শিরোনাম: সপ্তাহে দুইদিন স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রচারের আহ্বান কাদেরের       পুলিশি বাধায় কর্মী ছাড়াই কোকোর কবর জিয়ারত       সিনহা নিহতের মামলায় চার পুলিশসহ সাতজন ৭ দিনের রিমান্ডে       মানবতাবিরোধী অপরাধ: পলাতক চারজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন চূড়ান্ত       উত্তেজনা বাড়িয়ে গ্রিস উপকূলে সামরিক মহড়া চালাল তুরস্ক       রুমিন ফারহানা করোনায় আক্রান্ত       দমদম বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি       ভারতে হামলা চালাতে সীমান্তে চীনের যুদ্ধবিমান       এখনই ডিপিএল শুরু করা সম্ভব নয় : পাপন       নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি প্রকাশ্যে      
৮টি বাওড়ের কোটি টাকার মাছ বাজারে তুলতে না পারলে পথে বসবে জেলেরা
জীবিকা হারাচ্ছে হাজার মৎস্যজীবী পরিবার
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Wednesday, 15 July, 2020 at 12:49 AM

জীবিকা হারাচ্ছে হাজার মৎস্যজীবী পরিবারজীবিকা হারাতে বসেছে যশোরের এক হাজার মৎস্যজীবী পরিবার। জেলা প্রশাসন আটটি বাওড়ের লিজ নবায়ন না করায় তাদের এখন ধনে-প্রাণে মরার উপক্রম হয়েছে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছাড়া কোটি টাকার মাছ এসব বাওড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। এ মাছ তুলে বাজারে বিক্রি করতে না পারলে তাদের পথে বসতে হবে। এ নিয়ে মৎস্যজীবীরা বর্তমানে চিন্তিত সময় কাটাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, যশোর জেলায় ইফাদ প্রকল্পভুক্ত আটটি বাওড় রয়েছে। এসব বাওড়ের লিজসহ সমস্ত কিছু দেখভাল করে জেলা প্রশাসকের দপ্তর। বাওড়গুলো হচ্ছে, যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর বাওড়, ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণচন্দ্রপুর বাওড়, উজ্জলপুর বাওড়, মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড়, খেদাপাড়া বাওড়, শার্শা উপজেলার রাজগঞ্জ বাওড়, বাহাদুরপুর বাওড় ও অভয়নগর উপজেলার পুড়াখালী বাওড়। বাওড়গুলো ইফাদ প্রকল্পভুক্ত মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা লিজ নিয়ে চাষাবাদ করছেন। এদের মধ্যে কৃষ্ণচন্দ্রপুর বাওড়ের দায়িত্বে রয়েছেন মৎস্যজীবী আদম আলী, হামিদপুর বাওড়ে তপন বিশ্বাস, উজ্জলপুর বাওড়ে নওশের আলী, খাটুরায় আব্দুস সাত্তার, খেদাপাড়ায় সদর আলী, রাজগঞ্জে নিমাই সরদার, বাহাদুরপুরে ইদ্রিস আলী ও পুড়াখালী বাওড়ে আব্দুর রহমান।
লিজ গ্রহিতা মৎস্যজীবীরা জানান, ইফাদ প্রকল্পের অন্তর্গত এসব বাওড় তারা পঞ্চাশ বছরের চুক্তিতে লিজ নিয়ে গত ৩০ বছর যাবৎ মৎস্য চাষ করে যাচ্ছেন। তাদের দশ বছর পরপর চুক্তি নবায়নের কথা থাকলেও এবার তা করে দেয়া হচ্ছে না। গত ৩০ চৈত্র তাদের লিজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন তাদের লিজ নবায়ন করে না দিয়ে পত্রিকায় ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যা দেখে মৎস্যজীবীরা রীতিমত হতবাক হয়েছেন। তারা চুক্তি নবায়নের জন্য প্রশাসনের দপ্তরে গেলেও এ বিষয়ে কর্ণপাত করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় তারা উপায়ান্ত না পেয়ে উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। তারা নতুন করে ইজারা বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ভার্চ্যুয়াল রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার নম্বর ০১/২০২০। এরই প্রেক্ষিতে গত ১ জুন উচ্চ আদালতের বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম আবেদনের শুনানি শেষে ওইসব বাওড় ইজারাদানের কার্যক্রম ৩০ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। একইসাথে বাওড়ের দখল ও মালিকানা স্বত্বে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এরপর গত ২৯ জুন একই আবেদনের শুনানিতে উচ্চ আদালত স্থিতাবস্থা দেড় মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ আদেশ সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসার ই-মেইলের মাধ্যমে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে উচ্চ আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাওড়গুলোর প্রকৃত দাবিদার মৎস্যজীবীরা। তাদের ৫০ বছরের চুক্তি রয়েছে। তারা ন্যায় বিচার পাবেন। আদালতই তাদের লিজ নবায়নের পক্ষে রায় দেবেন।
এদিকে, লিজ নবায়ন নিয়ে জটিলতায় আটটি বাওড়ের এক হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের জীবন জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সহায় সম্বল হারিয়ে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এসব বাওড়ের মৎস্যজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের দুশ্চিন্তার কথা।
শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুরে এক হাজার বিঘার বাওড়ের মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য সংখ্যা ২৩৭ জন। ঝিকরগাছার ৫৩ একরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর বাওড়ের মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য সংখ্যা ৯৮ জন। মণিরামপুরের খেদাপাড়ার ১৪২ একর বাওড়ের সদস্য সংখ্যা ৭৮ জন। খাটুরার ১৬০ একর বাওড়ের সদস্য সংখ্যা ১০১ জন। শার্শার রাজগঞ্জ ৭২ একর বাওড়ের সদস্য সংখ্যা ৭৮ জন। অভয়নগরের পুড়াখালীর ১৫৩ একর বাওড়ের সদস্য সংখ্যা ৭২ জন। ঝিকরগাছার উজ্জ্বলপুরের ৭০ একর বাওড়ের সদস্য সংখ্যা ৬১ জন ও যশোর সদর উপজেলার হামিদপুরের ৪৩ একর বাওড়ের সদস্য সংখ্যা ২৮ জন। এসব বাওড়ের ওপর প্রায় এক হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের জীবন জীবিকা নির্ভরশীল। এখান থেকে মাছ চাষ ও ধরে বাজারে বিক্রি করেই তাদের সংসার চলে। তারা ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা ঋণ নিয়ে বাওড়ে মাছের পোনা ছাড়েন ও বড় হবার পর তা বাজারে বিক্রি করে দেনা শোধ করেন। যা নিয়ে তারা এখন পরিবারসহ চিন্তিত সময় কাটাচ্ছেন।
ঝিকরগাছার কৃষ্ণচন্দ্রপুর বাওড়ের সভাপতি আদম আলী বলেন, ইফাদ প্রকল্পের এ বাওড় তারা ৫০ বছরের লিজ নিয়ে গত ৩০ বছর যাবৎ ভোগ দখল ও মৎস্য চাষ করছেন। প্রতি ১০ বছর পরপর বাওড়ের এ লিজ নবায়ন করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবারই তাদের লিজ নবায়ন করতে দেয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে এটি খাস তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইফাদ প্রকল্পভুক্ত আটটি বাওড়ে মৎস্যজীবীর কোটি টাকার মাছ রয়েছে। যা নিয়ে তারা এখন ভীষণ চিন্তিত। এ মাছ ইচ্ছা করলেই ধরা বা বাজারে বিক্রি করা যায় না। মৎস্য চাষ একটি জটিল কাজ। এসব কাজের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। হঠাৎ করে তাদের উঠে যেতে বললে সেটা হয় না। এটা করা হলে তাদেরকে সাগরে ভাসিয়ে দেবার মত অবস্থা হবে। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে তাদের পথে বসতে হবে। ধার দেনা নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। এসব কারণে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে বাওড়গুলোর লিজ নবায়নের দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব আসিফ মাহমুদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইফাদ প্রকল্পে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের গত ৩০ বছর আগে ৫০ বছরের চুক্তি হয়। এ চুক্তি ১০ বছর পর পর নবায়ন করা হয়েছে। মেয়াদ এখনও ২০ বছর রয়েছে। কিন্তু ২০১১ সালে ইফাদ তার কার্যক্রম গুটিয়ে দেশ থেকে চলে যায়। এরপর একই বছরে জলমহালের নীতিমালা অনুযায়ী এসব বিল বাওড়গুলো জেলা প্রশাসনের খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যশোরের আটটি বাওড়ের নতুন করে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। কিন্তু মৎস্যজীবীরা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করলে ইজারার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন। সভার মাধ্যমে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft