শিরোনাম: একদিনে সুস্থ ৬৪৩, মোট ১২৮০৪       নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী       আমেরিকায় কারফিউয়ের মধ্যেই চলছে বিক্ষোভ       বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সামিল       লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন খালেদা জিয়া!       দেশে মৃত্যু ৩০, আক্রান্ত ২৮২৮ জন       যশোর থেকে গ্রেপ্তার হলেন প্রধান আসামি চেয়ারম্যান কায়েস        চৌগাছায় এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার       মেসিদের খালি গ্যালারিতে থাকবে ‘ভার্চুয়াল দর্শক’       করোনায় আক্রান্ত ও মৃতদের বিষয়ে সচেতন হতে হবে      
বিশ্বের মাত্র ১০ দেশে ৮১ ভাগ করোনা রোগী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 2 April, 2020 at 1:52 PM
বিশ্বের মাত্র ১০ দেশে ৮১ ভাগ করোনা রোগীএশিয়া মহাদেশ থেকে শুরু হলেও এখন ইউরোপের ওপর চেপে বসেছে নতুন করোনাভাইরাস। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারির শিকার ৮১ শতাংশ রোগীই মাত্র ১০টি দেশের। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে করোনার প্রকোপ চলছে কয়েকটি দেশে, যদিও তা এখনো উদ্বেগজনক নয়। আর আফ্রিকায় ভাইরাসটি তেমন সুবিধা করতে পারছে না। দক্ষিণ এশিয়াতেও এর অবস্থান বেশ দুর্বল।
বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, বিশ্বজুড়ে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩২ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত কয়েক মাসে করোনা-আক্রান্তের এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় আছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ অঞ্চলের ৮টি দেশে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৩৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন থেকে ইউরোপ ঘুরে ভাইরাসটি দক্ষিণ এশিয়ায় এসেছে। এর মধ্যে জিনগত পরিবর্তনের কারণে করোনা দুর্বল হয়েছে। এ অঞ্চলের আবহাওয়াও কাজ করেছে করোনার প্রতিকূলে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক কাশিম বুখারিসহ বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর করা গবেষণা বলছে, আক্রান্ত দেশগুলোর গড় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৪ থেকে ৯ গ্রাম। আর এশিয়ার যে দেশগুলোয় বর্ষা মৌসুম আছে, সেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়তো কম হবে। কারণ এই অঞ্চলে প্রতি ঘনমিটারে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০ গ্রাম পর্যন্ত।
আক্রান্ত শীর্ষ দেশগুলোতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সব দেশেই এক থেকে দেড় মাস পরে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার। ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ২৯ জানুয়ারি ইতালি, ৩০ জানুয়ারি স্পেন, ২৬ জানুয়ারি জার্মানি ও ২৩ জানুয়ারি ফ্রান্সে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তবে দেশগুলোতে করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চে।
ওই একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আঘাত হানে করোনা। ২৩ জানুয়ারি প্রথম করোনা-আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে নেপাল। গতকাল বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৫ জন। ২৬ জানুয়ারি করোনা শনাক্ত হয় শ্রীলঙ্কায়। এখন সেখানে রোগীর সংখ্যা ১৪৩ জন। ২৯ জানুয়ারি ভারত, ২৩ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান, ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান, ৫ মার্চ ভুটান, ৬ মার্চ মালদ্বীপ ও সর্বশেষ ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।
করোনা শনাক্তের শুরুতেই লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করে নেপাল ও ভুটান। এর ফল পেয়েছে দেশ দুটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ও ভুটানে স্থানীয়ভাবে কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি। দুই দেশের আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিদেশফেরত। ভুটানে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র চারজন। একটু দেরিতে হলেও লকডাউন ঘোষণা করে অনেকটা প্রতিরোধ করেছে মালদ্বীপ। দেশটিতে শনাক্ত হয়েছেন ১৮ জন। এ তিনটি দেশে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কেউ মারা যাননি।
তবে ভাইরাস প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে আলোচিত লকডাউনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় কিছুটা বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলো। এ কারণেই পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছে রোগীরা। গতকাল পর্যন্ত পাকিস্তানে ১ হাজার ৯৩৮, ভারতে ১ হাজার ৩৯৭, আফগানিস্তানে ১৭৪, শ্রীলঙ্কায় ১৪৩, বাংলাদেশে ৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
ভারতের পদ্মভূষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক জি পি নাগেশ্বর রেড্ডি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, চীন ও ভারতে ভাইরাসটির জিনগত বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করা হয়েছে। ইতালিতে ছড়ানো ভাইরাসের সঙ্গে ভারতে ছড়ানো ভাইরাসের ভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ভারতের ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনে কিছু কিছু জিনগত পরিবর্তন হয়েছে। স্পাইক প্রোটিনের মাধ্যমেই ভাইরাসটি মানব শরীরের কোষে সংযুক্ত হয়। ভারতের ক্ষেত্রে কম যুক্ত হয়েছে, যার অর্থ, এটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
৮১ শতাংশ রোগী ১০টি দেশের
জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির হিসাবে, এ পর্যন্ত ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত রোগীর ৮১ শতাংশ মাত্র ১০টি দেশের। এর মধ্যে ৬টি দেশ ইউরোপের এবং ৩টি এশিয়ার। তবে শীর্ষে রয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এককভাবে দেশটিতে শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬২৪ জন। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইরান, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্ক মিলে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৯ জনে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft