শিরোনাম: মহেশপুরের একতা ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু       কেশবপুরে কালভার্ট বন্ধ করে মাছের ঘের, চার গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা       করোনা ওয়ারিয়র অ্যাওয়ার্ড পেলেন আরজু       যবিপ্রবি শিক্ষার্থী জাহিদের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক        খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবচেয়ে বড় বিষয় : মিঠু       মশ্মিমনগরে প্রবাসীর সহযোগিতায় বৃক্ষরোপণ        যশোরে আরও ৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত, সদরে ২৫       কচুয়া থেকে গাঁজাগাছসহ একজন আটক        পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা মামলা       রাজাকারের তালিকা দেবে সংসদীয় কমিটি      
করোনায়ও চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য!
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
Published : Friday, 3 July, 2020 at 3:25 PM
করোনায়ও চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য!করোনা মহামারির মধ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও থেমে নেই রমরমা কোচিং বাণিজ্য। আইনের তোয়াক্কা না করে কোচিং সেন্টারগুলো বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি স্কুল-কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাসা ভাড়া নিয়ে নামে-বেনামে চালাচ্ছেন এই কোচিং বাণিজ্য। আর সেখানেই সকাল, দুপুর ও বিকালে চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট পাঠদান।
করোনা সংক্রমণ মুহূর্তে ঝিনাইদহ জেলা সদর উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী সকল উপজেলার এক শ্রেণির শিক্ষক ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা তাদের কোচিং বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন। সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা না করেই এসব শিক্ষক ও কলেজ পডুয়া ছাত্ররা দলবদ্ধভাবে নিজ বাসায় অথবা কোচিং সেন্টারে সকাল-সন্ধ্যায় কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন। করোনার জন্য স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার সুযোগে খোদ এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরাও কোচিংয়ে জড়িয়ে পড়ায় উপজেলা জুড়েই চলছে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য।
এ দিকে, উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এ উপজেলায় বন্ধ হয়নি কোচিং বাণিজ্য! অর্থের লোভে খোদ ‘মানুষগড়া কারিগর নামের অনেক শিক্ষকই শিক্ষার নীতিমালা ও নৈতিকতা ভুলে গিয়ে আদর্শ বিচ্যুত হচ্ছেন। ফলে কোচিং বাণিজ্য এখন তুঙ্গে। কাঙিক্ষত শিক্ষার পিছনে বছরে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে কোচিং সেন্টারগুলো।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার ঘোষিত নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে খোদ এমপিও সুবিধাভোগি শিক্ষকরা একদিকে কোচিং সেন্টারের মালিক হয়ে যেন শিক্ষার প্রসারের নামে শিক্ষা বাণিজ্যের আদলে ‘কোচিং সেন্টার’ নামক দোকান খুলে বসেছেন।
জানা যায়, উপজেলার খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বনামধন্য শিক্ষকরাও নিজেদের তত্ত্বাবধানে বাসাবাড়িতে সাইনবোর্ডবিহীন কোচিং ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছেন। ব্যাচে ব্যাচে শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়ছে। একশ্রেণির কোচিংবাজ শিক্ষকদের চাপে সিংহভাগ ছাত্রছাত্রী কোনো না কোনোভাবে মূল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অর্থের বিনিময়ে কোচিংয়ে পড়ছে। এ হিসাবে প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই এক পর্যায়ে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য। ফলে কোচিং সেন্টারগুলোর মালিক শিক্ষকরা শিক্ষার নাম ভাঙিয়ে বছরজুড়েই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। শিক্ষকরা শিক্ষা নামের নগ্ন বাণিজ্যে বেপরোয়াভাবে জড়িয়ে পড়ায় নিজ স্কুলের শিক্ষকদের কাছেই গণিত, ইংরেজি, রসায়ন, পদার্থসহ পাঠ্যসূচির বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে বাধ্য হচ্ছে।
কোচিং করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষার্থীদের অকপট উত্তর ‘ক্লাসে যা পড়ায়, তাতে হয় না। সেখানে ভালোমতো বোঝানো হয় না। তাই কোচিং তো করতেই হয়। শত শত শিক্ষার্থীর একই মনোভাব ক্লাসে বুঝি না। বোঝানো হয় না। অভিভাবকের মুখেও একই কথা শুনা যায়। অভিভাবদের অভিযোগ, সরকার কোচিং নিষিদ্ধ করেছে। সন্তানের ভালো ফরাফলের আশায় কোচিং সেন্টারে পড়াতে বাধ্য হতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলার নগরবাথান গ্রামের একজন অভিভাবক জানান, শুধু করোনা বা সংক্রমণ এড়াতে প্রাইভেট পড়াতে পারছি না ছেলেকে। নগর বাথান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, একমাত্র অজ্ঞ শিক্ষক এবং অভিভাবকরাই কেবল দেশের এ ক্রান্তিকালে ছেলে-মেয়েদের প্রাইভেট মাষ্টারদের কাছে পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অবসর সময়টি কাজে লাগানো যাচ্ছে।
কোচিং ও প্রাইভেট শিক্ষকদের নামের তালিকায় নগর বাথান বাজার এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি কোচিং এর পরিচালনা করেন এম এ খালেক কলেজের প্রভাষক মো. নজরুল ইসলাম। সেখানে নজরুল ইসলাম সহ ৬জন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র দিয়ে কোচিং চালানো হচ্ছে। এরা হল দেলয়ার, হাবিব, সোহাগ, সোহেল, ও সাগর। একই এলাকার সেন্টু নামে তার নিজ বাড়িতে ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি ছোট খুপড়ির মধ্যে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে পড়াচ্ছেন। সে পেশাই একজন প্রাইভেট শিক্ষক নামেই পরিচিত।
এছাড়াও নগর বাথান বাজারের পশ্চিম পার্শে নজরুল ইসলাম নামে আরেক শিক্ষক। সে রাম নগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। কোন স্বাস্থ্য সেবা না মেনেই তার নিজ বাড়িতে ২০/৩০ জন করে ২/৩ ব্যাচে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। এছাড়াও উপজেলার কালিচরন পুর ইউনিয়নের ‘মোসলেম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়য়ে’র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে একি ইউনিয়নের ভগবান নগর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসায় বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে প্রাইভেট পড়াতে দেখা গেছে।
এছাড়াও উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া গ্রামের সাগর ও জাহাঙ্গীর নামের ২জন প্রাইভেট শিক্ষক, তাদের নিজ বাড়িতে ও বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে প্রাইভেট পড়ায় বলে জানা গেছে। কোটচাঁদপুর উপজেলারা গ্রামে ও শহরে প্রকাশে সাস্থবিধি না মনে প্রাভেট পড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। স্কুল কলেজ মাদ্রাসাগুলো যেন করোনাই বন্ধ থাকার সুযোগে কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টার হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমার দেব বলেন, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ কেউ করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft