শিরোনাম: বিদেশি মডেল দিয়ে বিজ্ঞাপন বানালে দিতে হবে বাড়তি ট্যাক্স       রোহিঙ্গাদের জন্য আরো ১৭ মিলিয়ন ডলার দেবে জাপান       শক্তিতে এগিয়ে ইরান, চ্যালেঞ্জের মুখে ইসরায়েল       ইন্টিগ্রেটিং বিমস্টেকে অংশ নিতে ভারত গেলেন বাণিজ্যমন্ত্রী       যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনবে ভারত       বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাস শনাক্তে ৫০০ কিটস দিল চীন       মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক আর নেই       কলকাতায় অমিত শাহের জনসভার অনুমতি পেল বিজেপি       ইরানে ৫০ জনের মৃত্যু সত্য নয়, প্রাণ গেছে ১২ জনের       টাঙ্গাইলে লৌহজং নদের অবৈধ দখল উচ্ছেদ শুরু      
অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রমাণিক স্যার
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে জাতিকে দিক নির্দেশনা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান
ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Saturday, 18 January, 2020 at 6:55 PM, Update: 18.01.2020 9:53:24 PM
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে জাতিকে দিক নির্দেশনা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানপ্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের প্রথমিক দিনগুলিতে আপনারা কিভাবে সংগঠিত হয়েছিলেন?
রুহুল আমিন প্রমাণিক স্যার : মার্র্চের শুরতেই রাজশাহীতে গুলি চলে। নরখাদক ইয়াহিয়ার ১ মার্চের ভাষণের প্রতিবাদে রাজশাহীর ছাত্র জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শুরু হয় মিছিলের পর মিছিল আর প্রতিবাদ সভা। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিলের প্রতিবাদে ৩ মার্চ বিশাল প্রতিবাদ মিছিল টেলিফোন এক্সচেঞ্জের সামনে আসলে পাক মিলিটারীরা গুলি চালায়। সেই গুলিতে একজন নিহত হন। মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংকের বারান্দা ও পাশের গলিতে আহত যাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁদের একজন নিজ শরীরের রক্ত দিয়ে দেওয়ালে লিখেছিলেন ‘বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। এই অবস্মিরণীয় ঘটনাটি ভুলবার নয়। এরপর থেকে বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় এবং সড়কগুলোতে পাকিস্থানী সৈন্যরা প্রায় প্রতিদিন যত্রতত্র গুলি বর্ষণ করে মানুষ হত্যা করতে থাকে। এসময় গণকপাড়া মোড়ে সন্ধ্যার আগে গুলি বর্র্ষণ করলে বেতার শিল্পী নাজমুল হুদাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁকে কোনমতে রাস্তা থেকে তুলে ইসলামিয়া হোটেলের মধ্যে আমরা নিয়ে রেখেছিলাম। পরে হাসপাতালে তাঁর পা কেটে বাদ দিতে হয়।
ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ৭মার্চ এর ভাষণে জাতিকে সার্বিক দিক নির্দেশনা দেন।“ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তর সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। রাজশাহীর সাধারণ গ্রন্থগার মাঠে ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ছাত্র ব্রিগেড গঠন করে। প্রতিদিন পিটিপ্যারেড চলতে থাকে। মহল্লায় এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কে স্বেচ্ছাসেবক লীগ মাথায় সবুজ লাল কিস্তি টুপী আর হাতে হাতে লাঠি নিয়ে মার্চপাস্ট করতে থাকে। ৯ই মার্চ রাজশাহীতে কারাফিউ জারি করা হয়। কারাফিউর নিন্দা জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এ.এই.এম কামারুজ্জামান ও ন্যাপ নেতা এম. আতাউর রহমান বিবৃতি প্রদান করেন এবং সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাগ্রত জনতাকে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান। ১১ জানুয়ারী ভুবন মোহন পার্কে আওয়ামী লীগ আহুত সভায় বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ এর ভাষণ মাইকে বাজিয়ে শোনানো হয়। উপস্থিত জনতা যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় দৃপ্ত শপথ নেয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে কোন এক অজানা আশংকার দেশের সর্বত্রই এমন সাজ সাজ রবে জাতি নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছে। ২৩ মার্চ ঢাকাসহ বাংলাদেশের জেলা শহরগুলোতে পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারী ভবনে এবং বিশি^বিদ্যালয়সহ অন্যাান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন বাংলার এই পতাকা আমরা উত্তোলন করি। এমন ঘটনার মধ্যদিয়ে বোঝা যায় জাতি অলিখিত ভাবে তার স্বাধীনতারর জন্য ভেতর ভেতর প্রস্তত ছিল। তাছাড়া পাকিস্থানের ২৪ বছর বাঙালি জাতি তার গণতান্ত্রিক নানা আন্দোলন সংগ্রামে যে ত্যাগ তিতিক্ষা প্রদর্শন করছে তার উদাহরণ এই উপমহাদেশের ইতিহাসে বিরলই বলতে হবে। এখানে কেবলমাত্র বন্দী জীবনের সম্মিলিত দিনগত হিসাব নিলেই দেখা যাবে যে, বাংলার মানুষ পাকিস্থানের ২৪ বছরে হয়তো পাঁচশ থেকে এক হাজারের বছরেরও অধিক সময় শুধু জেলই খেটেছে অথবা হুলিয়া মাথায় নিয়ে পথে প্রান্তরে ঘুরেছে। এই দিক থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসকে যারা ‘একদিনের একটি ঘোষণার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলতে চায় তাদের মনন ও চারিত্র্য যে খুবই মানবক অর্থ্যাৎ বেঁটেখাটো একথা বলাই বাহুল্য। আমার বিশ^াস, তাদের এই বক ধার্মিক বামুন কর্মটির মধ্য দিয়ে যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হয়েছে এ দেশে তার সফলতার কোনদিনই সম্ভব নয়। কেননা, বাঙলার মানুষ চিরকালই ‘জ¦লে পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়’। যাইহোক যা বলছিলাম। জাতি চেতনে অবচেতনে ভেতরে ভেতরে প্রস্তত তো ছিলই। ফলে পাকিস্তানী নরখাদক ইয়াহিয়া বাহিনী ২৫ মার্চ ঢাকাসহ সারা দেশে গণহত্যার চালালে দেশের সর্বত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ২৫ মার্চ বিকেলে রাজশাহীর ভুবন মোহন পার্কে হাজার হাজার ছাত্র জনতার সমাবেশে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল হাফিজের (পরে ন্যাপ নেতা, সংসদ সদস্য,মৃত) গ্রন্থনায় প্রতিবাদী গণসঙ্গীতের আসর অনুষ্ঠিত হয়। গ্রন্থনাটির ধারা বর্ণনায় ছিলেন ফরহাদ খান (লেখক ও প্রাপ্তন পরিচালক, বাংলা একাডেমী, ঢাকা) ও মনোয়ারা খানম (বর্তমান পরিচয় জানিনা)। গ্রন্থনটির মধ্যে রবীন্দ্রনাথের ‘বাধা দিলে বাধবে লড়াই, মরতে হবে/ পথ জুড়ে কী বড়াই, সরতে হবে’ গানটিই সকলকে আলোড়িত করেছিল। এরপর মঞ্চে একটি নাটক চলাকালে শহরে মিলিটারী নেমেছে, আক্রমণে যাবে এমন সংবাদে আমরা নাটক বন্ধ করে দিয়ে পাড়ায় মহল্লায় জনতাকে সংগঠিত হবার আহবান জানাই। সন্ধ্যা পেরিয়ে ২৫ মার্চ সারাদেশে লক্ষ চোখে আঁধার ঢেলে সংশন করার মত এক নিকষ কালো রাত নামে। এ রাতে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধুর বিশিষ্ট বন্ধু এবং প্রখ্যাত জননেতা শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানের প্রিয় সহচর সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম ভাইয়ের তরতাজা দুই সন্তান শহীদুজ্জামান সেলিম ও ওয়াসিমুজ্জামান সহ আগিনি জামাই আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট নাজমুল হক সরকার, ছোট ভাই হাসানুজ্জামান খোকা ছোট ভগ্নিপতি সাইদুর রহমান মীনা এই পাঁচজনকে পাকিস্থানী মিলিটারীরা তুলে নিয়ে যায়। এই রাতে শহরের বিশিষ্ট রাজনীতিক আওয়ামী লীগ নেত এ্যাাডভোকেট আব্দুল হাদীর বাড়ীতে তাঁকে না পেয়ে পাকিস্থানীরা তাঁর ভাই আব্দুল হককে ধরে নিয়ে যায়। ছাত্র ইউনিয়ন শহর শাখার বিশিষ্ট কর্মী আফজাল হোসেকেও ওই রাতে বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এঁদের সবাইকে সম্ভবত সেই রাতেই রাজশাহী ক্যান্টুরমেন্টে তার হত্যা করে। অন্য দিকে ১৪ অথবা ১৫ মার্চ এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম ভাইয়ের ছোট ভাই বদিউজ্জামান টুনু (বীরপ্রতীক) রাজশাহীতে পাকবাহিনীর প্রতিদিনের হত্যাযজ্ঞের মানসিকতা দেখে ঢাকায় জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামান হেনা ভাইয়ের কাছে ছুটে যান। সেই দিন প্রত্যক্ষ কোন নির্দেশনা পাবার আশায় তিনি ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিনে কামারুজ্জামান হেনা ভাইয়ের সাথে গিয়ে টুন ভাই বঙ্গবন্ধুর সাথেও দেখা করেছিলেন। এপ্রিলের শুরুতে তিনি রাজশাহীর চারঘাট দিয়ে ভারতে চলে যান। শুনেছি, মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থায় অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ এবং রাজশাহীর বেতার কেন্দ্রর জন্য ক্রিষ্টাল এর ব্যবস্থা করতে তিনি নাটোরের আওয়ামী লীগ নেতা সঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরী এবং পাবনার খালেদ লিনুকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবাংলায় মুুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখাজী এবং আরেক নেতা বিজয় সিং নাহারের সাথেও দেখা করেছিলেন। পরে ক্যাপ্টেন গিয়াসের সঙ্গে লালগোলা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগ দেন। এদিেেক ২৬  মার্চ মিলিটারীরা রাজশাহী পুলিশের ডি.আইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মামুন মাহমুদ কে কৌশলে নিজেদের কব্জায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ২৭ মার্চ দুপুর বেলা হানাদার পাকবাহিনী রাজশাহীর পুলিশ লাইনে আক্রমণ চালায়। সর্বাতœাক প্রতিরোধের যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে পুলিশ ভাইদের সঙ্গে সংগ্রামী ছাত্র জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৯ মার্চ রাজশাহীর বীর পুলিশ বাহিনীর আর এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সুপার শহীদ শাহ আব্দুল মজিদকেও একই কায়দায় অথাৎ আলোচনার নাম করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকেও ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে গিয়ে তারা হত্যা করে। পুলিশ ভাইদের সাথে রাজশাহী শহরের পশ্চিম অংশের সর্বদলীয় ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক ব্যাক্তিবর্গ এই প্রতিরোধ যুদ্ধে আপামর জনতাকে সংগঠিত করেন। এঁদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান গামা ( মুক্তিযোদ্ধা ও গীতিকার), সাইদুর রহমান (মক্তিযোদ্ধা কমান্ডার), প্রখ্যাত বাাম ছাত্রনেতা মহসীন আলী (মৃত), ডাঃ আব্দুর রশীদ টুকু (মুক্তিযুদ্ধকালীন সহকারী মেডিকেল অফিসার), শরীফ উদ্দিন (মুক্তিযোদ্ধা), নজরুল ইসলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ), আমিরুল ইসলাম (সহকারী রেজিষ্টার, রা.বি, মৃত), মোঃ মযাহারুল ইসলাম (ব্যবসায়ী), শফিকুর রহমান বাদশা (অধ্যক্ষ, রাজশাহী কোট কলেজ), আফজাল হোসেন ছবি (মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা) অবসর প্রাপ্ত সৈনিক বেসারত হোসেন, আবু তালিব (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ), মোঃ হেলেন (মুক্তিযুদ্ধো শহীদ), আলাউদ্দিন শেখ ভুলু (মুক্তিযোদ্ধা), আবু আল বাশার, ওস্তাদ হানুনর রশীদ (মুক্তিযোদ্ধা), নূরুল আমিন, আজিজুর রহমান, আখতার হোসেন আপ্পু এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দেও মধ্যে মোঃ মনিরুজ্জমান (এ্যাডভোকেট আব্দুস সালামের ভাই), আব্দুর রহমান (মৃত), আব্দুর রাজ্জাক (মৃত), আবু সুফিয়ান প্রমুখরা ছিলেন উল্লেখ যোগ্য। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে মধ্যে শহর সহ পূর্ব ও উত্তরাংশে সে সময়ে যাঁরা সক্রিয় ভাবে জনতাকে সংগঠিত করেছিলেন তাঁরা হলেন আব্দুর রাজ্জাক (এ্যাডভোকেট), আবুল হাসনাত মোঃ জামেউদ্দিন (শিক্ষক মৃত) মঞ্জুরুল হক (এ্যাডভোকেট) মোস্তাফিরুর রহমান খান আলম (সাংবাদিক), ডাঃ এমদাদুল হক (মুক্তযুদ্ধ কালীন মেডিকেল অফিসার) আনোয়ার আলী দীপু (ডাক্তার, মুক্তিযোদ্ধা), মাহতাব উদ্দিন (মুক্তযোদ্ধা, সাংবাদিক), মাহফুজুর রহমান খান (মুক্তিযোদ্ধা), জাহাঙ্গীর হোসেন (মুক্তিযোদদ্ধ, মৃত) নুরুল ইসলাম মতিন (মুক্তিযোদ্ধা), মীর ইকবাল (মুক্তিযোদ্ধা), আব্দুস সাত্তার (মুক্তিযোদ্ধা, শ্রমিক নেতা), আব্দুল খালেক দুলাল (মুক্তিযোদ্ধা, মৃত), আব্দুল কুদ্দুস (প্রাক্তন মন্ত্রী), আশরাফা আলী (প্রাক্তন অধ্যাপক ভুগল বিভাগ, রাবি), মতিউর রহমান (মুক্তযোদ্ধা, এ্যাডভোকেট), চৌধুরী খুরশীদ বিন আলম (ছাত্রলীগ নেতা)শফিকুর রহমান রাজা (মুক্তিযোদ্ধা) নূও হামীম রিজভী(বীর প্রতীক), ফরহাদ আলী (মুক্তযোদ্ধ), মোহাম্মাদ আলী (মুক্তযোদ্ধা) এ.কে.এম জাহাঙ্গীর (মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক),মাহমুদ জাজাল কাদেরী (মক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক), মতিউর রহমান মতি (মুক্তিযোদ্ধ,  প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার, ঢাকা), চৌধুরী আব্দুর মালেক (মুক্তিযোদ্ধা), ফেরদৌস দৌলা (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ), নাসরুল হুদা বাচ্চু (মুক্ত যোদ্ধা, মৃত), আলীমুজ্জামান আলো (মৃত), মোঃ শরীফ, নওশাদ, প্রিন্স, স্বপন, মুকুল  (পশকার), সিকান্দার আবু জাফর (মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক), সাইদুল ইসলাম (মুক্তযোদ্ধা, এ্যাডভোকেট, রাজশাহী) বরজাহান আলী (মুক্তিযোদ্ধা) নূরুন নবী (মক্তিযোদ্ধা শহীদ), আাবুল করিম (মুক্তিযোদ্ধা, ডাক্তার, ঢাকা), ফেরদৌস দৌলা (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ) সিরাজুল ইসলাম (মুক্তিযোদ্ধে আহত) খাইরুলল আনম নোমান (ব্যবসায়ী, ঢাকা) আব্দুর রউফ মানিক (মুক্তযোদ্ধা,মৃত) আ.হ.ম সফিউদ্দিন সাদী (মুক্তিযোদ্ধা, মৃত) প্রশান্ত কুমার সাহা (সাংবাদিক, নাট্যব্যক্তিত্ব) কানুুমোহন গোম্বমী (সঙ্গীত শিল্পী), অসিতকুমার সেন (এ্যাডভোকেট, রাজশাহী) গোলাম সামদানী তারেক (মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা) জালাল উদ্দিন (ছাত্র ইউনিয়ন নেতা), টুকু মহুরী (আওয়ামী লীগ নেতা, মৃত) আমজাদ বাঙ্গালি (প্রক্তন কমিশনার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন), মোঃ শরীফউদ্দিন বাঙ্গালী (মুুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা), আলাউদ্দিন শেখ (মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা), রায়হানুল হক মন্টু (মুক্তিযোদ্ধা, উন্নয়নকর্মী), আলী মনসুর (মুক্তযোদ্ধা), আব্দুর রহমান মাস্টারর (মুক্তিযোদ্ধা, হেতেমখাঁ), আব্দুর রশিদ (মুক্তিযোদ্ধা, মৃত) মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মেদ বাবু (মৃত রাজাহাতা), এমদাদুল হক বাবু (মুুক্তিযোদ্ধা মৃত), গোলাম মোরশেদ বকুল (মুক্তিযোদ্ধা), আবুল হানাত বেগ (মুুক্তিযোদ্ধা, এ্যাডভোকেট), সারওয়ারুল ইসলাম বলেট (মুক্তিযোদ্ধা,এ্যাডভোকেট, মৃত) সারওয়া-ই-কামাল স্বপন (মুক্তিযোদ্ধা, উন্নয়ন কর্মী), আশরাফ আলী (করনিক, জেলা প্রশাসন রাজশাহী), এবং আরো অনেকে। এমন গণপ্রতিরোধে সর্বস্তরের মানুষের অংশ গ্রহণ ছিলো অনিবার্য। অতএব রাজশাহীর এই প্রতিরোধ যুদ্ধে আরো অনেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গের নাম এখানে আমি উল্লেখ করতে পারলাম না বলে দুঃখিত। তবে বলে রাখা ভাল মুক্তিযুদ্ধ কেবল মাত্র কিছু মানুষের মুক্তিযুদ্ধ ছিলনা। শত সহ¯্র মানুষ প্রতিদিন এতে অংশ গ্রহণ করেছে। আমি কেবল কিছু ব্যাক্তিবর্গেও কথা বললাম। আরো অনেকে এ বিষয়ে বললে একটা সামগ্রিক ইতিহাসই হয়তেতা উঠে আসবে। মুক্তিযুদ্ধে ৭নং সেক্টর এর ৪নং সাব সেক্টও কমান্ডার বীর সেনানী ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (বীর কিক্রম) এর নেতৃত্বে তৎকালীন ই.পি.আর পুলিশ, আনসার এবং ছাত্র জনতার মুক্তিবাহিনী নওগাঁ থেকে রাজশাহীর অভিমুখে অগ্রসর হয়।
অন্যদিকে রাজশাহীর ক্যাডেট কলেজ এর ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদ সরদাহ পুলিশ একাডেমীর পুলিশ ও ইপি আর বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য ভাইয়েরা সহ ছাত্র শিক্ষকদের আর একদল পুক্তিবাহিনী নিয়ে রাজশাহীর দিকে অগ্রসর হন। এর আগে ২৬ মার্চ রাতেই রাজশাহীর চারঘাট থানার তৎকালীন ই.পি আর এর নায়েক সুবেদার সিরাজ উদ্দিন লস্কও চিলমারী ও আলাইপুর বি.ও.পি’র বাঙালি জোনাদের নিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেন। তিনিও ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদের মুক্তি বাহিনীর সাথে যুক্ত হন। পাকিস্তানী বাহিনীর গতিরোধে এই দলের একটি অংশ আড়ানী ব্রীজের কাছে অবস্থান গ্রহণ করেন। ৩১ মার্চ সস্মিলিত বাহিনীর একটি অংশ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত হয়। শহরের যত্রতত্র পাকবাহিনীর চলাচলকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয়। এসময় ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (বীর বিক্রম) তাঁর বাহিনী নিয়ে রাজশাহীর শহরে এসে উস্থিত হলে মুক্তিযোদ্ধারের শক্তি ও সাহস দ্বিগুণ বেড়ে যায়। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের লক্ষ্য ছিল রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট। এ সময় ক্যাপ্টেন গিয়াস রাজশাহীর স্টেশনের পাশে বিহারী কলোনীতে পাকবাহিনীর সরববহকৃত অন্ত্র দখল করার জন্য নয়েক সুবেদার সিরাজউদ্দিন লস্করের নেতৃত্ব একদল মুক্তি বাহিনীকে পাঠিয়েছিলেন। এই অভিযানে কয়েকজন বাঙালী সেপাই এর সঙ্গে আদিবাসী সাঁওতাল যুবকরাও অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা যুদ্ধ করে বিহারী কলোনী অচিরেই অস্ত্র মুক্ত করেন। ক্যাপ্টেন গিয়াস এর নেতৃত্বে সংগ্রামী প্রতিরোধ যোদ্ধারা রাজশাহীর ৭ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন। এই বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ যুদ্ধে ক্যাপ্টেন গিয়াসের নিয়োজিত কোম্পানী কমান্ডার অধ্যাপক এ.বি. সিদ্দিকী (বীর বিক্রম) ও বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা শাহদাৎ বরণ করেন। আমাদের মুক্তি বাহিনী ১৪/১৫ এপ্রিল অবরেরাধ ছেড়ে পিছু হঁটে যায়।
আমি আর আমার চাচা আলী আকবর প্রমাণিক ৩১ মার্র্চ ১৯৭১ পরিবার পরিজনদের শেল্টারের ব্যবস্থা করতে আব্দুলপুর যাই। ৩ এপ্রিল ১৯৭১ সেখান থেকে ফেরার পথে চারঘাট বানেশ্¦ররের রাস্তায় হাজারো পরিবারকে দিগবিদিক ছুটে যেতে দেখেছি। সেদিন বিমান থেকে হানাদার পাকিস্থানীরা গুলি চালাচ্ছিল। একবার তো রাস্তায় আমাদের উপর গুলির ঠা ঠা নড়াই হবার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে সাইকেল নিয়ে পাশের নয়ানজুলিতে ঝাঁপিয়ে পড়ায় দুু’জন কোন মতে প্রাণে বেঁচে যাই। আম বাগানের ছত্রছায়া নিজেদের আড়াল করি। এসময় থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে বেশ কয়েকজন প্রতিরোধ যোদ্ধাকে আমারা দেখছিলাম রাস্তা ছেড়ে আবাদী ফসল ঝোঁপঝাড় আর বাগানের আড়াল নিয়ে বানেশ^র অর্থাৎ রাজশাহীর দিকে যেতে। এঁদের মধ্যে মুহম্মাদ শামসুল আলম (বীর প্রতীক)কে (প্রফেসর, ভুগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ,, রা.বি) আমি বিশেষ ভাবে চিনতাম। তাঁর সঙ্গে সেই দিন আমার কথাও হয়। মনে পড়ে এঁদের একজনের কাছে (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এ.বি. সিদ্দিকী, বীর বিক্রম) আমি একটা বাইনোকুলার দেখেছিলাম যেটা আমাদের ৪নং সাব সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন গিয়াসের কাঁধে প্রায় সময় থাকতো। পাকিস্থানী বিমানের তড়পানি আর না দেখতে পেয়ে আমরা আবার রাস্তায় উঠি। এসময় একটি টমটম গাড়িতে (ঘাড়ার গাড়ি) জননেতা এম. আতাউর রহমাননের স্ত্রী মনোয়ারা ভাবীকে ছেলেমেয়ে সহ চারঘাটের দিকে যেতে দেখি। তাঁদের থামালে সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ্যাডভোকেট বীরেন্দ্রনাথ সরকার (ন্যাপ নেতা) ও সরেশ পান্ডেকে (পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার ) হত্যা করার কথা ভাবীর মুুখে জানতে পাই। জননেতা এম আতাউর রহমান আতা ভাই আগেই বাড়ী ছেড়েছেন। সে দিন সকালে  আমার বড় ভাই মহসীন প্রামাণিক অন্যান্য ভাইবোনদের নিয়ে ইন্ডিয়া পাড়ি দিয়েছেন।। এসব কথা ভাবীই আমাকে জানান। উনি আমাকে রাজশাহী ফিরতে  নিষেধও করেন। তারপরও কোনমতে রাজশাহী সাহেব বাজারের বাড়িতে এসে বাবা মা দের পাই। এদিন বাবা আমাদের দু’জনকেও ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেন। বানেশ^র থেকে ফেরার সময় শহরের দু’ একটি জায়গায় ধোঁয়া এবং আগুন দেখেছিলাম। ইন্ডিয়া যাবার পথে পদ্মার চরে নেমে শহরের চতুর্দিকে সে আগুন আর ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখে মনে হয়েছিলল হানাদাররা বুঝি সম্পূর্ণ রাজশাহী শহরকেই জ¦লিয়ে দেবে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft