আজ শনিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: এবার বিচারকের আসনে মালাইকা আরোরা       চোখ ও ঠোট দেখে চিনতে পারবেন সঙ্গীকে       শরীর সুস্থ রাখতে রোজ খান আমড়া       বিএনপি শুধু সমালোচনাই করছে: কাদের       ‘বিকারগ্রস্ত’ ট্রাম্পকে চড়া       ক্ষমা চাইলেন নেইমার       আখাউড়া যেন নিরাপদে লাশ ফেলার এক স্বর্গ       সরকার পঁচা চাল আমদানি করছে : রিজভী       ভারতের ছোঁড়া গুলিতে পাকিস্তানের ৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত       নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ততম দিন অতিবাহিত করছেন      
চালের মূল্যবৃদ্ধি:
সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে গেছে
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 14 September, 2017 at 3:00 PM
সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে গেছেদেশে চালের মূল্যবৃদ্ধিতে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে গেছে। গত মে থেকে আগস্টের মধ্যে চালের মূল্যবৃদ্ধির এ ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশে চালের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি বলেছে, গত তিন মাসে দেশে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। এই সময়ে দেশে খাদ্যের দাম, খাদ্যের সহজলভ্যতা ও খাদ্যের মান এই তিন ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। খাবার পাওয়ার সুযোগ কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।
গত মঙ্গলবার এফএও বিশ্বের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, গত এক মাসে বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, দামও কমেছে। বিশেষ করে চাল-গম বা দানাদার খাবারের দাম কমতির দিকে। তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের আটটি দেশের বাজারে প্রধান খাদ্য চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। সর্বশেষ চালের দাম নিয়ে একই ধরনের সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কাকে। প্রধান খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মারাত্মক ধরনের সতর্কবার্তা দেয়া হয় আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদান, নাইজার, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও বুরুন্ডিকে। এসব দেশের প্রধান খাদ্যের দাম অভ্যন্তরীণ বাজারে উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশে চালের দাম নিয়ে এফএওর এই উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, চাল নিয়ে এফএও যে সতর্কবার্তা দিয়েছে, পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ। সরকারি চালের মজুত সময়মতো বাড়ানো হয়নি। এরপর হাওর ও বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। এখন সাত লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তিন বেলা নিয়মিত খাবার দিতে হবে। সেই চালের জোগাড় এখন থেকেই করতে হবে। নয়তো সামনে আরও অনেক বিপদ অপেক্ষা করছে। এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চালের দাম বেড়েছে মূলত গত বোরো মৌসুমে বন্যার পর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে। পরে দুই দফা বন্যায় ধানের উৎপাদন আরেক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত টানা চালের দাম বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ সরকার চালের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দুই দফায় চালের শুল্ক কমিয়ে দেয়। এতে বেসরকারি খাতে চালের আমদানি কিছুটা বেড়ে গিয়ে দাম কমতে থাকে। সরকার চালের আমদানি শুরু করায় বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাবও পড়ে।
গত মঙ্গলবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য বিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি চালের দাম আবারও ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে তা ছিল ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা। আরেক সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে মোটা চালের দাম পৌনে ৬ শতাংশ বেড়ে ৪৮ টাকা কেজি এবং সরু চালের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার বলছে, ‘আমরা চলতি মাসের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলা, প্রধান শহর ও শিল্পাঞ্চলে ১৫ টাকা কেজি দরে খোলাবাজারে চাল বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছি। একই সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের ৫০ লাখ মানুষকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছি। সরকারি মজুত বাড়াতে বিদেশ থেকে চাল আমদানির সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি এসব উদ্যোগের পর চালের দাম দ্রুত কমে যাবে।
অবশ্য এখনো পর্যন্ত দেশে চালের মজুত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সরকারি গুদামে চালের মজুত দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে ওই মজুতের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৯ হাজার ৫৫ টন। গত তিন মাসে সরকারি গুদাম থেকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৯০ হাজার টন চাল বিতরণ করা হয়। গত বছরের একই সময়ে ৩ লাখ টনের ওপরে চাল বিতরণ করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জেলায় জেলায় ব্যবসায়ীদের চালের গুদামে হানা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দাম নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা চলছে, তা আত্মঘাতী হবে। দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে বেশি করে চাল বিক্রি করে, সে জন্য তাঁদের উৎসাহিত করা দরকার। আর সরকারের কাজ হবে সরকারি চালের মজুত বাড়িয়ে গরিব মানুষের জন্য অল্প দামে চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা। এভাবে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ালেই দাম কমবে। এর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্য বিশেষজ্ঞরা।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft