শিরোনাম: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শোক দিবস পালন করতে হবে: এমপি নাসির       রাজশাহী বিভাগে ৩১৪ জনের করোনা শনাক্ত       নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজ অটোচালকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার       রাজশাহীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা       নড়াইলে চিরনিদ্রায় শায়িত পর্বতারোহী রেশমা       লালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত       চীনের নজর এবার তাজাকিস্তানের দিকে       মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা বাড়তি শূল্ক আরোপ করবে কানাডা       নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা মাহাথিরের       গোপালগঞ্জে পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার      
ভৈরবে ডাহুকের ডাক
শাহানুর আলম উজ্জ্বল
Published : Saturday, 27 June, 2020 at 11:14 PM
ভৈরবে ডাহুকের ডাকচলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জীবন যুদ্ধে লড়ছে মানুষ। একটি অদৃশ্য ভাইরাস যখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঠিক তখন কিছু কিছু সংবাদ আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে শক্তি অর্জন করে বৈকি।
যশোর শহরের বুক চিরে একসময়কার প্রমত্তা ভৈরব নদটি এখন কঙ্কালসার! অথচ কয়েকযুগ আগেও নদে ছিল প্রমত্তা ঢেউ। পাখিদের কলকাকলি। জীববৈচিত্রে নদটি ছিল মুখরিত। শত প্রজাতির ছিল মাছ ও জলজ প্রাণি। কিন্তু এখন তা অতীত ইতিহাস।
হাড়েহাড়ে টের  পেয়ে আমরা শেষমেষ ভৈরবের জীবন যৌবন ফিরিয়ে দিতে ভাবতে শুরু করেছি। এই ভাবনার বাস্তবায়ন ও চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে মৃত প্রায় ভৈরব নদ জেগে উঠতে শুরু করেছে। কিছুটা পানির অবস্থান তৈরি মাত্রই পাখিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভৈরব নদে শোনা যাচ্ছে ডাহুক পাখির ডাক। আর ডাহুকের এই ডাকের পেছনে বর্তমান সরকারের নান্দনিক ভূমিকা সর্বাগ্রে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে যশোরে আগমন করে ভৈরব নদ খননের প্রতিশ্রুতি দেন। ওই প্রতিশ্রুতির ফলে পরবর্তীতে ২৭২ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। ভৈরব নদের টেকসই উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী “ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প” শুরু করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৯২ কিলোমিটার খনন কাজ হবে। ইতোমধ্যে নদের উজান ও ভাটির ৭০ কিলোমিটারের বেশি খনন কাজ চলমান।
নদ-নদী বিশেষজ্ঞদের দাবী, ভৈরব নদটি যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর থেকে উৎপন্ন হয়ে যশোর শহরের বুক চিরে বাঘারপাড়া, অভয়নগর হয়ে খুলনার রূপসা নদীতে মিলিত হয়েছে। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলার মাথাভাঙ্গা নদের সাথে ভৈরব নদের যোগসূত্র আছে। কালক্রমে এ জেলার দামুড়হুদা থেকে চৌগাছার তাহেরপুর পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার নদটি ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহের পথটি স্তব্ধ হয়ে যায়। ভৈরব নদ সংস্কারে সরকারের ভূমিকা আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে যশোর জেলার মানুষের কাছে।
কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে নদটি। এরই মধ্যে দেখা মিলছে সম্ভাবনার নানান দিক। ভৈরব নদের পাড়েই যশোর কালেকটরেট ভবন। নদের তীর ঘেষে উত্তর-পূর্বকোণে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আমার সহধর্মিনী সেঁজুতি নূরকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রেক্ষিতে ৬টি রাত যশোর শহরে অবস্থান করতে হয়। আত্মীয় স্বজন, পরিজন, বন্ধু থাকা সত্বেও রোগীর পাশে থাকার নিমিত্তে হাসপাতালের সামনে বে-সরকারী একটি ক্লিনিকের তৃতীয় তলায় একটি রুম নিয়ে আমার কিছুদিনের রাত্রিবাস। রুমের সামনে ব্যালকনি। ব্যালকনির দক্ষিণের যশোর ভৈরব নদের শরীর দেখা যায় স্পষ্ট। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও রাত্রকালীন টুকটাক চলছে মটরবাইক বা ছোটখাট খাদ্য বা ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন। শহরের প্রাণকেন্দ্র আলোকময়। সারাদিন রোগী নিয়ে দৌঁড়াদৌড়ির পর অনেকটা ক্লান্ত। শরীর অবশ। ঘুমের আচ্ছাদনে শরীরটি নেতিয়ে গেল বিছানায়। রাত ২ টা। হঠাৎ উচ্চ একটি শব্দ আমার কর্ণকুহরকে ফাটিয়ে ফেলছে। ঘুম ভেঙ্গে গেল। উঠে বসে কান পাতলাম বাতাসে। খুব পরিচিত একটি শব্দ। ছোটবেলায় ঘুরে বেড়ানো ডোবা, পুকুর, নদ-নদী, বিল বাওড়ে বহুবার শুনেছি এই শব্দ। খুব উপভোগ করলাম শব্দটি। একের পর এক ডেকেই যাচ্ছে ডাহুক পাখি। একপর্যায় সমস্বরে কয়েকটি পাখির একসাথে ডাকাডাকি। মনে হচ্ছে তাদের মিলন মেলা বসেছে। তাদের নগরটি যেন উৎসবের। সত্যিতো তাদের নগর বলতে ভৈরব নদটি। যে নদ ছিল মরাখাল বা মৃত। দুর্গন্ধ আর কালোযুক্ত কাদাময় পানি ছিল বিষাক্ত। সেখানে এখন ডাহুক পাখি ডাকাডাকি করছে। বেড থেকে উঠে ব্যালকনিতে দাঁড়ালাম। ঘন্টাখানিক আগে ঝরঝর করে বৃষ্টি হয়েছে। গুমোট পরিবেশ কেটে গেছে। আকাশ ঝকঝকে পরিস্কার। জোৎস্নার ধবধবে আলোয় ভৈরব নদের স্বচ্ছ পানি দেখা যাচ্ছে। লক্ষ্য করলাম- কয়েকটি ডাহুক পাখি ঘুরে বেড়াচ্ছে নদে। শুধু রাতে নয় দিনের বেলাতেও ব্যাপারটা আমি লক্ষ্য করেছি।
শুধু তাই নয়, দিনে এক ব্যক্তিকে কুঁচে ধরতেও লক্ষ্য করেছি। ছোট্ট ডোঙায় ভেসে ভেসে ভৈরবের ধার দিয়ে লাঠির খোঁচাতে তিনি গর্তের সন্ধান করছেন। তারপর গর্ত পেলে সেখানে বড়শি দিয়ে কুঁচে ধরছেন। ভাবলাম ভৈরবে স্বচ্ছ পানির সঞ্চার হয়েছে বলেই হয়তো তিনি তার পেশাতে ফিরতে পেরেছেন। যাহোক ছয়টি রাতের প্রত্যেকটি রাতেই ডাহুক পাখির ডাক শুনতে পেয়েছি। মনোমুগ্ধ এমন ডাকে আমাকে মহোগ্রস্থ করে তুলত। ভৈরব নদ সংস্কারের কিঞ্চিৎ সুফল যশোর শহরের মানুষ পেতে শুরু করেছে ব্যাপারটি ভাবতে ভালোই লাগছিল। চির ব্যস্ত শহর যশোরের প্রাণ কেন্দ্রের ভৈরব নদে এখন ডাহুক পাখি। সেই সাথে মাছরাঙ্গা, বকসহ নানান পাখপাখালির আগমন ঘটতে শুরু করেছে। নদটি পুরোপুরি সংস্কার করা হলে শহর ঘিরে নান্দনিক প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি হবে তা এই উদাহরণের মধ্যে পাওয়া গেল। ভবিষ্যতে এই নদকে প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের প্রয়োজনে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এমনটিই সকলের কাম্য।

 লেখক ঃ স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক গ্রামের কাগজ, চৌগাছা।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft