শিরোনাম: জিয়া বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না : শেখ সেলিম       ন্যায় বিচার না পেলে রাজপথে নামবে আইনজীবীরা : খন্দকার মাহবুব       এগিয়ে আসতে পারে পুরভোট, দলকে প্রস্তত থাকার বার্তা পিকের       ভারত থেকে ৩১ বছরের ‘পুরনো’ সাবমেরিন নিচ্ছে মিয়ানমার       আমরা বঙ্গবন্ধুর কোনো সমালোচনা করবো না : জিএম কাদের       বুধবার সুপ্রিম কোর্টে হায়দরাবাদ এনকাউন্টার মামলার শুনানি       দলীয় সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ চাইলেন গয়েশ্বর       ফুঁসে উঠেছে আগ্নেয়গিরি, নিহত ৫       শেখ হাসিনা যত সফল হচ্ছেন চক্রান্ত তত গভীর হচ্ছে : নাসিম       কানাডার বিশেষ দূত বব রে হেগে পৌঁছেছেন      
সিঙ্গাড়া বিক্রি করে ৪ বছরেই কোটিপতি দম্পতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Friday, 22 November, 2019 at 5:04 PM
সিঙ্গাড়া বিক্রি করে ৪ বছরেই কোটিপতি দম্পতিনিধির বরাবরই ইচ্ছা ছিল মার্কেটিংয়ের চাকরি করার। সেজন্য তিনি ভর্তি হন ভারতের হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি বিষয়ে। আর পড়ার সময় নিধি এবং শিখর সিংহের পরিচয়। সেখানেই প্রেম। পড়াশোনা শেষ করে একটি মার্কিন সংস্থায় মার্কেটিং এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্টের চাকরিও পান তিনি।
আর বায়োটেকনোলজি নিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করতে শিখর যান হায়দরাবাদ। সেখানেই প্রথম উপলব্ধি করেন, ন্যায্য মূল্যে স্বাস্থ্যকর খাবার কোথাও নেই, মানুষের ভরসা তাই স্ট্রিট ফুড।
সেটা ছিল ২০০৭ সাল। তার সিঙ্গাড়া কিয়স্ক খোলার ইচ্ছার কথা নিধিকে জানান তিনি। কিন্তু তখন ব্যবসা শুরুর প্রয়োজনীয় টাকা ছিল না। ২০০৯ সালে শিখর বায়োকন কোম্পানিতে যোগ দেন। এর দু’বছর পর বিয়ে করেন নিধি-শিখর।
সংসার, চাকরি— সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু শিখরের মনের কোণে সেই সিঙ্গাড়া কিয়স্ক রয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই দু’জনের মধ্যে এটা নিয়ে কথা হত। এর অনেক বছর পর, ২০১৫ সালে অবশেষে দু’জনে ব্যবসাটা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
শিখর তার পরদিনই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন আর নিধি কোম্পানিতে কথা বলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম-এর ব্যবস্থা করে ফেলেন। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে ফ্ল্যাটের কাছেই ছোট একটা ঘর ভাড়া নিয়ে সিঙ্গাড়া বিক্রি শুরু করেন তারা। রাঁধুনিও রেখেছিলেন। কিয়স্কের নাম হয় ‘সামোসা সিংহ’।
নিধি-শিখর দু’জনই স্বাস্থ্যকর দিকটা নজর রেখেছিলেন প্রথম থেকেই। সিঙ্গাড়া খেলে যেন আঙুলে তেল লেগে না থাকে, সে দিকে বিশেষ নজর ছিল তাদের। দামটাও রেখেছিলেন নাগালের মধ্যে। ২০ টাকায় দুটো আলু সিঙ্গাড়া আর ৫৫ টাকায় দু’টো অর্থাৎ এক প্লেট চিকেন মাখানি সিঙ্গাড়া। এছাড়া, চকোলেট সিঙ্গাড়াও বিক্রি শুরু করেন তারা। পাশাপাশি হোম ডেলিভারিও চলছিল।
ক্রমে দিনে তাদের ৫০০টা করে সিঙ্গাড়া বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু এবার আরও বড় কিছু করার সময় এসে গিয়েছিল। নিধি এবং শিখর করপোরেট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। জার্মানির ইঞ্জিনিয়ারিং জায়ান্ট ‘দ্য কোম্পানি’ তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। ৮ হাজার সিঙ্গাড়ার অর্ডার দেয় তারা
