শিরোনাম: সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ       বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এল জুলাইয়ে       ইতালিতে প্রবেশের অপেক্ষায় হাজারও বাংলাদেশি       স্বামীর বাড়ি গিয়ে নববধূ জানলেন তার করোনা       যশোরের আসলাম ঢাকার মানবিক যুবলীগ নেতা        রাত ১০টার পর বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ       মানুষের মন জয় করে বিদায় নিচ্ছেন রামগড়ের ইউএনও বদরুদ্দোজা       কেশবপুরে দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়, নিহত ১       বাগেরহাটে করোনায় আক্রান্ত আরও ২৬ জন        জয়পুরহাটে ফেন্সিডিলসহ ২ মাদক কারবারি আটক      
প্রধান কারারক্ষীসহ ৭ জন শনাক্ত, বন্দিদের ৭টি আইসোলেশন ওয়ার্ড
যশোর কারাগারে করোনা আতঙ্ক
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Thursday, 16 July, 2020 at 1:33 AM
যশোর কারাগারে করোনা আতঙ্ককরোনা মহামারিতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ভয়াবহ আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ প্রায় দু’হাজার বন্দি। এ কারণে কারা অভ্যন্তরে বন্দীদের জন্য নতুন ৭টি আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান কারারক্ষীসহ ৭ জন রক্ষীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে তারা স্টাফ কোয়ার্টারে লকডাউনে রয়েছেন। সতর্কতামূলক নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেও তারা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাননি। এ নিয়ে চিন্তিত সময় পার করছেন কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, গত চার মাস আগে ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ও ১৮ মার্চ এ রোগে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে যশোর কারাগার কর্তৃপক্ষ গোটা ক্যাম্পাসে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তারপরও তাদের এ ভাইরাস থেকে মুক্তি মেলেনি। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ কারাগার ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রধান ফটকে থার্মাল স্ক্যানার মেশিন দিয়ে আগতদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন। হাত ধোঁয়ার বিশেষ ব্যবস্থা ও গোটা ক্যাম্পাস ব্লিচিং পাউডার পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করছেন। একই ব্যবস্থা করা হয়েছে কারা অভ্যন্তরে প্রবেশের প্রধান ফটকেও। এখানে নতুন আসা আসামি ও ডিউটিতে ঢোকা কারারক্ষীর থার্মাল স্ক্যানার মেশিন দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখানে যদি কারো শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা ধরা পড়ে, তবে সেইসব কারারক্ষীর ভেতরে ডিউটিতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া তাপমাত্রা বেশি হলে আসামিদের আইসোলেশন ওয়ার্ড বা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। একইসাথে প্রতিদিন যে সব আসামি পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে, তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠানোর পর কারা অভ্যন্তরে ৭টি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৪ দিন রাখা হচ্ছে। এরপর তাদেরকে জেনারেল ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। এতোকিছুর পরও করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপদে থাকতে পারেননি কারাগার কর্তৃপক্ষ। কারা অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে ভয়াবহ করোনাভাইরাস। এ কারণে কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বর্তমানে আতঙ্কিত সময় পার করছেন।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বুধবার পর্যন্ত এক হাজার ৩১৬ জন আসামি রয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ২৫৬ জন ও নারী ৬০ জন। এসব বন্দির মধ্যে হাজতি ৭২০ জন ও কয়েদী ৫৯৬ জন। নারী বন্দির মধ্যে ৩৪ জন হাজতী ও ২৬ জন কয়েদী। কারা অভ্যন্তরে ৩৯টি বিভিন্ন সেল বা ওয়ার্ডে এরা আটক রয়েছে। এসব বন্দির দেখভাল বা আটক রাখার দায়িত্বে রয়েছেন কারাগারের ৫৩৮ জন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ হিসেবে বর্তমান করোনা দুর্যোগে আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে কারা স্টাফসহ এক হাজার ৮৫৪ জন বন্দি।
সূত্র জানায়, যশোর কারাগারে এখন পর্যন্ত কোন বন্দি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। তবে ইতিমধ্যে ৭ জন কারারক্ষী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জন প্রধান কারারক্ষী, একজন সহকারী প্রধান কারারক্ষী ও বাকি ৪ জন কারারক্ষী। কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বর্তমানে তারা নিজেদের স্টাফ কোয়ার্টারে লকডাউনে রয়েছেন। তারা ডিউটি করছেন না বা বাইরে বের হচ্ছেন না। নিরাপত্তা বেষ্টিত স্থানে করোনা হানা দেয়ায় কারা স্টাফের গোটা ৫৩৮টি পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কিভাবে তারা, পরিবারের সদস্য ও বন্দিদের বাঁচাবেন তা নিয়ে বর্তমানে কর্মকর্তারা চিন্তিত সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু এর কোন সমাধান তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে করোনা পরিস্থিতির শুরুতেই কারা কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের সাথে সাক্ষাত করে বেশি সংখ্যক আসামি আটক করে জেলখানায় না পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, যে অপরাধী না ধরলেই নয়, তাদেরকে আটক করা হোক। নতুবা পুলিশ গড়ে আসামি ধরে জেলখালায় পাঠালে তারা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না। এ অবস্থায় গড়ে আসামি আটক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এসব বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর তুহিন কান্তি খান বলেন, কারা অভ্যন্তরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তারা সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। প্রতিটি মানুষের তাপমাত্রা মেপে ও স্যানিটাইজড করে ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এরপর কারা অভ্যন্তরে ডিউটিতে পাঠানো রক্ষীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চালু করা হয়েছে। যাতে বন্দীসহ স্টাফরা পরিবার নিয়ে করোনামুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারেন। এছাড়া নতুন আগত আসামির জন্য ৭টি আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। কিন্তু এতোকিছুর পরও প্রধান কারারক্ষীসহ ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা বাড়িতে লকডাউনে আছেন। যা তাদেরকে সাময়িকভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে তারা প্রতিদিনই নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন বলে তিনি জানান।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft