শিরোনাম: নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ’শ’ সদস্য        কুকীর্তির সংবাদ আড়াল করতে আল-আমিন পার্ক ও পূরবী সিনেমা হল মালিকের কাজ       পেট্রাপোলে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকের অর্ধেক পিঁয়াজ পঁচে গেছে       চারদিন ধরে নিখোঁজ ঝিনাইদহের কলেজছাত্র সুজন       কয়রায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষন কর্মশালা       রামপালে বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা       পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে       ভারত সীমান্তে যেতে হচ্ছে, ‘প্রাণভয়ে’ হাউহাউ করে কাঁদছে চিনা সেনা!       রাণীনগরে পুলিশ পাহারায় বিএনপি’র বর্ধিত সভা        ‘পদ্মাসেতুর সংযুক্ত রেললাইন খুলে দেয়া হবে ২০২১ সালে ’      
শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক এমএ সাঈদের ছেলে আলমগীর ফুটপাতে চা বিক্রেতা
ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Sunday, 15 December, 2019 at 6:10 AM
শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক এমএ সাঈদের ছেলে আলমগীর ফুটপাতে চা বিক্রেতাফুটপাতে চা বিক্রি করেন রাজশাহীর শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক এমএ সাঈদের দ্বিতীয় ছেলে এসএম আলমগীর বাবলু। তার চায়ের স্টল নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় যে ভাতা পান তা ১৩ ভাইবোনের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। ফলে বাবলু পরিবার নিয়ে এখনো অসহায় জীবনযাপন করছেন।
তিনি আগে রিকশা চালাতেন আগে। বাবাকে নিয়ে বলেন, ‘বাবা কৃষি বিভাগে চাকরি করতেন। সাংবাদিকতা করতেন। নাটক করতেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ভুবন মোহন পার্কে স্বাধীনতার পক্ষে যেসব মিছিল-সমাবেশ হতো, উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিতেন সেখানেও। ওই মিছিলে জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনাসহ থাকতেন অনেকেই। তারা আমাদের বাসায়ও আসতেন। মায়ের গরুর মাংস রান্না পছন্দ করতেন খুব। ওনাদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল আমাদের।’
চোখ দুটি সম্ভবত একটু ভিজে উঠল বাবলুর, ‘জানেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জুন মাসের মাঝামাঝিতে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। তখন ষষ্ঠীতলা এলাকার একটি বাড়িতে থাকতাম আমরা। খান সেনাদের একটি বড় গাড়ি এলো একদিন। তারা উন্দুতে বলল, ‘এই লাড়কা, সাঈদ রির্পোর্টার ক্যা মাকান কিধার হ্যায়?’ আমাদের বাসা না দেখিয়ে তখন আমি ইউনিক টেইলারের মালিকের বাসা দেখিয়ে দিলাম। গাড়ি ওই দিকে চলে যাচ্ছিল। হঠাৎ এক পিস কমিটির সদস্য পড়ল সামনে। তাকে এতই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল, ‘সাঈদ রিপোর্টার ক্যা মাকান কিধার হ্যায়?’
ভয়ে মসজিদের পাশে লুকিয়ে গেলাম আমি। দেখছি সবকিছু। আটজন খান সেনা বাড়ি ঢোকে আমাদের। আমার চোখের সামনেই গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বাবাকে। বাড়িতে এসে দেখলাম মা কাঁদছেন। জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, খান সেনারা মোহন পার্কের মিছিলের ছবি দেখিয়ে বাবাকে বলল, ‘এটা কার ছবি?’ আব্বা উত্তর দিলেন, ‘এটা আমার ছবি।’ খান সেনারা বলল, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আপনারা কেন এসব করছেন? মেজর পারভেজ আপনাকে ডেকেছেন, সার্কিট হাউসে যেতে হবে।’শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক এমএ সাঈদের ছেলে আলমগীর ফুটপাতে চা বিক্রেতা
বাবার সহযোগী স্টার স্টুডিওর মালিক মোতাহার হোসেন, ঘড়ি ঘরের মালিক নাসির আহমেদ বাবাকে খুঁজতে বের হলেন তারপর। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজলেন, পেলেন না কোথাও। কিছু দিন পর শাহ মখদুম ইনস্টিটিউটের পিয়ন কাদের মিয়া এসে আমাদের জানালেন- ‘সাঈদ ভাইকে আর খুঁজবেন না। ওনাকেসহ ১৩ জনকে জোহা হলে খান সেনারা গুলি করেছে। সেখানে আমিও ছিলাম। গুলি লাগার আগেই আমি মাটিতে পড়ে যাই। মরার ভান করেছিলাম। খান সেনারা ভেবেছে আমিও মরে গেছি। তারপর সবাইকে গর্তে ফেলে দেয়। খান সেনারা চলে গেলে আমি লাশভর্তি গর্ত থেকে পালিয়ে আসি।’তখন থেকে বাবলুরা জেনেছেন তাদের বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলের বধ্যভূমিতে আছেন। সেখানকার শহীদদের নামের তালিকায় নাম রয়েছে আমার বাাবার নাম।
বড়ই অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছেন এখন বাবলু। সংসার আর চলে না। চার ছেলে ও চার মেয়েকে নিয়ে চরম অভাব-অনটনে বাস তার। আগে রিকশা চালাতেন। শিরোইল বাস টার্মিনালের সামনের ফুটপাতে চা বিক্রি করেন এখন। মাঝে মাঝেই ফুটপাত উচ্ছেদ হয়। বেকার হয়ে পড়েন তখন।
বাবলু আরও বলেন, ‘শহীদ সাংবাদিকের ছেলে হলেও আমার কোনো নিজস্ব ঘরবাড়ি নেই। মালদা কলোনিতে দুটি রুম ভাড়া নিয়ে বসবাস করি। প্রতিমাসে ভাড়া লাগে চার হাজার টাকা।স্টল চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাড় হয় না। তাই টাকার অভাবে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। তারাও এখন আমার সঙ্গে ফুটপাতে চা বিক্রি করে। তাদের চাকরি দরকার। কিন্তু কে দেবে?’
তিনি জানান, দেশ স্বাধীনের সময় এমএ সাঈদ ছিলেন তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। রাজশাহীতে আর্ট কাউন্সিল বর্তমানে পদ্মা মঞ্চ ও রাজশাহী প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন তিনি। রাজশাহী বেতার প্রতিষ্ঠাকালে বাংলা খবর পাঠক ও অভিনেতা ছিলেন। তিনি শহীদ হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু তার পরিবারকে সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং একটি সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। পরে সার্টিফিকেটটি হারিয়ে যায়। সুত্র- ইউনিভারসেল





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft