শিরোনাম: রাজশাহী বিভাগে ৩১৪ জনের করোনা শনাক্ত       নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজ অটোচালকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার       রাজশাহীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা       নড়াইলে চিরনিদ্রায় শায়িত পর্বতারোহী রেশমা       লালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত       চীনের নজর এবার তাজাকিস্তানের দিকে       মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা বাড়তি শূল্ক আরোপ করবে কানাডা       নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা মাহাথিরের       গোপালগঞ্জে পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার       করোনা এড়াতে স্যানিটাইজ করবেন গাড়ির যেসব অংশ      
পুলিশের ভয় দেখিয়ে এসি উদ্ধার করেন অধ্যক্ষ
যমেকের এসি কেলেঙ্কারি তদন্ত রিপোর্টে মিলেছে সত্যতা
কাগজ সংবাদ
Published : Thursday, 9 July, 2020 at 11:48 PM, Update: 10.07.2020 2:03:45 PM
যমেকের এসি কেলেঙ্কারি  তদন্ত রিপোর্টে মিলেছে সত্যতাযশোর মেডিক্যাল কলেজের এসি কেলেঙ্কারির ঝড় যেন থামছে না। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এসি কেনা এবং লাগানোর বিষয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। এদিকে, সংবাদ মাধ্যমে অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর গত ৬ জুলাই রাতে আটটি এসি খুলে ফেলা হয়। বহিরাগত লোকজন এনে হিসাব রক্ষক জয়নাল আবেদিন ও স্টোরকিপার আতিয়ার রহমান কাউকে কিছু না জানিয়ে এসিগুলো খুলে বাইরে নিয়ে যান। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ জয়নালকে পুলিশে দেয়ার ভয় দেখালে তিনি খুলে ফেলা এসি হাজির করেন।
যশোর মেডিক্যাল কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিন নিজের অনিয়ম দুর্নীতি আড়াল করতে কতিপয় কর্মচারীকে ব্যবহার করেন। একের পর এক তাদের অবৈধ আবদার পূরণ করতে থাকেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে যায় যে, অধ্যক্ষ কর্মকর্তা, ল্যাবসহ গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ বাদ দিয়ে এসি লাগিয়ে দেন নি¤œপদস্থ কর্মচারীদের কক্ষে। যা অনেকে ভালোভাবে নেননি। তারপরও হেনস্থা হওয়ার ভয়ে মুখ খোলেননি কেউ। মিডিয়ায় জানাজানি হলে গত ৬ জুলাই রাতের আঁধারে অনিয়ম করে লাগানো ১৫ টি এসির মধ্যে আটটি খুলে ফেলা হয়। এরমধ্যে হিসাবরক্ষক জয়নাল আবেদিনের কক্ষের একটি এবং ক্যান্টিনের সাতটি কুলিং এসি রয়েছে। এখনো পর্যন্ত আরও সাতটি এসি বিভিন্ন কক্ষে রয়ে গেছে। যা কমবেশি ব্যবহারও হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। এনিয়ে কলেজের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, অনিয়ম করে যদি ১৫ টি এসি লাগানো হয় তাহলে আটটি খুলে সাতটি রাখা হলো কেন। তারা অবিলম্বে এসব এসিও খোলার আহŸান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছেন, কেবল এসি লাগানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়নি। বিপুল অঙ্কের টাকায় এসি কেনা নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। ওই সূত্র জানিয়েছে, সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিনের সব ধরনের দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজের দায়িত্বে থাকতেন হিসাবরক্ষক জয়নাল আবেদিন। বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে দেখাগেছে স্টোরকিপার আতিয়ার রহমানের কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ রয়েছে। অথচ ভিতরে লাইট, ফ্যান ও এসি চলছিল। এসি কেলেঙ্কারির ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষক এ প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান। ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের কেউ কেউ বলেন, সাবেক অধ্যক্ষের লাই পেয়ে কতিপয় কর্মচারী কাউকে তোয়াক্কা করতো না। তারা যা খুশি তাই করে চলছিল।
তদন্ত কমিটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক অধ্যক্ষ তার এলপিআরে যাওয়ার শেষ সময়ে অর্থাৎ জুন মাসের শেষের দিকে এসিগুলো খুলে ফেলতে বলেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেটি করেনি। গত ৬ জুলাই এসে তারা সাতটি এসি খুলেছে। আর জয়নালের কক্ষের এসি নাকি আরও আগে খোলা হয়। যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দেয়ায় মেরামতের জন্যে সেটি খোলা হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।  
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দীনউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ সেটি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এসি কেলেঙ্কারির বিষয়ে কথা হয় অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামানের সাথে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছি। এটি পর্যালোচনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft