শিরোনাম: যশোরে শ্বাসকষ্টে ওসির স্বামীর মৃত্যু       কুষ্টিয়া পৌর বাজার ইসলামীয়া কলেজ মাঠে স্থানান্তর       মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ২৮৬ নাবিক করোনা আক্রান্ত       ইয়েমেনে সৌদি জোটের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা       বিনামূল্যে ২০ দেশকে করোনা মারার ওষুধ দেবে জাপান       করোনা আতঙ্কে কলারোয়ায় পানির দামে দুধ কিক্রি       সাতক্ষীরায় অহেতুক ঘোরাঘুরি করায় ২৪ ঘণ্টায় ৪০ মামলা       গোপালগ‌ঞ্জে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ২২ মামলা       দিনাজপুরের খানসামায় আগুন লেগে ২টি পরিবার ছাই        রাজশাহী কারাগারের ৫০০ কয়েদিকে মুক্তির সুপারিশ      
কুয়াকাটা ইকোপার্ক সাগরে বিলীন : পর্যটকদের প্রিয় স্পট দুই তৃতীয়াংশ নেই
এইচ, এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Monday, 17 February, 2020 at 6:53 PM
কুয়াকাটা ইকোপার্ক সাগরে বিলীন : পর্যটকদের প্রিয় স্পট দুই তৃতীয়াংশ নেই সূর্যোদয় সুর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য অবলোকনের সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় আসা পর্যটক দর্শনার্থীর কাছে আকর্ষনীয় ইকোপার্কটির দুই তৃতীয়াংশ সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। এ মুহুর্তে প্রোটেকশনের উদ্যোগ না নিলে আগামি দুই বছরে সম্পুর্ণভাবে নিশ্চিহ্নের শঙ্কা রয়েছে। সিডর আইলার মতো সুপার সাইক্লোন কিংবা বর্ষা মৌসুমের অস্বাভাবিক জোয়ারে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ইকোপার্কটি কয়েক দফায় দফায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে অভ্যন্তরীন মনোরম সাজানো লেকটির ছোট ছোট স্থাপনা। লেকটির সেতু, ঘাটলা, গোলঘর, শোভাবর্ধনের বাগান, বেঞ্চি, স্থায়ী ছাতা সব সাগর গিলে খেয়েছে। কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা এখানে এসে খুঁেজ পেতো প্রকৃতির বর্ণিল সুন্দরকে। যদিও এখন এটি শ্রীহীন হয়ে গেছে। তারপরও প্রতিদিন শত শত পর্যটক দর্শনার্থী কুয়াকাটার ইকোপার্কের খন্ডিত অংশের ঝাউবাগানে ঘুরে বেড়ায়।
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দুরে পূর্বদিকে সৈকত লাগোয়া ইকোপার্কের অবস্থান। চারদিকে ঝাউবাগানে ঘেরা ছিল। কিছুটা পর পর দেয়া ছিল একটু বিশ্রমের জন্য বেঞ্চি। তার উপরে ছিল বিশাল সিমেন্টের স্থায়ী ছাতা। ইকোপার্কটির গহীন অরন্যের মাঝখান দিয়ে একাধিক চলার পথ ছিল। ছিল ছোট্ট ছোট্ট বক্স কালভার্ট। এরই মধ্যে ছিল বিশাল মনোরম লেক। লেকের মাঝখান দিয়ে চলচলের কাঠের ব্রিজ ছিল। যা পেরিয়ে যেতে যেতে দুইপাড়ের সীমাহীন সুন্দরের বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, সৌন্দর্য বর্ধনকারী গাছের সমাহার দেখার সুযোগ ছিল। স্বচ্ছ টলমলে পানির মধ্যে বনবিভাগের ফাইবার প্যাডেল বোট ব্যবহার করত। দুইদিকেই ছিল বাঁধানো ঘাট। লেকের মধ্যে ছোট্ট টং ঘর ছিল। ইচ্ছে করলে পিকনিক পার্টির বহর ব্যবহার করতে পারত ইকোপার্ক এরিয়া। এসব এখন গল্পের মতোই রয়ে গেছে আগের দেখা পর্যটক-দর্শনার্থীর কাছে। কালের সাক্ষীর মতো ছোট ছোট স্থাপনার খুটিসহ স্ট্রাকচার বেলাভূমে দাঁিড়য়ে আছে। এসবও কোন এক উত্তাল ঢেউ কিংবা জলোচ্ছ্বাস গিলে খাবে। যাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে।
পর্যটক দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে কুয়াকাটায় ইকোপার্ক করা হয়। বনাঞ্চল ছাড়াও রয়েছে বিশাল বনভূমি ইকোপার্কের এরিয়ায় ছিল। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বন অধিদফতরের উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায়ে দুই কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করা হয়। প্রথম দফায় ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে ২১টি ধাপের মধ্যে ২০টির কাজ সম্পন্ন করতে করা হয়। পরবর্তী ধাপে করা হয় কাঠের ব্রিজ। ওই সময়ে প্রধান ফটক নির্মাণ, মেঠোপথ প্রশস্থ করণ, বক্স ও পাইপ কালভার্ট, ভূমির উন্নয়ন, গোল ঘর ও জেটি নির্মাণ, ফিডার রোড, কার পার্কিং সুবিধা, পিকনিক সেড, টিকেট কাউন্টার, এপ্রোচ রোড, বিশুদ্ধ পানির সংস্থান, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ, সিটিং বেঞ্চ, লেক-পুকুর খনন ও বাইরের বিদ্যুৎয়ন। এছাড়া ম্যানগ্রোভ ও ননম্যানগ্রোভ এবং শোভা বর্ধনকারী বাগান, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল উন্নয়নে বাগান সৃজনসহ ৪৭ হেক্টর বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়। এর বাইরে এক হাজার ৬শ’ ৬৭টি নারিকেল চারাও লাগান হয়। এসব এখন শুধু হারানো এবং স্বপ্নের অতীত।
সাতক্ষিরা থেকে কুয়াকাটা ঘুরতে আসা পর্যটক হাফসা জাহান জানান, সূর্যোদয় সুর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য অবলোকনের সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় আকর্ষনীয় ইকোপার্কটি ক্রমে ক্রমে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সরকারের উচিত  কুয়াকাটায় আকর্ষনীয় ইকোপার্কটি রক্ষা করা এখন ও সময় আছে।                
পটুয়াখালী বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো.আমিনুল ইসলাম জানান, বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের কারনে গাছের গোড়া ক্ষয়ে বালি বের হয়ে যাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ইকোপার্কটির দুই তৃতীয়াংশ সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। এজন্য পানি উন্নয়ন র্বোডকে কয়েকবার জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন র্বোড নির্বাহী প্রকৌশলী খাঁন মো. ওলিউজ্জামান বলেন, পরিকল্পনা -২ অধিনে আই, ডব্লিউ, এম, সম্ভবত যাছাই সমিক্ষা শেষ প্রতিবেদন ভিক্তিতে ডিপিপি প্রনয়ন করা হবে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft