আজ শনিবার, ১৬ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: দরিদ্র জনগেষ্ঠিকে আইনের মারপ্যাচে আর কেউ ঠকাতে পারবেনা        কেশবপুরে ক্রীড়া সংস্থার সেমিনার হল উদ্বোধন        লাখো শিক্ষার্থীর হাতে আলোর মশাল জ্বালানো সফি স্যার আর নেই        বিভিন্ন স্থানে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন        নড়াইলের বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন !       যশোর পৌর শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত       জনভোগান্তির আরেক নাম মহম্মদপুর বাসস্টান্ড       সরকার যখন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন অব্যাহত রেখেছে তখন একটি মহল ষড়যন্ত্র করে চলেছে : এমপি নাবিল       সালমান-ক্যাট নিয়ে আবারো উত্তপ্ত সিনে-দুনিয়া       গ্যাস্ট্রিক এবং ক্যান্সারের প্রকোপ কমাতে বাদাম      
আদালতের নির্দেশনা কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
স্পষ্টাক্ষরে ওষুধের নাম ও সেবনবিধি উল্লেখ করছেন না ডাক্তাররা : ভোগান্তিতে মানুষ
ফয়সল ইসলাম :
Published : Friday, 21 April, 2017 at 12:07 AM
স্পষ্টাক্ষরে ওষুধের নাম ও সেবনবিধি উল্লেখ করছেন না ডাক্তাররা : ভোগান্তিতে মানুষরোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশনে) বড় হরফে স্পষ্টভাবে ওষুধের নাম লেখাসহ সেবনবিধি উল্লেখ করার নির্দেশনা থাকলেও যশোরের ডাক্তাররা তা মানছেন না। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করা ডাক্তাররা গতানুগতিক পন্থায় অস্পষ্ট অক্ষরে ওষুধের নাম লিখছেন। একই সাথে ওষুধ সেবনের যে নিয়ম-কানুন লিখছেন তা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের পক্ষে বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এমনকি ফার্মেসির অভিজ্ঞ লোকজনও ওষুধের নাম ও সেবন বিধি অনুমান করতে করতে হিমশিম খাচ্ছেন। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া দু’রোগীর চিকিৎসাপত্রে ওষুধের নাম ও সেবনবিধি অস্পষ্টভাবে লেখার প্রমাণ গ্রামের কাগজ দপ্তরে সংরক্ষিত আছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেয়া সকল ডাক্তারকে বড় হরফে স্পষ্টভাবে ওষুধের নাম লেখাসহ সেবনবিধি উল্লেখ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩০ দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা মেনে বিএমডিসি দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করেছে। একই সাথে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিএমডিসি’র ওয়েব সাইটে গত ৭ মার্চ দেয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রোগীর জন্য ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশন) লেখা সহজবোধ্য করতে তা স্পষ্টভাবে এবং বড় হরফে (Capital Letter) লেখার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এর প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধিত চিকিৎসকগণের প্রতি এ নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর হতে তারা যেন সব সময় তাদের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের নাম স্পষ্টাক্ষরে (Capital Letter) লেখেন এবং ওষুধের ব্যবহার বিধি স্পষ্ট ও বোধগম্যভাবে লিপিবদ্ধ করেন।
বিজ্ঞপ্তিটি যশোর হাসপাতালে পৌঁছেছে এবং কর্তৃপক্ষ সকল ডাক্তারকে নির্দেশনার বিষয়টি অবহিত করেছেন। কিন্তু ডাক্তার চলছেন নিজেদের খেয়াল খুঁশি মতো।
গত ১৭ এপ্রিল যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসা করানোর যান জুবায়ের নামে এক যুবক। বহিঃর্বিভাগ থেকে টিকিট সংগ্রহের পর তাকে ১১৪ নম্বর কক্ষে যাওয়ার জন্যে বলা হয়। সেখানকার ডাক্তার জুবায়েরর চিকিৎসাপত্রে কি ওষুধের নাম লিখেছেন এবং তা সেবনের নিয়ম কি তা কোনভাবেই বোঝা সম্ভব নয়। অস্পষ্ট লেখা চিকিৎসাপত্র নিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হন। তিনি ফের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে ডাক্তারের কক্ষে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
একই দিন মমতাজ নামে এক রোগী টিকিট সংগ্রহ করে বহিঃর্বিভাগের ১৪ নম্বর কক্ষে ডাক্তারের কাছে যান। ওই কক্ষের ডাক্তারও চিকিৎসাপত্রে যা লিখেছেন তা অস্পষ্ট। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে ডাক্তারের সাক্ষাত পেয়ে যে চিকিৎসা পেলেন তা নিয়ে ফার্মেসিতে গিয়ে কোন ওষুধ কিনতে পারেননি তিনি।
হাসপাতালের একাধিক ডাক্তার বলেন, ‘বহিঃর্বিভাগে প্রতিদিন একজন ডাক্তার ৭০ থেকে ৮০ জন রোগীকে সেবা দেন। কোন কোন দিন ১০০ রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখতে হয়। বিপুল সংখ্যক রোগীর ব্যবস্থাপত্র উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইংরেজি বড় হরফে লেখা সম্ভব নয়। সেটা করতে গেলে নির্ধারিত সময়ে সর্বোচ্চ ৩৫ জন রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা সম্ভব। কিন্তু হাসপাতালে রোগী প্রচুর চাপ থাকে। এজন্য অনেক সময় ইচ্ছা থাকার পরও নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে ব্যবস্থাপত্র লেখা সম্ভব হচ্ছে না।’
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম বেনু জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ ডাক্তারদের প্রতি যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের জন্যে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। চেষ্টা চলছে। তবে কি ক্ষেত্রে হয়তো সমস্যা হচ্ছে। সকল ডাক্তার সচেতনভাবে ব্যবস্থাপত্রে স্পষ্টাক্ষরে ওষুধের নাম ও সেবনবিধি উল্লেখ করবেন তার জন্যে কর্তৃপক্ষ আরো উদ্যোগী হবেন।  




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft