http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
নিম্নের চাপ শেষে
লঘুচাপ আসছে,
তার চাপে কৃষকের
ফসলটা ভাসছে।
ভেসে যায় ঘর-বাড়ি
ভেসে যায় সম্বল,
রিলিফেতে মেলে রুটি
আর দু’টো কম্বল!

স্বাস্থ্য বিভাগে জাল সনদ দিয়ে চাকরিপ্রাপ্তদের এক বছর পার
মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ ছাড়াও মামলার প্রস্তুতি
    A+ A A-

স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়োগফয়সল ইসলাম : যশোর স্বাস্থ্য বিভাগে শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদপত্র দিয়ে চাকরিপ্রাপ্তরা ভালই আছেন। দু’মাস আগে তারা চাকরি জীবনের প্রথম বর্ষ পালন করেছেন। জাল সনদে চাকরি পেয়ে আনন্দে মেতে দ্বিতীয় বর্ষ পালনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা। জালিয়াতিকারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন নিশ্চিন্তে। জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলেও ব্যবস্থা নেয়ার ন্যূনতম উদ্যোগ না নেয়ায় অর্থ কেলেংকারির বিষয়টি এখন সর্বমহলে বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছে।
তবে সহজে ছাড় পাচ্ছেন না জালিয়াতিকারী চাকুরে ও তাদের নিয়োগকারী কর্মকর্তারা। শীঘ্রই বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ আকারে যাচ্ছে। আদালতে মামলারও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক সনদপত্র ও অন্যান্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ঘুষ না দেয়ায় চাকরি থেকে বঞ্চিতরা এমনই প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
গেল বছরের ২৭ এপ্রিল যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে ৫৭ জনকে চাকরি দেয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। কিন্তু তাতে মোটেও বিচলিত ছিলেন না নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা। চরম অনিয়মের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার বিষয়ে তদন্ত করে তথ্য প্রমাণসহ গ্রামের কাগজে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ হয়। গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করে সংবাদ গুলোর সত্যতা পেয়ে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্টও পেশ করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার তরুন কুমার সিকদারকে প্রত্যাহার করে নেয়।
তখন গ্রামের কাগজের অনুসন্ধানে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনে সংযুক্ত করা শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদপত্র দাখিল করা হয়েছে এমন দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়। নিয়োগ কর্মকর্তারা টাকার কাছে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে প্রকৃত মেধাবী ও সঠিক শিক্ষাগত যোগ্যতাধারীদের বাদ দিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন জাল সনদপত্র দাখিলকারীদের। জাল সনদপত্র দাখিলকৃতরা একেকজন সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ করে চাকরি পেয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোতে সরেজমিনে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এমনকি সরকারি চাকরিরত অবস্থায় বয়স জালিয়াতি করে পুনরায় সরকারি চাকরি পাওয়ার বিষয়েও দালিলিক প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রথম অবস্থায় খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও যশোরের সিভিল সার্জন শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্য পত্রিকায় প্রকাশও করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতায় তার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়নি।
যশোর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদধারী সরকারি চাকুরে বহাল তবিয়তে থাকার নেপথ্যে রয়েছে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন। তদন্ত করলে জালিয়াতিকারীদের চাকরি থাকবে না জেনে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার আশংকায় চুপ রয়েছেন তারা। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার একেএম আব্দুস সামাদ মিয়া নিয়োগ বোর্ডের আহবায়ক ও তৎকালীন সিভিল সার্জন ডাক্তার তরুন কুমার সিকদার সদস্য সচিব ছিলেন। তরুন কুমার যশোর থেকে প্রত্যাহার হলেও ডাক্তার একেএম আব্দুস সামাদ মিয়া খুলনাতেই কর্তরত আছেন। জালিয়াতকারীকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পরিচালক ব্যবস্থা নিতে পারতেন, এমনকি বর্তমান সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার আতিকুর রহমান খান। কিন্তু তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। ভাবটা এমন জালিয়াতিকারীদের তারা পালন করছেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার আতিকুর রহমানের কাছে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলে তিনি মানবিকতার কথা বলে জালিয়াতকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। অপরদিকে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডাক্তার একেএম আব্দুস সামাদ মিয়া বলেছেন সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জালিয়াতকারীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে কোন তথ্য জানানো হয়নি। ফলে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সিভিল সার্জন কার্যালয় সুপারিশ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।