ব্যবসাটাকে বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার এটাই ছিল সেরা সুযোগ। কিন্তু সমস্যা ছিল অর্থের। ঝুঁকি নিয়ে নিধি এবং শিখর তাদের ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেন। সেই টাকা ব্যবসায় নিয়োগ করেন। একটা বড় রান্নাঘর কিনে তৈরি করেন তারা।
সিঙ্গাড়া যাতে খারাপ না হয়ে যায়, ভিতরের পুরটাও যাতে ডেলিভারির দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে, সে রকম অভিনব কিছু ব্যবস্থা করেছিলেন শিখর এবং তার রাঁধুনি। হাইজিন বজায় রাখার জন্য সিঙ্গাড়ায় কোনও প্রিজারভেটিভও দেওয়ার তীব্র বিরোধী ছিলেন তারা।
এরপর আইনক্স, পিভিআর, ক্যাফে কফি ডে, টিসিএস সমস্ত জায়গায় ক্রমে তাদের নিজের আউটলেট খোলা হয়। বেঙ্গালুরুতে তাদের ৭টা আউটলেট রয়েছে বর্তমানে।
ব্যবসা আরও বাড়ানোর জন্য নিধি সিঙ্গাড়া উৎসবের আয়োজন করেন। বিভিন্ন করপোট কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান। উৎসবে সিঙ্গাড়া খেয়ে অনেকেরই ভাল লেগে যায়। তারা তাদের সংস্থায় ‘সামোসা সিংহ’-এর আউটলেটের ব্যবস্থা করেন।
ব্যবসা যত বাড়তে থাকে আরও উন্নত রান্নাঘর ও সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তার জন্য প্রয়োজন ছিল আরও অর্থের। এবার আর নিধি-শিখরের পক্ষে বিনিয়োগ করা সম্ভব ছিল না। কোনও বিনিয়োগকারীর খোঁজ শুরু করেন তারা।
তারা খোঁজ পান কানওয়ালজিৎ সিংহ নামে এক বিনিয়োগকারীর, যিনি ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। নিধিকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন শেখর। অনেক চেষ্টায় কানওয়ালজিতের ফোন নম্বর জোগাড় করলেও, তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তারা।
নিধি এতটাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে, ঠিকানা জোগাড় করে কানওয়ালজিতের বাড়ির সামনে হাজির হন। কিন্তু দু’দিন অপেক্ষা করেও তার সঙ্গে দেখা হয়নি নিধির। দু’সপ্তাহ পর ভাগ্যবশত ফোনে যোগাযোগ হয় তার।
নিধি এবং শিখরের অফুরন্ত এনার্জি এবং ব্যবসার প্রতি ডেডিকেশন ভাল লেগে যায় কানওয়ালজিতের। বিনিয়োগ করতে রাজিও হয়ে যান তিনি।
বর্তমানে দিনে ১০ হাজার সিঙ্গাড়া তৈরি করে ‘সামোসা সিংহ’। সমস্ত আউটলেটে ফ্রোজেন সিঙ্গাড়া চলে যায় রান্নাঘর থেকে। গ্রাহককে সরাসরি গরম গরম ভেজে দেওয়া হয়।
শিখর-নিধির পরবর্তী লক্ষ্য বেঙ্গালুরুতেই প্রতিদিন ৫০ হাজার সিঙ্গারা বিক্রি করা। বেঙ্গালুরুর বাইরে হায়দরাবাদেও তাদের আউটলেট চালু হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি পুনেতেও তাদের আউটলেট চালু হবে বলে আশা করছেন তারা।
ব্যবসায় নতুনত্ব আনার চিন্তা সব সময়ই করে চলেন তারা। কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, আরও নতুন কী চালু করা যায়, প্রতিনিয়ত ভেবে চলেছেন তারা।
বর্তমানে ‘সামোসা সিংহ’-এর ব্যবসার পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। এই আর্থিক বছর তা বেড়ে ৮ কোটি হবে বলে আশা শেখর-নিধি দম্পতির। সূত্র: আনন্দবাজার




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft