শিরোনাম: নিষিদ্ধ পোল্ট্রি লিটার সরবরাহের দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা       মণিরামপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও       স্বপ্ন দেখোর মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ        ডুমুরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক স্কুলশিক্ষক নিহত       মহেশপুরে ভারতীয় মদ ও ফেনসিডিলসহ ব্যবসায়ী আটক       পর্বতারোহী রেশমার দাফন নড়াইলে সম্পন্ন       মা-বাবাসহ মাশরাফির পরিবারের চার সদস্য করোনায় আক্রান্ত       বাঁকড়ায় ভারতীয় নাগরিকের আত্মহত্যা       করোনায় যশোরে আরও একজনের মৃত্যু       যশোরে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উদযাপন       
নারীমুক্তি ও আলোকিত সমাজ গড়ার আন্দোলনে বেগম সুফিয়া কামাল
সায়েদা বানু শিল্পী
Published : Saturday, 20 June, 2020 at 10:38 PM
নারীমুক্তি ও আলোকিত সমাজ গড়ার আন্দোলনে বেগম সুফিয়া কামালগত ২০ জুন ছিল নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, কবি, সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক বেগম সুফিয়া কামালের জন্মদিন। ১৯১১ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন। প্রতিবছর দিনটি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ শ্রদ্ধার সাথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করে থাকে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী এই করোনাকালীন সময়ে আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকেই তাঁকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি।
বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে বেগম সুফিয়া কামালের জন্ম। মাত্র ৭ বছর বয়সে তাঁর পিতা সৈয়দ আব্দুল বারী গৃহত্যাগ করেন। মা সৈয়দা সাবেরা খাতুনের স্নেহ-পরিচর্যায় তিনি বড় হন। শিক্ষা-দীক্ষায় সে সময়ে মুসলিম মেয়েরা ছিলেন পশ্চাৎপদ। বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তিনি লাভ করেন নি। কিন্তু নিজ প্রচেষ্টায় হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত। প্রতিভার জোরে তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে একটা জায়গা করে নিতে সক্ষম হন। মানবমুক্তি ও মানুষের মনকে কলুষ ও বিদ্বেষমুক্ত করে তাকে সুন্দর করে তোলার সাধনা-ই ছিল সুফিয়া কামালের সাহিত্য ও জীবন চর্চার আদর্শ।
নারী জাগরণের দীক্ষাটি তিনি নিশ্চিতভাবে পেয়েছিলেন মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে। রোকেয়ার সেই আদর্শের ঝান্ডাটি তিনি আমৃত্যু বহন করেছেন অবিচল নিষ্ঠায়। ১৯৯২ সালে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘নারীমুক্তি মানেই মানবমুক্তি’। তাঁর এই উক্তি ইতিহাসের চরম সত্যের নির্জাস। প্রকৃতপক্ষে নারীমুক্তি ছাড়া মানবমুক্তি অসম্ভব।
১৯৪৮ সালে ‘পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সমিতি’ নামে একটি অসাম্প্রদায়িক মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরপর ছায়ানট, নারীকল্যাণ সংস্থা, মহিলা পরিষদ, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ এরকম বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক, প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়েও তিনি বারবার উৎপীড়িত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। এভাবে তিনি ক্রমে ক্রমে হয়ে উঠেছেন আমাদের জাতির বিবেকি কণ্ঠস্বর, ‘জননীসাহসিকা’।
আলোকিত সমাজ বলতে আমরা বুঝবো সেই সমাজ যা যুক্তিশাসিত, প্রগতিমুখী, সংবেদনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক। মানুষ নিয়েই তো সমাজ, সুতরাং আলোকিত সমাজ মানে হলো এককথায় আলোকিত মানুষের সমাজ। তেমন সমাজ নির্মাণের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। আলোকিত ও মানবিক সমাজ গড়ার জন্য আমাদের দেশকে এখনো দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে, সুফিয়া কামাল সেকথা বুঝেছিলেন। তিনি একজন সৎ, নির্ভীক, নির্ভরযোগ্য নেত্রী যিনি নর-নারীর সম অধিকারে বিশ্বাসী ছিলেন। সকল প্রকার বৈষম্যের তিনি বিরোধিতা করেছেন। যে বৈষম্য হতে পারে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণিতে বা নারী-পুরুষে। কাজ করে গেছেন এইসব বৈষম্যের বিরুদ্ধে। তিনি যে সময়ের মানুষ ছিলেন সে সময় ‘পেইন লিভিং অ্যান্ড হাই থিংকিং’ই মহৎ জীবনের আদর্শ হিসেবে গণ্য হতো। নিজের জীবনে ও আচরণে তিনি সেই নীতিটি মেনে চলতেন। পোশাক-আশাক, চলাফেরায় তিনি কখনো বিলাসিতাকে প্রশ্রয় দেননি। সংসারের অনেক কাজই নিজ হাতে করতেন। নিজ চরিত্র মাধুর্য ও সেবা পরায়ণতায় মানুষের মন জয় করে শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্রী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। হয়ে উঠেছিলেন অজস্র মানুষের ‘খালাম্মা’।
’৯০ এর দশক থেকে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে নারীনেতৃত্ব থাকা সত্বেও নারীমুক্তি ও নারীস্বাধিকার কতটুকু অর্জিত হয়েছে, নারীনির্যাতন ও সমাজের শ্রেণিবৈষম্য কতোটা কমেছে, তা ভেবে দেখার বিষয়।
আজ সুফিয়া কামাল নেই, তাই তাঁর অনুসারী যোদ্ধাদের দায় অনেক বেশি। বর্তমানে নারী আন্দোলন ও প্রগতি আন্দোলনের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে বেগন সুফিয়া কামাল ও তাঁর পূর্বসূরীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও কর্ম-উদ্দীপনা নিয়ে তাদের জ্বালিয়ে দেয়া মশালটি হাতে এগিয়ে চলা। এ দায় একা মহিলা পরিষদের নয়, দেশের প্রতিটি প্রগতিবাদী সংগঠনের, প্রতিটি নাগরিকের। সত্যিকারের সাহসী মানুষই পারে সমাজকে আলোর পথে, মুক্তির পথে পরিচালিত করতে।
সবশেষে বলবো, বেগম সুফিয়া কামালের কর্মযজ্ঞ, তাঁর নীতি-আদর্শ, মানবতা সবকিছু আমাকে উজ্জীবিত করে নতুনভাবে নিজেকে ভাবতে। সমাজকে কিছু দেয়ার প্রত্যয়ে নিজেকে উৎসর্গ করতে। তাঁর কর্মের সততা ও জীবনাদর্শ আমাদের চলার পথের প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠুক, এটাই প্রত্যাশা।
লেখক: শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, যশোর শাখা ও
সহকারী প্রধান শিক্ষক, ইসলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft