শিরোনাম: মাদক কারবারিরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে        আদালতে ভার্চ্যুয়াল প্রদ্ধতির অবসান হচ্ছে আজ        সদরে ৭২ জনসহ নতুন ১৩৮ জন শনাক্ত       কুরবানি চইলে গেচে শিক্কেডা যেন থাইকে যায়       যশোরের একমাত্র নারী ক্রিকেট কোচ তিন্নির মৃত্যু        যশোর পৌরসভায় যুক্ত হচ্ছে ৭ বর্গ কি.মি.       সর্বকালের সর্বনিম্ন দরে লেনদেন       ‘জাতীয় পার্টি গণমানুষের আস্থার রাজনৈতিক শক্তি’       চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক হলেন আ.লীগ নেতা সুজন       প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে পালিত হবে শেখ কামালের জন্মদিন       
কেশবপুরের গৌরিঘোনায় এলজিএসপি প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ
আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর)
Published : Saturday, 11 July, 2020 at 12:45 AM
কেশবপুরের গৌরিঘোনায় এলজিএসপি
প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ কেশবপুরের গৌরিঘোনা ইউনিয়নে এলজিএসপি প্রকল্পের রাস্তা সোলিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধি উপেক্ষা করে নিম্নমানের ইট দিয়ে চলছে কাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় গৌরিঘোনা ইউনিয়নে ১৭ লাখ ২০ হাজার ৫৭৯ টাকার মোট ১৮টি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে ১২টি রাস্তা ইটের সোলিং, সোলার লাইট নির্মাণ, অফিসের একটি প্রিন্টার, ৪টি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, অনলাইন ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট, বিলবোর্ড নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১০৯২ মিটার ১২টি রাস্তা সোলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। রাস্তাগুলি করার ক্ষেত্রে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, একাধিক রাস্তার অর্ধেক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সরকারি কাজে ১ নম্বর ইট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও গৌরিঘোনা ইউনিয়নের প্রায় সবকটি ইটের সোলিং প্রকল্পে দুই ও তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তায় ব্যবহার করা এবং রাস্তার পাশে জমানো ইটের প্রায় সবগুলোই তিন নম্বর ইট। এসব ইটের অধিকাংশে রয়েছে রেইন স্পট (বৃষ্টির দাগ)। আরো দেখা যায়, সাব বেইজ পর্যায়ে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ বালি দেয়ার কথা থাকলেও ২-৩ ইঞ্চির বেশি বালি দেয়া হয়নি। এর উপরে ইটের সোলিং পর্যায়ে প্রতিটি ইটের মধ্যে ২-৩ ইঞ্চি পরিমাণ ফাঁক রয়েছে। পরে বালি দিয়ে ফাঁকা জায়গাগুলো পূরণ করে তার উপরে ইটের আরেকটি স্তর দেয়া হয়েছে। এতে নীচের ফাঁকা অংশগুলো ঢাকা পড়েছে। নির্মাণ কাজের একজন মিস্ত্রি সাব বেইজে ২-৩ ইঞ্চি পরিমাণ বালি দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মালিক যেমন জিনিস দেবে, তেমন জিনিস দিয়েই তো আমাদেরকে কাজ করতে হবে। তবে মান খারাপ ও স্পটওয়ালা ইটগুলো নীচে দিচ্ছি, একটু ভালগুলো উপরে দিচ্ছি।
বুড়ুলি গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, বাড়ির সাথে ইটের রাস্তা হবে জেনে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু তিন নম্বর ইট দিয়ে যেভাবে রাস্তা করা হচ্ছে, তাতে দুই-চারটা মালবোঝাই ভ্যান গাড়ি গেলেই এ ইট ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে যাবে। এভাবে করা রাস্তাটি ৬ মাসও টিকবে না। আগরহাটি সরদারপাড়ার রফিক সরদার বলেন, সরদারপাড়া থেকে গাজিপাড়া পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তার কাজ হচ্ছে। এ কাজে নিম্নমানের বাতিল ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমরা নিষেধ করলেও শোনেনি। ভরত ভায়না গ্রামের বজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান মিলে ভরত ভায়না গ্রামের জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে ফকিরপাড়া পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ করার জন্য তিন নাম্বার ইট এনে রাখা হয়েছে। ওই ইট দিয়ে রাস্তা করা হলে অল্পদিনের মধ্যেই রাস্তা ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে যাবে।
গৌরিঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা দশকাহুনিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম রবি জানান, সোলিংয়ের এ রাস্তা নির্মাণে গত ৪০ বছরের থেকে বেশি দূর্নীতি হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বিভাগীয় তদন্তের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সূত্রে জানা যায়, গৌরিঘোনা ইউনিয়নে এলজিএসপির ১৮টি প্রকল্পে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৭ লাখ ২০ হাজার ৫৭৯ টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে ১২টি প্রকল্পে রাস্তায় ইটের সোলিংকরণ করার কথা রয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মন্ত্রণালয় থেকে এ বরাদ্দ আসে। বিধি অনুযায়ী, মাইকিং করে বা ঢোল পিটিয়ে সভা আহ্বান করে ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ গ্রহণ করার কথা, কিন্তু তা করা হয়নি। এমনকি এলজিএসপি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কোনো সভাও হয়নি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্পগুলোর সভাপতি নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী প্রকল্প তালিকা তৈরি করেছেন। অনুগত সদস্যদের প্রকল্প কমিটির সভাপতি বানিয়ে কাজ না করে বা আংশিক করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরইমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা রবিউল ইসলাম রবি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে আগরহাটি গ্রামের ইউপি সদস্য ও প্রকল্পের সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, তার ওয়ার্ডে ২৪০ ফুট রাস্তা ইটের সোলিং করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ইট ও বালি পাঠিয়েছেন। আমরা কাজ করেছি। তিনি আরো বলেন, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের প্রাক্কলন অনুযায়ী দেড় নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হয়েছে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী অর্থবরাদ্দ ছিল অপ্রতুল। এখানে অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, রাস্তা সোলিংয়ে ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের হলে অভিযোগ থাকলে সেটি পাল্টে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, এসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft