শিরোনাম: আত্মমানবতার সেবায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইচ্ছাপূরণ       ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘মুখোশ উন্মোচনের’ হুংকার শাজাহান খানের       দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক অঙ্গীকার পেয়েছি : টিআইবি       খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার : রিজভী       পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই : উ. কোরিয়া       হট্টগোলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ       আমরা চমক সৃষ্টি করতে পেরেছি : এলজিআরডি মন্ত্রী       তাপস বলার কে, প্রশ্ন দুদক চেয়ারম্যানের       মামলা লড়তে হেগের উদ্দেশে সু চি       ‘রিটার্ন দাখিলে বাধ্য করা হবে’      
পেঁয়াজ কেজি ২০০
এম. আইউব :
Published : Friday, 15 November, 2019 at 6:38 AM
পেঁয়াজ কেজি ২০০যশোরে পেঁয়াজের কেজি দুশ’ টাকা ছুঁয়েছে। কোথাও কোথাও দুশ’ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনিক তদারকির অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। এই অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদেরও। সবমিলিয়ে পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা এ নৈরাজ্যের শেষ কোথায়।
লাগামহীন হয়ে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার। মাত্র একদিনের ব্যবধানে যশোরে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। হতাশ অনেক বিক্রেতাও। ক্রেতাদের অভিযোগ, যশোরে পেঁয়াজের বাজারে তেমন কোনো তদারকি নেই। প্রশাসন নামকাওয়াস্তে বাজার পরিদর্শন করছে। বেশ কয়েকদিন ধরে সরেজমিন বাজার পরিদর্শন করে তারই সত্যতা মিলেছে।
যশোরের বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও রেলবাজারে খোঁজ নিয়ে প্রশাসনের পেঁয়াজের বাজার তদারকির তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ দোকানি বলেছেন প্রশাসনের কোনো লোকজন তাদের কাছে যায়নি। আবার কেউ কেউ বলেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একবার তাদের কাছে যাওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা তাদের কাছে গিয়ে কত টাকায় বিক্রি করেছেন কেবল তাই শুনেছেন। গত কয়েক মাসে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে কারো কোনো জরিমানা করা হয়নি। তার মানে প্রশাসনের কাছে যশোরে অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না বলে ধারণা-এমন মন্তব্য ক্রেতাদের। আহসান আলী নামে একজন ক্ষুব্ধ ক্রেতার বক্তব্য, অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অহরহ অভিযান চালায়। আদায় করে বিভিন্ন অংকের জরিমানা। অথচ গত কয়েক মাসে কোনো পেঁয়াজের আড়ৎ কিংবা দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়নি। নূর ইসলাম নামে আরেকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন যদি একজন বিক্রেতাকেও জরিমানা করতো তাহলে অন্যরা অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে ভয় পেত। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি হলো না। ফলে, নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
যশোরের বড় বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা উদয়, সায়েম ও সলেমান জানান, প্রশাসনের কোনো লোকজন তাদের কাছে যায়নি। হাটখোলা রোডের বাদশা ও মোহাম্মদ আলী নামে দু’জন বিক্রেতা বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা একবার তাদের কাছে গিয়েছিলেন। তারা কেবল চালান দেখে চলে যান।
কথা হয় চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পেঁয়াজ বিক্রেতা স্বপন সাহা, মকবুল হোসেন ও মোহাম্মদ আলমের সাথে। তারা বলেন, কর্মকর্তারা সেখানে গিয়েছিলেন আড়তের সন্ধানে। এই বাজারে কোনো আড়ৎ না থাকায় চলে যান।
বুধবার যশোরে পেঁয়াজ বিক্রি হয় একশ’ ৬০ টাকায়। সেই পেঁয়াজ মাত্র একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ দোকানে দুশ’ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। তবে, দু’ একটি দোকানে দুশ’ ২০ টাকা দরেও পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এমনই একটি দোকান চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের সিরাজ স্টোর। এই দোকানের মালিক মামুন দুশ’ ২০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আড়তদার বেলা তিনটার সময় বলেন, গতকালই মোকামে দুশ’ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। সেই পেঁয়াজ যশোরের মার্কেটে আসলে দাম আরও বাড়বে।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা বুধবার একশ’ ৪০ টাকায় কিনে একশ’ ৬০ টাকায় বিক্রি করেছে, তারাই সেই পেঁয়াজ গতকাল দুশ’ টাকায় বিক্রি করে। বিক্রেতারা একদিনেই কেজিতে ৬০ টাকা লাভ করেছে। যা রীতিমত নৈরাজ্য। বর্তমানে পেঁয়াজের এ দাম দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের পর শ্রীলঙ্কায় একশ’ ৬০, পাকিস্তানে একশ’ ৪০ ও ভারতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের বাজার। ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে ভারত। এর পরপরই কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে একশ’ টাকা ছাড়ায়  দেশি পেঁয়াজের দাম। গতকাল যশোরের বেশিরভাগ বিক্রেতা জানান, বাজারে ভারতীয়  পেঁয়াজ নেই। দেশি পেঁয়াজের মজুদও প্রায় শেষ। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পেঁয়াজ পরিবহনে বিঘœ ঘটায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সরকারের বেধে দেয়া দাম ছিল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৯০, মিয়ানমারের ৮৫ এবং চীন, মিসর ও তুরস্কের ৬০ টাকা।
পেঁয়াজের নৈরাজ্য ঠেকাতে গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরে প্রথমবারের মতো অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। যা নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, এই অভিযান যদি আরও আগে হতো তাহলে পেঁয়াজের দাম কিছুটা হলেও নাগালে থাকতো। গতকালের অভিযানে মোট তিনজন বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের আব্দুল গফুর। তাকে দু’ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া, হাটখোলা রোডের রেজাউল ইসলামকে দু’ হাজার ও আব্দুল হককে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কয়েকদিন আগে কথা হয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের সাথে। তিনি সেসময় বলেছিলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয়। পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে কেনার চালান দেখে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিই। তাছাড়া, বাজারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি দেখভাল করে জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড় বাজারের বাংলা ভান্ডারের সামনের দু’টি দোকানে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার কারণে তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়।
সর্বশেষ, গতকাল দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে কথা হয় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সাথে। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একজন এডি রয়েছেন। তিনি বাজার দেখাশোনা করেন। তাছাড়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজারে গেছেন। ফিরে আসলে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বলা যাবে। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft