শিরোনাম: মহেশপুরের একতা ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু       কেশবপুরে কালভার্ট বন্ধ করে মাছের ঘের, চার গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা       করোনা ওয়ারিয়র অ্যাওয়ার্ড পেলেন আরজু       যবিপ্রবি শিক্ষার্থী জাহিদের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক        খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবচেয়ে বড় বিষয় : মিঠু       মশ্মিমনগরে প্রবাসীর সহযোগিতায় বৃক্ষরোপণ        যশোরে আরও ৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত, সদরে ২৫       কচুয়া থেকে গাঁজাগাছসহ একজন আটক        পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা মামলা       রাজাকারের তালিকা দেবে সংসদীয় কমিটি      
সাংবাদিক ফখরে আলমের জন্য ভালোবাসা
আহ্সান উল্লাহ্
Published : Saturday, 4 July, 2020 at 11:27 PM, Update: 04.07.2020 11:29:20 PM
সাংবাদিক ফখরে আলমের জন্য ভালোবাসারাতে ফখরে আলমের ফোন। তিনি বললেন, ভাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি কাল খুলনা যাব না। আপনার ‘জীবনস্মৃতি’ প্রদান অনুষ্ঠানে যাব। এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ বই প্রদান অনুষ্ঠানেটি তদনুরূপ হওয়া উচিত। যশোর সব পত্রিকার সব সম্পাদক, ফটোগ্রাফার ও রিপোর্টারদের উপস্থিত থাকার ব্যবস্থা করব।
ফখরে আলম অনুরোধ করলেন, দুপুরে আমার বাসায় খাবেন। তারপর আপনাকে নিয়ে এম এম কলেজে যাব।
পরদিন ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে দুপুরে তার বাসায় ভাবির হাতের সুস্বাদু রান্নায় আপ্যায়িত হয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বের হব। এমন সময় ফখরে আলম সাহেব বললেন, আমরা আমার মোটরসাইকেলে যাব।
কয়েক সেকেন্ড পরেই বললেন, নাহ্ আপনি একটা পত্রিকার সম্পাদক। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা গাড়িতেই যাব।
আমি তার এই উক্তি বেশ উপভোগ করলাম এবং হাসতে হাসতে বললাম, আমি সারা জীবন পায়ে হেঁটে চলা সাংবাদিক। আপনি যে একটা বড়সড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন সেটাই আমার সৌভাগ্য।
যাইহোক ফখরে আলম নিজেই তার গাড়ি ড্রাইভ করে আমাকে নিয়ে কলেজে গেলেন। অনুষ্ঠানে যশোরের অনেক সাংবাদিক এবং কলেজের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ফখরে আলম সাহেবই সম্ভবত উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। অন্যান্য সম্পাদক, সাংবাদিক, কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র আমার সঙ্গে হামিদা রহমানের ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল।
আমি হামিদা রহমানের ভাষা আন্দোলনে সাহসী ও বীরত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার উল্লেখ করি।
বক্ষমান নিবন্ধে ভাষা সৈনিক হামিদা রহমানের সাহসিকতার একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। ভাষা আন্দোলনে যশোরে আলমগীর সিদ্দিকী ও হামিদা রহমান যুগ্ম কনভেনর হিসেবে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন (১৯৪৮)। এর সভাপতি ছিলেন ডা. জীবন রতন ধর। ১১ই মার্চ সারা যশোর শহরে হরতারের ডাক দেয়া হয়। শহরের সব স্কুল-কলেজ হরতালে যোগ দেয়। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মমিন গার্লস স্কুল ও জিলা স্কুল ধর্মঘটে যোগদানে বিরত থাকে। হামিদা রহমান ও আলমগীর সিদ্দিকী মিছিল নিয়ে মমিন গার্লস স্কুলে ছাত্রীদের বের করে আনার চেষ্টা করেন। ঐ সময় যশোরের জেলা ম্যাজিস্টেট ছিলেন পাঞ্জাবী নোমানী সাহেব। তার মেয়ে ঐ স্কুলে ছাত্রী ছিল এবং সে ছাত্রীদের মিছিলে যেতে প্রবলভাবে বাধা দেয়। ঐ সময় হামিদা রহমান মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ির উপর থেকে নিচে ফেলে দেন। ফলে মেয়েটি আহত হয়। তার ঠোঁট কেটে যায় ও দাঁত ভেঙে যায়। ঐ দিনই হামিদা রহমানের নামে হুলিয়া জারি হয়। অন্য নেতাদের বিরুদ্ধেও হুলিয়া জারি হয়।
ঐ দিন সন্ধ্যার পূর্বে এম এম কলেজের একটি অন্ধকার রুমে সংগ্রাম পরিষদের একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। গোয়েন্দা বিভাগ সংবাদ পেয়ে যায় এবং পুলিশ এম এম কলেজ ঘেরাও করে হামিদা রহমানকে গ্রেফতার করতে।
পুলিশ কলেজ ঘেরাও করেছে বুঝতে পেরে হামিদা রহমান কলেজের বেয়ারা কেশব চন্দ্রের কাছ থেকে তার শার্ট, পাজামা ও একটি গামছা চেয়ে নিয়ে শাড়ি খুলে পুরুষের কাপড় পরে নেন। আর মাথায় গামছা বেঁধে কেশবের কাছ থেকে একটি বিড়ি নিয়ে সেটি ধরিয়ে বিড়ি ফুকতে ফুকতে কলেজের পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যান। পরের দিন তিনি যশোর থেকে রংপুর চলে যান। তারপর সেখান থেকে কুচবিহার পৌঁছান। তাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়।
এম এম কলেজে হামিদা রহমানের ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থ প্রদান অনুষ্ঠান ফখরে আলমের উদ্যোগে সুন্দর একটি অনুষ্ঠান হয়। পরদিন যশোরের দৈনিক লোক সমাজ, দৈনিক কল্যাণ, দৈনিক স্পন্দন, গ্রামের কাগজ, দৈনিক সমাজের কথায় তিন কলাম ছবিসহ ডবল কলাম হেডিং’এ অনুষ্ঠানের খবর ছাপা হয়। যশোরের সবগুলো দৈনিকে আমার ঐ গ্রন্থ প্রদান অনুষ্ঠান ব্যাপক কভারেজ পাওয়ার পেছনে কৃতিত্ব ফখরে আলমের।
যশোরের সাংবাদিক মহলে ফখরে আলমের একটি হৃদ্যতাপূর্ণ, সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল। এই অবস্থা তিনি সত্যনিষ্ঠা, পরিশ্রম, সাংবাদিকতা পেশার প্রতি একাগ্রতা, পরিশ্রাম, বস্তুনিষ্ঠভাবে সত্য ঘটনা পরিবেশন, সমাজের অবহেলিত মানুষের দুঃখ কষ্ট ও মানুষকে ন্যায় পাইয়ে দেয়ার মনোভাব তাকে সাংবাদিক হিসেবে সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছিল। ব্যক্তি জীবনে তিনি সৎ ও পরপোকারী লোক ছিলেন। তাকে কখনো আমি ওয়াদা ভঙ্গ করতে দেখিনি। এ গুণটা খুব বেশি সাংবাদিকের মধ্যে নেই।
তিনি আমাকে কয়েকবার বলেছেন, ভাই আপনি আমাকে তুমি বলে সম্বোধন করবেন। আপনি বয়সে আমার থেকে অনেক বড়। আপনার সাংবাদিকতা পেশায় বয়স প্রায় আমার বয়সের কাছাকাছি। উত্তরে আমি বলেছি, প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। আমি অধিকাংশ লোককে আপনি বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি।
তার ৩০/৩৫ খানা বই তাকে সুপরিচিতি এনে দিয়েছে। তার বইগুলোর মধ্যে অনেক তথ্য আছে অনেক কিছু জানার আছে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতাও তিনি লিখবেন। তার তিনখানা কবিতার বই আছে।
ফখরে আলম যথার্থই একজন অমায়িক, বন্ধু বৎসল ও দক্ষ সাংবাদিক ছিলেন। তাকে আমি একজন যথার্থ ভদ্রলোক বলে বিবেচনা করি। ইংরেজিতে বললে বলতে হয় জেনট্লম্যান পার এক্সসেলেন্স। তার মৃত্যুতে আমি একজন পরম সুহৃদকে হারিয়েছি। তার প্রতি ভালবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
উল্লেখ্য দীর্ঘদিন ফখরে আলম ক্যানসারে ভুগছিলেন। গত ১৪ মে ২০২০ তার যশোর শহরের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লেখক পরিচিতি : ভারত বিচিত্রার প্রথম সম্পাদক,
বর্তমানে দৈনিক জনতার সম্পাদক





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft