আজ মঙ্গলবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৮ মার্চ ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: বেড়েছে যক্ষ্মা রোগী!       বিএনপি আলবদরের দোসর : প্রধানমন্ত্রী       ক্ষমতায় যেতে জাতীয় ছাত্র সমাজকে চান এরশাদ       নওগাঁর রাণীনগরে প্রথম মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিন বিতরন       টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়াতে যা করবেন       ৩১ শে মার্চ সুন্দরবনে ‘ইত্যাদি’        ‘কলা রত্ন’ পুরস্কার পেয়েছেন অনুপম খের       এইডস প্রতিরোধে আইফোন ৭       ঘূর্ণিঝড় ডেবি: নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন অস্ট্রেলীয়রা       ৩০ মার্চ এফবিসিসিআই’র নির্বাচন স্থগিত নিয়ে শুনানি       
যশোরে পুলিশ হেফাজতে যুবককে নির্যাতনের ছবি নিয়ে তোলপাড়
ঘটনা তদন্ত দুই সদস্যের কমিটি গঠন, থানায় সাংবাদিক ও জনসাধরণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত
কাগজ সংবাদ :
Published : Saturday, 7 January, 2017 at 12:52 AM
যশোরে পুলিশ হেফাজতে যুবককে নির্যাতনের ছবি নিয়ে তোলপাড়যশোরে আবু সাঈদ নামে এক যুবককে আটকের পর থানায় উল্টো করে ঝুলিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘুষ হিসেবে দাবি করা টাকা না দেয়ায় গত বুধবার তাকে এ নির্যাতন চালানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন তথ্য উঠে আসলেও বর্তমানে তা অস্বীকার করছেন ওই যুবক ও তার স্বজনরা। তবে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন পুলিশ সাঈদকে আটক করে নিয়ে যায় এবং টাকা দিয়ে সে মুক্তি পেয়েছে বলে তারা শুনেছেন। এদিকে, দেশব্যাপী সমালোচনা ও তোলপাড়ের প্রেক্ষাপটে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি যশোর কোতোয়ালী থানায় সাংবাদিক ও জনসাধারণের প্রবেশ নিয়স্ত্রিত করা হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের কলেজপাড়ার নূরুল হকের ছেলে আবু সাঈদ। তাকে গত বুধবা রাত  সাড়ে ৯টার দিকে তালবাড়িয়া কলেজপাড়া থেকে আটক করে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। ওই টিমে ছিলেন কোতেয়ালী থানার কথিত সিভিল টিমের সদস্য এসআই নাজমুল ও এএসআই হাদিকুর রহমান। পরে তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই অফিসার। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে থানার মধ্যে দুই টেবিলের মাঝে বাস দিয়ে উল্টো করে ঝুঁলিয়ে পেটানো হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সে ওই রাতেই ছাড়া পায়। এমন তথ্য দিয়ে সাঈদকে মারপিটের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে ভাইরাল হয়। এরপর এনিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ছবির ব্যক্তিটির মুখমন্ডল দেখা না যাওয়ায় গতকাল তালবাড়িয়া গ্রামে সরেজমিনে খোঁজখবর নেয়া হয়। এসময় স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছেলেটি মাঝে মধ্যে নেশা করলেও এলাকায় তার নামে বড় ধরণের কোন দুর্নাম নেই। তবে পুলিশের নির্যাতন ও বাণিজ্য বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান ও কামরুল ইসলাম জানান, তাদের দেখা অনুযায়ী সাঈদ বেশ ভাল প্রকৃতির ছেলে। সে একটু-আধটু নেশা করে; তবে মাদকের ব্যবসা করে কি না তা তাদের জানা নেই। কথা হয় এই ওয়ার্ডের (৯ নম্বর ওয়ার্ড, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন) ইউপি সদস্য আসমত আলী চাকলাদারের সাথে। তিনি বলেন, আমি শুনেছি বুধবার রাতে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। ৪৯ কিংবা ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সে ছাড়া পেয়েছে। তিনি জানান, সাঈদের বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। আগে সে ফেনসিডিল ব্যবসা করতো বলে তার কাছে অভিযোগ রয়েছে। তবে, ফেসবুকে উল্টো করে যে যুবকের ছবি দেয়া হয়েছে-সেটি সাঈদের বলে তিনিসহ বাজারের কয়েকজন শনাক্ত করেন।
অবশ্য এ বিষয়ে সাঈদের বড়ভাই আতিয়ার রহমান বলেন, বুধবার রাতে পুলিশ সাঈদকে ধরে নিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ কোনও টাকা পয়সা নেয়নি কিংবা তাকে মারধরও করেনি। একই কথা বলেন সাঈদের স্ত্রী বিলকিস খাতুন ও ছোটভাই আশিকুর রহমান। আশিকুর রহমান জানান, ফেসবুকে যে ছবি দেখা যাচ্ছে-সেটা তার ভাইয়ের না।
এদিকে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে আবু সাঈদ তার স্ত্রী ও ভাইদের নিয়ে প্রেসক্লাব যশোরে আসেন। এসময় তিনি বলেন, বুধবার রাতে এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে থানায় নিয়ে আমি দুই নাম্বার ব্যবসা করি কি না জানতে চায়। আমি তো ওই সব দুই নাম্বারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। সেকারণে পরদিন রাত ৮টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়। আমাকে কোনও টর্চার করেনি পুলিশ।
তিনি আরো জানান, ভাইরাল হয়ে যাওয়া ছবিটা তার নয়। এ বিষয়ে প্রমাণস্বরূপ তিনি তার হাত এবং পশ্চাৎদেশ সাংবাদিকদের দেখান।  তিনি বলেন, ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি শারীরিকভাবে আমার চেয়ে মোটা। আর সেদিন রাতে আমাকে পুলিশ লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় আটক করে। তাছাড়া ওই ধরনের জিন্স বা টি শার্ট তার নেই।
এরপরই বেলা দেড়টার দিকে প্রেসক্লাবে আসেন কোতয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে তালবাড়িয়ার আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান মহোদয় ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। তিনি এই ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ মো. আবু সরোয়ারকে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি (এসপি মহোদয়) প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি ও সম্পাদককে অনুরোধ করেছেন ছবিটি যদি সত্য না হয় তাহলে যে বা যারা এই ছবি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন- তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে।
এদিকে মারপিটের ছবি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের কারণে যশোর কোতোয়ালী থানায় সাংবাদিক ও জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। আকস্মিকভাবে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিক থেকে এ নিয়ন্ত্রণ চলছে। থানার প্রধান ফটকে আটকে দিয়ে তার পাশে একজন সাব ইন্সপেক্টারকে বসিয়ে পাশ দেয়া শুরু হয়েছে। সেখানে নাম পরিচয় ও আসার কারণ উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নিতে হচ্ছে। আর সাংবাদিকদের বলা হচ্ছে উপরের অনুমতি ছাড়া কোনভাবে প্রবেশ করা যাবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, নিয়মানুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এখানে অন্যকোন ইনটেনশন নেই।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft