শিরোনাম: করোনা: বাড়ি বসে ন্যাড়া হচ্ছেন অনেকে        বিএমএ ও রেডিয়েন্ট ফার্মার করোনা প্রতিরোধ সামগ্রি বিতারণ        অভয়নগরে বধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ       খাবার পাচ্ছেন না যশোরে বস্তির হাজারও মানুষ       ঢাকা ছাড়লেন ২৬৯ মার্কিন নাগরিক       বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিলেন ডিসি       তিন দিনের জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে এক ব্যক্তির মৃত্যু       কালীগঞ্জ শহর জীবানুমুক্ত করতে সড়কে ওষুধ পানি ছেটাচ্ছেন এমপি       নড়াইলে ছিন্নমূল বৃদ্ধ ও শিশুদের মাঝে মাস্ক ও সাবান বিতরণ        চৌগাছায় দরিদ্রদের মাঝে যুবলীগ নেতার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ      
নামের অন্তরালে
কুপ থেকে ‘কুয়া’ যা থেকে আজকের ‘কুয়াকাটা’
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Monday, 24 February, 2020 at 7:16 PM
কুপ থেকে ‘কুয়া’ যা থেকে আজকের ‘কুয়াকাটা’ সাগরকন্যা কুয়াকাটার ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রায় ২’শ বছরের পুরনো ‘কুয়া’ আজ সংস্কারের মাধ্যমে উন্নত হয়েছে। আর এ কুয়ার নাম অনুসারেই স্থানটির নাম করন করা হয়েছে ‘কুয়াকাটা’। রাখাইনরা বন জঙ্গল পরিস্কার করে হিংস্র জীবজন্তুর সাথে লড়াই করে বসতি স্থাপন করে। ভিন্ন জাতি ভিন্ন ধর্মেও ঐতিহ্য নিয়ে বাঙ্গালী পরিবারের সাথে মিশে আছে যুগ যুগ ধরে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে স্বাক্ষর হিসেবে কুয়াটি আধুনিক করায়ন করা হয়েছে। কুয়াটিকে ইট দিয়ে গেতে টাইস দ্বারা সৌন্দর্য মন্ডিত করা হয়েছে। কুয়াকাটা নামকরণের পেছনে যে ইতিহাস আছে সেই ইতিহাসের সাক্ষী কুয়াটি এখনও আছে। এই কুয়াটি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে রাখাইনদের বাসস্থল কেরাণিপাড়ায়। এপাড়ায় প্রবেশ করতেই প্রাচীন এ কুয়া দেখতে পাবেন। কথিত আছে ১৭৮৪ সালে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে রাখাইনরা বঙ্গোপসাগরের তীরে কুয়াকাটা দ্বীপে এসে আশ্রয় নেয়। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় তারা এখানে মিষ্টি পানির জন্য কূপ খনন করে সে থেকে জায়গাটি ধীরে ধীরে কুয়াকাটা নামে পরিচিত হয়ে উঠে। বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্টিগুলোর মধ্যে একটি জাতি রাখাইন। পালি ‘আরাখা’ ( রক্ষ, রক্ষিত, রক্ষক) শব্দ থেকে রাখাইন শব্দটির উৎপতি। আর্য বংশোদ্ভুত রাখাইনদের প্রাচীন বাসস্থান চিল মগধ রাজ্য। পরে মগধ থেকে আরাকানে এসে স্থাপতি স্থাপন করে। পরিচিতি পায় মগধী বা মগ নামে।
মুস্তফা মজিদ সম্পাদিত আদিবাসী রাখাইন নামক গ্রন্থে জানা যায়, খ্রিষ্টপুর্ব ২৬৬৬ থেকে ১৭৮৪ খ্রিষ্টব্দে পর্যন্ত আরাকান ছিল একটি স্বাধীন ও স্বার্বভেীম রাজ্য। তারা এ রাজ্য বহুকাল রাজত্ব করত। তন্মাধ্যে চন্দ্র বংশ (৭৮৮-৯৯৪) ও ¤্রাউ বংশ (১৪৩০-১৭৮৪) অন্যতম। ¤্রাউ রাজবংশের শেষ সম্রাট থামাদা (১৭৮২-১৭৮৪) যখন আরাকানের সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন তখন  বর্মী শাসক বোধপায়া(১৭৮২-১৮১৯) এই ক্ষুদ্র রাজ্যটিকে দখল করার জন্য এক পরিকল্পনা গ্রহন করেন। সে কারনে বোধপায়া ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে আরাকান রাজ্যটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আরাকানের অধিবাসীগন বর্মী শক্্রদের তখন বাধাদেয়। তখন আরাকানারী বর্মীদের নিকট পরাজিত হন। আর সম্রাট থামাদা বর্মীদের হাতে বন্দী হয়ে প্রানদন্ডে দন্ডিত হন। তখন বর্মীদের অত্যাচারে আরাকানের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গোলযোগ জন জীবনকে বিপন্ন করে তোলে। এ সময় (১৭৮৫-১৮২৫) ১৫০টি আরাকান পরিবার ৫০টি নৌকায় যোগে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার সাগরকন্যা কুয়াকাটা দ্বীপে এসে উপস্থিতি হয় এবং ববরগুনা জেলার তালতলী , গলাচিপা উপজেলার থানার রাঙ্গাবালী দ্বীপে  বন জঙ্গল কেটে বসবাস করতে শুরু করে।
এ সব এলাকায় তখন কোন জনবসতি ছিলনা , ছিলনা  কোন পুকুর বা পানিয় ব্যবস্থা, কিংবা গভীর -অগভীর নলকুপ। গভীর অরন্যে ঘেরা এ ভাগ্য কুলের বালুচরে রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রায় ২’শ বছর পুর্বে মিষ্টি পানি বা পানিয় জলের জন্য খনন করে কুপ বা কুয়া। সেই থেকেই ঐ জনপদের নাম কুয়াকাটা বা বর্তমানে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। আওয়ামীলীগ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮সালে কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে ঘোষনা করেন। সাগনকন্যা কুয়াকাটার নাম করন করনে কুয়া খননকে কেন্দ্র করেই হয়েছে। আজ হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক কুয়াকাটার কুয়াটি দর্শন করে প্রতিদিন।  





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft