শিরোনাম: বোয়ালমারীতে বিষ দিয়ে খামারের তিন শতাধিক মুরগি হত্যা       দেশে ২৪ ঘণ্টায় ২৯৪৯ জনের করোনা শনাক্ত       সাহেদ যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন শাস্তি পেতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       করোনার মধ্যেও গুমের হিড়িক পড়েছে : রিজভী       ‘স্বাস্থ্যখাতের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান সক্রিয় হবে’       শিগগিরই সরকারের কুশাসনের মূলোৎপাটন ঘটবে : ফখরুল       টিটু হায়দারকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন : রিজভী       চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি       ইতালি ফেরত সেই ১৪৭ জন আশকোনা হজ ক্যাম্পে       বিক্ষোভে উত্তাল গ্রিসের এথেন্স      
এখনই মনিটরিং জোরদার করার দাবি
অস্থিতিশীল হচ্ছে যশোরে নিত্যপণ্যের বাজার
মিনা বিশ্বাস :
Published : Friday, 20 March, 2020 at 6:51 AM
অস্থিতিশীল হচ্ছে যশোরে নিত্যপণ্যের বাজারকরোনা আতঙ্কে যশোরের বাজারে নিত্যপণ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কেবল তাই না, আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কায় মানুষ জিনিসপত্র কিনছে হুমড়ি খেয়ে। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে বিক্রেতারা। প্রতিদিন বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এখনই প্রশাসনিক মনিটরিং জোরদার করা না হলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সাধারণ মানুষের। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে যশোরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। চাহিদার তুলনায় কম খাদ্যপণ্য থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে চালের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছে ক্রেতারা। মাছসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বাজার থেকে মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে হ্যান্ডওয়াশ। বিভিন্ন দোকান থেকে কোম্পানিকে অর্ডার দিয়েও মিলছে না গুরুত্বপূর্ণ এ স্যানিটেশন পণ্য।
যশোরের চালের বাজার লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। চিকন চালে কেজি প্রতি বেড়েছে চার থেকে পাঁচ টাকা। আর মোটা চালে সাত থেকে আট টাকা। বৃহস্পতিবার যশোরের বড়বাজারে প্রতি কেজি গুটি স্বর্ণা ও রতœা চাল বিক্রি হয়েছে ৩৬ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২ টাকা। অন্যদিকে প্রতি কেজি আঠাশ চাল ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলামতি (বাসমতি) ৬৫ টাকা। যা গত সপ্তাহে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়। নাজিরশাইলের দাম ৬৫ টাকা। বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চালের দাম কবে আগের মতো হবে এখনই বলা যাচ্ছে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে খুব শিগগির কমার সম্ভাবনা নেই। আরেক চাল ব্যবসায়ী মো. মানিক বলেন, যতদিন করোনার প্রভাব আছে ততদিন অন্তত চালের দাম কমবে না। মানুষ করোনার কারণে চাল বেশি কিনে ঘরে মজুত রাখছে। এ কারণে হঠাৎ করে চালের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি খোলা আটা ২৮ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকায়। লবণ প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ সপ্তাহে চিনির দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়।
বৃহস্পতিবার বড়বাজারের বিভিন্ন দোকানে হ্যান্ডওয়াশ পাওয়া যায়নি। হ্যান্ডওয়াশ না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। ক্রেতা মমতাজ বেগম বলেন, আমি কয়েকটি দোকানে হ্যান্ডওয়াশ খুঁজেছি, কোথাও পেলাম না। পরিবার নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। বড় বাজারের বিক্রেতা লিটন সাহা বলেন, তারা অর্ডার দিয়েও গত কয়েক দিনে কোনো হ্যান্ডওয়াশ দোকানে তুলতে পারেননি। কোম্পানি সাপ্লাই দিচ্ছে না।   
নিত্য পণ্যের মধ্যে রূপচাঁদা সয়াবিন দু’ লিটার বিক্রি হয়েছে দুশ’ ১০ টাকায়। পাঁচ লিটারের দাম পাঁচশ’ ১০। ফ্রেশ,বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দু’ লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে দুশ’ পাঁচ টাকায়। চারশ’ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাঁচ লিটার। ছোলার ডাল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বুটের ডাল ৪০ টাকা। মুগ ডাল একশ’ ৪০ টাকা, মসুর ডাল বড় দানা ৬০ টাকা এবং ছোট দানা একশ’ পাঁচ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এ সপ্তাহে একটু বেড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে। ছোট রসুন ৯০ এবং বড় রসুন একশ’ টাকায়। আদা প্রতি কেজি (দেশি) একশ’ ৮০ টাকা। ইন্ডিয়ান আদা একশ’ ২০ টাকা। বেড়েছে মাছের দামও। প্রতি কেজি ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয়শ’ টাকায়। যা গত সপ্তাহে সাড়ে তিনশ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি ও  বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আটশ’ থেকে এক হাজার টাকায়।
সবজির দরও ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায় । যা গত সপ্তাহে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়। শুকনা ঝাল তিনশ’ টাকা, শিম ৩০ টাকা, গাঁজর ও শসা ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, কাগুজী লেবু হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। উচ্ছে ও পটল প্রতি কেজি ৬০, বেগুন ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০, মিষ্টি কুমড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে মাংসের বাজারে দেশি মুরগি প্রতি কেজি সাড়ে চারশ’ টাকা, সোনালী দুশ’ ২০ টাকা ও ব্রয়লার পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি একশ’ টাকায়। লেয়ার মুরগী দুশ’ ১০টাকা কেজি। এছাড়া ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা থেকে ৩৩ টাকায়। গরুর মাংস প্রতি কেজি পাঁচশ’ ৮০ থেকে ছয়শ’, খাসির মাংস গত সপ্তাহে সাতশ’ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে আটশ’ টাকা কেজি দরে।
করোনার প্রভাবে বৃহস্পতিবার যশোরের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft