শিরোনাম: ডুমুরিয়ায় প্রভাবশালীদের কবল হতে দখল মুক্ত হলো দরিদ্র এক কৃষাণীর জমি        চাল বিতরণে অনিয়ম : ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত       রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন       সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজারে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী জব্দ        ঝিনাইদহে নবাগত পুলিশ সুপারের যোগদান       মোরেলগঞ্জে কোষ্টগার্ডের অভিযানে ৩ লাখ বাটা পোনা অবমুক্ত       ‘সুন্দরবনের সম্পদ লুটেরা আর মাদককারবারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে’       শীতকালে করোনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে : তথ্যমন্ত্রী       দিনের ভোট রাতে হবে না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেন্দ্রে আসুন : সিইসি       দেশব্যাপী পরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী      
করোনা থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্ষণ-প্রতিদিন সচেতন থাকতে হবে
অধ্যক্ষ এস এম খায়রুল বাসার
Published : Tuesday, 28 April, 2020 at 3:59 PM
করোনা থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্ষণ-প্রতিদিন সচেতন থাকতে হবেকরোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও আজ সংকটাপন্ন। দেশে ২৭ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯১৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৩১ জন, মারা গেছেন ১৫২ জন। এই লেখা পড়ার সময়, এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলা যায়। আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে ৩০ বছরের নিচে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার ৩৫%। অথচ ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত কানাডায় ৩০ বছরের নিচে আক্রান্তের হার ১৬.৬৪%। তথ্যানুযায়ী দেখা যাচ্ছে, কানাডার চেয়ে শিক্ষার্থীদের মত বয়স পরিধির মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার বাংলাদেশে বেশি। উদ্বিগ্নতা, ভয় এখানেই।
মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মিলে আমাদের দেশে প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। করোণার প্রকোপে আমাদের দেশে আগামী ০৫মে পর্যন্ত সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে তিনি এও বলেছেন, যখন করোনার প্রকোপ থাকবে না, তখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। যদিও ইতোমধ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে করোনা ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রয়োগ সফল হলে তো রক্ষা. নতুবা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে বিশ্ববাসীকে। যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক বা চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনের আগ পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, প্রতিষেধক বা চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে দেরি হলে করোনা মহামারির স্থায়িত্বকাল আরও দীর্ঘায়িত হবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  বন্ধের মেয়াদও ততটা বাড়বে।
এই দীর্ঘ ঘরবন্দি জীবন কারও ভালো লাগার কথা নয়। কিন্তু রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলমগীর বলেন, দেশে এখন করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ চলছে। তবে সেটি মৃদু পর্যায়ে। মে মাসের মাঝামাঝিতে দেশে করোনাভাইরাসের একটি পিক (চূড়া) দেখা দিতে পারে। যে কোনো ভাবে সেটি ছাড়াতে পারে তাই সাবধান থাকতে হবে।
ইতোমধ্যে আমরা জেনে গেছি, করোনা একটি সংক্রামক ভাইরাস যা একজন আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন ঔষধ আবিষ্কৃত হয়নি। ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখাই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রধান হাতিয়ার বলেছেন বিশেষজ্ঞগণ। সুতরাং সংক্রমণ রোধে এই সময়ে কোনভাবেই শিক্ষার্থীদের বাসা/বাড়ির বাইরে যাওয়া উচিত হবে না। বাসা/বাড়িতেই সাবধানে থাকতে হবে। বারবার সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গারগিল করতে হবে, কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। তিন-চারবার চা ও কফি পান করা যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার (এএমসি) করোনা প্রতিরোধে সহয়তা করতে আদা ও লবঙ্গ মিশ্রিত গরম পানি, কালোজিরা, মধু, ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলমূল খেতে পরামর্শ দিয়েছে।
যেসব খাবার খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে সেগুলো খাওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে। ভারতের সিনিয়র কনসালট্যান্ট নিউট্রিশনিস্ট নীনা সিংহ করোনা ভাইরাসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, লাউ, পেঁপে, বাদাম, আমলকী, ঢ্যাঁড়শ, পটল, কুমড়ো, গাজর, বাঁধাকপি, কলমি শাক, ক্যাপসিকাম, বরবটি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, লেবু, আপেল, শসা, দই  খেতে বলেছেন। তবে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, মুড়ি, চিঁড়ে, সুজি কম পরিমাণে খাওয়র পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে এক্সারসাইজ করারও পরামর্শ দিযেছেন। তবে মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ অন্যান্য খাদ্য ভালো করে সেদ্ধ করে খেতে হবে।
নিজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে হবে। বাসার আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র অ্যান্টিসেফটিক লিকুইড দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যে ব্রাশ দিয়ে কাপড় কিংবা ঘর পরিষ্কার করা হয় সেই ব্রাশটিও প্রতিদিন ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে ছোট-ভাইবোনদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেকোন প্রকার মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, সহপাঠি, বন্ধু-বান্ধবদের মাদক থেকে দূরে থাকতে বলতে হবে। কেননা স্যান ফ্র্যানসিসকোর ইউভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ারর গবেষকরা জানিয়েছেন, অধূমপায়ীদের তুলনায় করোনা ভাইরাসে ধূমপায়ীদের আক্রান্ত হওয়ার ও মৃত্যুঝুঁকি ১৪ গুণ বেশি। যদি জ্বর, হাঁচি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট হয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আশেপাশের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে ঠাট্টা-ইয়ার্কি বা তার সঙ্গে কখনোই খারাপ ব্যবহার  করা উচিত হবে না। এক কথায় নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, সহপাঠি, বন্ধু-বান্ধবদের সচেতন করতে হবে। পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। এই দুঃসময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় কাজ হল বেশি বেশি করে কৃষিকাজে সাহায্য করা কেননা, ফসল কর্তণ ও সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত না রাখতে পারলে করোনাকালে অথবা করোনা পরকর্তীকালে দুর্ভিক্ষের মত আরও ভয়াবহ বিপদ দেখা দিতে পারে। তবে কৃষিকাজে অংশগ্রহণ করতেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অবশ্যই মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যেতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের জন্য সপ্তাহে একদিন পরিবারের একজনকেই বাজারে যেতে হবে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জিনিস ক্রয় করে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা না করতে পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, সহপাঠি, বন্ধু-বান্ধবদের সচেতন করতে হবে। আশপাশের কোনো বাসাবাড়িতে বিদেশ থেকে বা সংক্রামিত এলাকা থেকে কেউ এসে থাকলে,  উপজেলা বা জেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা ৯৯৯ নম্বরে জানাতে হবে। তবে সচেতন করতে, তথ্য জানাতে, এক্সারসাইজ করতে, কোনভাবেই বাসা/বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। শহরে রুমের মধ্যেই এক্সারসাইজ করতে হবে। গ্রাাম হলে উঠোনে এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। অন্যদের সচেতন করার ক্ষেত্রে ঘরে বসেই মোবাইলে বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে সচেতন করতে হবে।  
বর্তমানে আবার উপসর্গ ছাড়াই করোনা পজিটিভ হচ্ছে। তাই পাশের লোকটি আক্রান্ত কিনা বোঝার উপায় থাকবে না। অন্যদিকে সুস্থ হওয়ার পরও করোনা পজিটিভ হবার খবর পাওয়া গেছে। চিনের চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই সেরে ওঠার পরপর করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছিল। কিন্তু তার ৭০ দিন পর আবার পরীক্ষা করে ফলাফল পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের ৫০-৬০ দিন পর পরীক্ষা করেই ফলাফল পজিটিভ আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সুস্থ হওয়ার পর ১৪১ জনের আবার করোনা শনাক্ত হয়েছে। আমেরিকায় ভেন্টিলেটার আছে এক লক্ষ সত্তর হাজার। ২৯ মার্চ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, আমাদের হাতে এখন পাঁচশর মতো ভেন্টিলেটর রয়েছে। আরও সাড়ে তিনশ ভেন্টিলেটর আসছে। সুতরাং একবাবে বেশি সংখ্যক লোক করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়লে চরম চিকিৎসা সংকটে পড়তে হবে আমাদের। সুতরাং শুধু সরকারের উপর নির্ভর না করে  যার যার অবস্থনে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করে করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়াসেস বলেছেন, করোনার সর্বোচ্চ রূপ দেখেনি বিশ্ব। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এখনও আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে। সুতরাং করোনা  থেকে শিক্ষার্থীদের নিজেকে রক্ষা করতে, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, সহপাঠি, বন্ধু-বান্ধব, সমাজ, দেশ-জাতিকে রক্ষা করতে, প্রতিক্ষণ-প্রতিদিন সর্বোচ্চ সচেতনতা, সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিশেষে দুশ্চিন্তামুক্ত থেকে আমরা সকলে যদি দৃঢ় মনোবল দিয়ে সচেতন থাকি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, করোনা ভাইরাস  আমাদের পরস্পরকে যতই দূরে ঠেলে দিক না কেন, মহান আল্লাহর রহমতে দ্রুত এই বিপদ থেকে আমরা মুক্তি পাব ইনশাআল্লাহ।

# লেখক: অধ্যক্ষ, পল্লীমঙ্গল আদর্শ মহাবিদ্যালয়, ইছামতি, অভয়নগর, যশোর।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft