শিরোনাম: পুলিশে নতুন আক্রান্ত ১৫২, মোট সুস্থ ১১ শতাধিক       করোনার মাঝে কাশি হলে যা করবেন       বন্ধ হবে স্যাটেলাইট, মোবাইল!       একদিনেই মৃত্যু ২১, আক্রান্ত ১১৬৬ জন       যেসব উপসর্গে চিকিৎসকরাও অবাক       বিএনপির নেতারা পুরনো বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছেন : কাদের       দিনাজপুরে ঘরে ধান তুলতে ব্যস্ত কৃষক       নারায়ণগঞ্জে আরও ১৪৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত       ভারতে ছুটে আসছে পঙ্গপালের আরেকটি বাহিনী!       ভারতে ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৬০০০সহ মোট আক্রান্ত প্রায় দেড় লাখ      
করোনা : অসহায়ের সহায় তৃতীয় লিঙ্গের পপি
চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) :
Published : Thursday, 2 April, 2020 at 5:18 PM
করোনা : অসহায়ের সহায় তৃতীয় লিঙ্গের পপিসদিচ্ছাই হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর সাহস যুগিয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের পপি খাতুনের। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার ভয়াবহতা ভিষন পিড়া দিয়েছে তাকে। তাইতো নিজের সাধ্যমত খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটছেন স্বল্প আয়ের মানুষের বাড়িতে বাড়িতে। পপির এ সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচনা চলছে। সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।
পপি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত এ এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে বাড়ির সামনে একটি ভ্যানে বেশকিছু শুকনো খাবার নিয়ে পৌঁছে যান তৃতীয় লিঙ্গের তিন-চারজন। তারা বাড়ির লোকজনকে ডেকে তাদের হাতে তুলে দেন একটি প্যাকেট। মুখে সামান্য হাসি। যে মানুষটির হাতে পৌঁছে দেয়া হলো, তার নাম শ্যামলী খাতুন। বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া পৌর এলাকার মহিরণে।
প্যাকেট খুলে তিনি দেখতে পান তার ভেতরে রয়েছে চাল, ডাল, আলু আর সাবান। মুখটা তার খুশিতে ভরে ওঠে! তিনি কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকান যারা এই খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছেন তার দুয়ারে।
শ্যামলী জানান, করোনা রোগের কারণে তার দিনমজুর স্বামী তিনদিন হলো বাড়িতে বসে। ঘরে নেই খাবার। না খেয়ে দিন পার করার মতো অবস্থা। ঠিক সেই সময় যেন দেবদূত হয়ে এলো পপি আর তার মেয়েরা। ‘আল্লাহ, ওগের আরও তৌফিক দেক; ওরা যেন গরিবির উপকার করতি পারে’- ঝরে পড়ে দোয়া, অন্তরের ভেতর থেকেই।
শ্যামলী একা নন, খাবারের প্যাকেট পেয়েছেন হাসপাতালের কর্মী চায়না খাতুন, দিনমজুর ওমর আলী, আলমগীরও।
তৃতীয় লিঙ্গের পপি এই বাঘারপাড়ার সন্তান না হলেও দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করছেন। করোনাভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি তার কোমল হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। তাই সাধ্য অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বের হয়েছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন তারই পোষ্য মেয়ে জুঁই, অজন্তা আর ইয়াসমিন।
পপি খাতুন বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি যে যার জায়গা থেকে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’ তার এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
করোনার কারণে সরকার ঘোষণা করেছে, যে যার বাড়িতে যেন অবস্থান করে। সরকারের এই নির্দেশনায় সবচেয়ে দুর্বিষহ সময় পার করছে দেশের খেটে খাওয়া মানুষেরা। যারা দিন আনে দিন খায়-সেই পেশার মানুষ এখন কর্মহীন। সরকারের জেনারেল রিলিফের দেয়া খাবারে দেশের বেশিরভাগ মানুষকে কাভার করা দুষ্কর। সেকারণে ব্যক্তিপর্যায়ে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে।
পপি খাতুনও তাদের একজন। কেবল সদিচ্ছা থাকলেই সামান্য সহায়তা নিয়েও সাধারণ মানুষের কিছুটা হলেও দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব।
পপি বুধবার দিনব্যাপী বাঘারপাড়া পৌরসভার ৭ , ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বল্প আয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়ছেন খাদ্যসামগ্রী। ভ্যানগাড়িতে করে সেই খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন তার পালিত তিন মেয়ে।
পপির এই  কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। তার প্রতিবেশী হিরু আহমেদ বলেন, ‘পপি যে এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন- তা এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।’
খাবার পাওয়া দিনমজুর ওমর আলী ও আলমগীর বলেন, ‘কাজ নেই, বাড়ি বসে আছি- সংসার চলে না। ঠিক সেইসময় পপির মতো কেউ এসে আমাদের খাবার দিয়ে যাবে, কখনোই তা ভাবিনি। আল্লাহ ওরে বাঁচায়ে রাখুক, সেই দোয়া করি।’
বাঘারপাড়া পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘পপির বাড়ি বাড়ি খাবার বিতরণের কথা আমি শুনেছি। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তার দেখাদেখি আরও অনেকে এভাবে উদ্বুব্ধ হবে বলে মনে করি।’





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft