শিরোনাম: নড়াইলের ফ্যামিলি কেয়ারে আবারো অপচিকিৎসা       যমেক হাসপাতালের ব্লাডব্যাংকে চাঁদাবাজি সুজন সিন্ডিকেটের        মঙ্গলবার যশোরে ডাক্তারসহ ২৩ জনের করোনা শনাক্ত       যশোরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সভা       স্রষ্টা ভাবনা        নুরজাহান ইসলাম নীরা মনোনয়ন পাওয়ায় কেশবপুরে শুভেচ্ছা মিছিল       করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নাছিমের রোগমুক্তি কামনা       শার্শার বাগআঁচড়া বাজারে দুই কারেন্টজাল বিক্রেতাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা       মাগুরায় ৫ হাজার তালবীজ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন       বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে রাণীনগরে যুবদলের আলোচনা সভা       
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩ খুন
তদন্ত শেষ পর্যায়ে, ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তা ও ৮ কিশোরই সংশ্লিষ্ট
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Tuesday, 15 September, 2020 at 11:51 PM, Update: 16.09.2020 6:47:47 PM
তদন্ত শেষ পর্যায়ে, ঘটনায় পাঁচ
কর্মকর্তা ও ৮ কিশোরই সংশ্লিষ্টযশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিমর্মতা চালিয়ে ৩ কিশোর খুনের ঘটনায় মাসাধিককাল তদন্ত করে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে পুলিশ। হত্যাকান্ড ও আহতের ঘটনায় আটক ৫ কর্মকর্তা ও শ্যোন আরেস্ট থাকা ৮ কিশোরই জড়িত বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।
বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত কার্যক্রমের সময় পাওয়া তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরিস্কার হওয়া গেছে, হত্যায় ওই ১৩ জনই সংশ্লিষ্ট। আরো কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর চার্জশিট প্রক্রিয়ার দিকে এগুবেন তিনি।
১৩ আগস্ট দুপুরে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিকল্পিত মারপিটে খুন হয় বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্ব পাড়ার নান্নু পরামানিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্¦রপাশা সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮) ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুরের নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল হোসেন ওরফে সুজন (১৮)। একই ঘটনায় আহত হয় নোয়াখালী চাটখিল উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে জাবেদ হোসেন (১৭), বগুড়া গুরবিষা গ্রামের বিল্লালের ছেলে সাব্বির (১৬), নাটোরের গুরুদাসপুরের বিলছা গ্রামের মিলন ভক্তির ছেলে সাকিব হাসান (১৬), গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ঘোষগাতি গ্রামের রিজু ফকিরের ছেলে নাইম খান (১৬), খুলনা সোনাডাঙ্গার জহির আহম্মেদের ছেলে সাব্বির হোসেন (১৭), যশোর লোন অফিসপাড়ার কাঠেরপুল এলাকার আলমাসের ছেলে সাকিব, চুয়াডাঙ্গা জেলার দৌলতদিয়া গ্রামের ইসতিয়ার হোসেনের ছেলে পাভেল (১৬), বাগেরহাট চিতলমারী চরপাড়া আড়–য়াবন্নী গ্রামের হাসমত খানের ছেলে লিমন খান (১৭), লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামের স্টেশন পাড়ার মফিজুর হকের ছেলে মোস্তফা কামাল হৃদয়, যশোর ঘোপ জেল রোডের রনির ছেলে হৃদয় (১৭), ধর্মতলা এলাকার আসাদুজ্জামানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহিম (১৭), খুলনা সোনাডাঙ্গা এলাকার মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকির ছেলে আরমান খলিফা (১৬), গোপালগঞ্জ মোকছেদপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম পলাশ (১৭), বগুড়া শাহাজান পুরের সোজাবাদ গ্রামের সোহেল রানার ছেলে সাইফুল ইসলাম রুপক (১৬) ও বসুন্দিয়া জগনাথপুর পশ্চিমপাড়ার ফারুখ শেখের ছেলে ঈশান শেখ (১৭)।
নিহত পারভেজের বাবা রোকা মিয়া ১৪ আগস্ট রাতে থানায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারী ও অজ্ঞাত কয়েক বন্দীকে আসামি করে মামলা করলে পুলিশ এডি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী তত্ত¡াবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর (প্রবেশন অফিসার) মুশফিকুর রহমান, শরীর চর্চা শিক্ষক ওমর ফারুক ও কারিগরি শিক্ষক শাহানুর আলমকে আটক করে। ১৫ আগস্ট তাদের চালান দেয়া হয় ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে। ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে এডি আব্দুল¬াহ আল মাসুদ, প্রবেশন অফিসার মাসুম বিল¬াহ, সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলার মুশফিকুর রহমানের ৫ দিন ও  কারিগরি প্রশিক্ষক (ওয়েল্ডিং) ওমর ফারুক ও ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর শাহানুর আলমের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ডে আনা ৫ অফিসারকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এদিকে নির্যাতনের ওই ঘটনায় অফিসাররা বন্দী ৮ কিশোরকে ব্যবহার করে তথ্য পেয়ে নাটোর সদর উপজেলার কামারদিয়া গ্রামের কামাল জোয়ার্দারের ছেলে মোহাম্মদ আলী (১৭), নাটরের জোড়মল্লিক উপজেলার সিংড়ার মোক্তার হোসেনের ছেলে হুমাইদ (১৫), কুড়িগ্রামের চাপুভেলাকপার রফিকুল ইসলামের ছেলে রিফাত (১৫), পাবনা বেড়া উপজেলার স্যানাপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মনোয়ার হোসেন (১৪), রাজশাহীর মতিহার উপজেলার কাজলা গ্রামের তজিবরের ছেলে পলাশ ওরফে শিমুল পলাশ (১৮), গাইবান্ধা সদর উপজেলার জোদ্দকড়ি সিং গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে খালিদুর রহমান তুহিন (১৭), পাবনার বেড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ইমরান (১৫), আনিসকে (১৮) শ্যোন অ্যারেস্ট করে পুলিশ। তাদেরকেও শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ৫ কর্মকর্তা ও ৮ কিশোর তথ্য প্রদান করে। এরপর আহত ১৫ কিশোরকেও ৩ জন ৩ জন করে ৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযুক্ত দু’গ্রæপ ও স্বাক্ষী হিসেবে আহত ১৫ বন্দী কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী তানভীর হোসেন, বাবুল হোসেন, মোসলেহ উদ্দিন, জাহাঙ্গির আলম, রকিবুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা আরও কয়েকটি উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য মেলান তদন্ত কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে গত এক মাসের তদন্তে তিনি পরিস্কার হয়েছেন, ওই হত্যাকান্ডে ৫ কর্মকর্তাই জড়িত। এছাড়া তাদের উস্কানিতে মারপিটে অংশ নিয়েছিল ওই ৮ কিশোর বন্দী।  
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা যশোর চাঁচড়া ফাঁড়্ ইিনচার্জ ইন্সপেক্টর রোকিবুজ্জামান গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম একেবারে শেষ পর্যায়ে। হত্যাকান্ড ও আহতের ঘটনায় ৫ কর্মকর্তা ও বন্দী ৮ কিশোরের সংশ্লিষ্টতা এখন পরিস্কার। আরো কয়েক স্বাক্ষীর সাথে কথা বলবেন তিনি। তদন্ত শেষ পর্যায়ে আসায় এখন চার্জশিট প্রক্রিয়ার দিকে এগুচ্ছেন তিনি। জড়িত অফিসাররা কেউই ছাড় পাবে না।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]om
Design and Developed by i2soft