শিরোনাম: ‘সংক্রমণ আরও বাড়বে, সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি’       স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ বিমানে যাত্রীদের        জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চাকরি বাঁচাতে ঢাকা যাচ্ছে মানুষ       বিশ্বের ২৬ কোটি মানুষ খাদ্য সঙ্কটের মুখে       দাগমুক্ত উজ্জ্বল ত্বক পাবেন পেঁয়াজের রসেই!       করোনার ওষুধ আসছে কবে?       চুল পড়া রোধের কার্যকরী সাত উপায়       রাজশাহী বিভাগে একদিনে বেড়েছে ৪৩ করোনা রোগী       কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ৬       ঢাকা থেকে বাড়ি এসে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু      
লগডাউন খুলে দিন, আমরা মরতে চাই!
সুমন হোসেন জিনো
Published : Monday, 4 May, 2020 at 8:56 PM, Update: 05.05.2020 10:33:10 AM
লগডাউন খুলে দিন, আমরা মরতে চাই!মরতে যদি না-ই চাইতাম তবে কেন দিনে দু’শ’ টাকার চা বিক্রি করা জরিনার দোকানে এখন দু’হাজার টাকার চা বিক্রি হয়? বোকা পাবলিকগুলো কী সুন্দর দাঁত কেলিয়ে কেলিয়ে কাপের পর কাপ তা গিলছে রোজ। এদের কাছে কোথায় করোনা আর কোথায় কী? থোড়াই কেয়ার।
দেশে একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে সরকারি আমলা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা পর্যন্ত কেউ কিছু জানেননা; আবার চাল চুরি তেল চুরি থেমে নেই-তা চলছেতো চলছেই। সবাই চলছে সবার মতে-এমন লকডাউন দিয়ে কী হবে আসলে? অনেকটা দোকান খোলা রেখে সামনে পর্দা দেবার মতো অবস্থা! গাড়ি বন্ধ রেখে গার্মেন্টস খোলা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা! ওরা মরে মরুক তাতে কার কী? ওরা তো গরীব শ্রমিক, ব্যাপারটা এমনই আর কি! আর এতদিন যাদের শরীরে সবচেয়ে বেশি গন্ধ ছিল সেই পুলিশ আর ডাক্তারই তো দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে প্রাণপণ কাজ করে চলেছেন; আবার বেশি আক্রান্তও কিন্তু সেই তারাই। মারাও যাচ্ছেন অনেকে! এরপরও এই আমারাই কিছু থেকে কিছু হলেই তাদের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
সরকারি বা বিরোধী দলীয় নেতারা কোথায় আজ? দেশের এই ক্রান্তিকালে কাজ করতে যেয়ে তারা কতজনই বা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন? পরপর তিন বারের এমপি মহোদয়েরাতো এক বারের মাশরাফিও হতে পারলেন না! পারবেনই বা কেমন করে তাদেরতো খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছেনা; তেমনি কোনো কোনো শহরের মেয়ররা তো ভয়ে ঘরই ছাড়েননি! আবার সরকারি দলের ওয়ার্ড সভাপতির হাতে বেশ চালের কার্ড আসছে। সে কার্ড নিজের মতোই কাজে লাগাচ্ছেন। আর বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বরাতো হরদম হরিলুট করছেন।
আচ্ছা বিরোধী দল বলে কি কিছু আছে এদেশে? থাকলে তারা কোথায় আছেন? আর তাদের কাজটাই বা কী? না দেখলাম তাদের ত্রাণ কার্যক্রম, না পাইলাম তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতার কোনো বক্তব্য! বিদেশে আছেন ভালো কথা, কিন্তু দেশের এমন বিপদে প্রযুক্তির এই মহাযুগে দলীয় নেতা বা জনগণের উদ্দেশ্যে কিছু দিকনিদের্শনামূলক বক্তব্য দেয়াতো যেতো না কি?
আচ্ছা জামায়াত ইসলাম, হেফাজত ইসলাম দেশে এমন করোনার বিপদকালে মানুষের কী হেফাজত করছে? কারও কি জানা আছে? শুনেছি এদেশে দু’শ’ ৩০টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান আছে জামায়াতের, তা মানুষের কল্যাণে কী কী কাজ করলো সেই সব প্রতিষ্ঠানগুলো?
আচ্ছা দেশের বড় বড় নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল বিজ্ঞাপনে সারাদিন যে বড় বড় বুলি ছাড়ে কিন্তু দেশের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে তারা মানুষের পকেট কেটে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাবসা করা ছাড়া আর কি কোনো কল্যাণকর কাজ করেছে?
এই মুহূর্ত থেকে করোনা নিয়ে কানামাছি টেস্ট খেলা বন্ধ করুন; সাঁজানো কাগজ হাতে প্রেস ব্রিফিং না করে সঠিক তথ্য দিন। তাতে সাধারণ মানুষের সচেতনা বাঁড়বে। এমন আলখেল্লা লগডাউনের চেয়ে বরং খুলে দিন সড়ক, আকাশ ও রেল যোগাযোগ চালু করে দিন। কল-কারখানা চালু করুন, সেনাবাহিনীকে ক্যান্টনমেন্টে ফেরান আর পুলিশকে ব্যারাকে পাঠান-তাতে তারা অন্তত সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচবেন। ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করুন, অন্তত চাল চুরি বন্ধ হবে।
ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ও বৈজ্ঞানিক আমাদের সম্পদ। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন, সামনে কাজে লাগবে। আজ যদি তারা মেধার সংযোজন না ঘটাতো তবে কোথায় পেতাম ভ্যাকসিন।
স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিন। দোকানপাট হাটবাজার উন্মুক্ত করুন, করোনা ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে! আমরা ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটি নিরীহ মানুষ আক্রান্ত হই। আর যদি সেখান থেকে পাঁ কোটি মরেও যায় তবে মনে রাখবেন আপনারা পাঁচ হাজার ভিআইপিও আক্রান্ত হবেন; আড়াই হাজার ভিআইপি মারাও যেতে পারেন! কারণ করোনা কারোর মামাশ্বশুর লাগেনা! আবার চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারবেন না। সকল দেশের দরজা বন্ধ! তাই আপনাকে দেশেই চিকিৎসা নিতে হবে। কিন্তু ভেন্টিলেটর কই? এই সঙ্কটে বাঁচতে পারবেনতো? যে সংকট আপনাদেরই তৈরি করা।
লেখক : বিতার্কিক ও সংগঠক






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft