ধারা অনুসরণ না করে মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) গত ৯ মে এক আদেশ দিয়ে মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এরফান উল্লাহকে দ্রুত বিচার আদালত-৭-এর দায়িত্ব দিয়েছেন ও চারটি অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন, যা বেআইনি।

