শিরোনাম: গণতন্ত্র কারা ধ্বংস করেছে জনগণ ভুলে যায়নি : ফখরুল       নিজ কক্ষেই ডিসপ্লেতে টিকিট বিক্রি পর্যবেক্ষণ করবেন রেলমন্ত্রী       উত্তাল দিল্লি : বাসে আগুন, ভাঙচুর       সারের দাম কেজিতে ৯ টাকা কমলো       'দেশ আজ কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে'       আফগানিস্তান থেকে ৪ হাজার সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র       ঢাকায় দিনে ছয় হাজার টন বর্জ্য হয়       নাগরিকত্ব বিল: অবশেষে পিছু হটছে মোদি সরকার       মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন প্রকৃত চট্টলবীর : আমু       ৩০ শতাংশ লোক হার্টের অসুখে মারা যায় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
হাইস্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার ফি নিয়ে নৈরাজ্য!
অতিরিক্ত আদায় ৪ কোটি টাকা
এম. আইউব :
Published : Thursday, 14 November, 2019 at 6:48 AM
হাইস্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার ফি নিয়ে নৈরাজ্য!আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে খুলনা বিভাগের আড়াই হাজার হাইস্কুলে শুরু হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। তিনটি শ্রেণিতে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। বার্ষিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রত্যেকটি স্কুলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আড়াই হাজার স্কুলে চার কোটি টাকা বেশি আদায় করছেন শিক্ষকরা। এই টাকা শিক্ষকদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হবে। তবে, পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি দেখার কেউই নেই। এক দপ্তর আরেক দপ্তরের ওপর দোষ চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে।
হাইস্কুলগুলোতে ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণিতে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার কমপক্ষে ৫০টি স্কুলে প্রশ্ন ফি সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পিছনে পরীক্ষা বাবদ যে খরচ হবে তার কয়েকগুণ বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। শহরের স্কুলগুলোতে অর্থ হাতানোর অবস্থা ভয়াবহ। অনুসন্ধানে জানাগেছে, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ বাবদ সর্বোচ্চ ১শ’ ২০ টাকা খরচ হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুটি কাগজ ব্যবহার করে। সেই হিসেবে ১৩ টি বিষয়ে ২৬ টি কাগজ লাগার কথা। ২৬টি ভালো মানের কাগজের দাম ৭৮ টাকা। বাকি টাকা দিয়ে প্রশ্ন ছাপার কাজ সম্পন্ন করা হয়। নবম শ্রেণির প্রতিটি বিষয়ে আড়াইটা করে কাগজ প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে ৩২ টি কাগজ লাগে। অথচ প্রশ্ন ফি নেয়া হচ্ছে ২শ থেকে শুরু করে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত। যা খরচের পাঁচগুণ বেশি।
যশোর শহরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, মাইকেল মধুসূদন তারা প্রসন্ন (এমএসটিপি) স্কুল, আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল একাডেমি, মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি স্কুল, মুসলিম একাডেমি, কালেক্টরেট স্কুল ও পুলিশ লাইন স্কুলে প্রশ্ন ফি গ্রহণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ২শ’ ৫০ ও নবম শ্রেণিতে ৩শ’ ২০ টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। এমএসটিপি স্কুলে ষষ্ঠ, সপ্তম ৩শ’ নবম শ্রেণিতে ৪শ’, আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল একাডেমিতে ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণিতে ৪শ’,প্রিপারেটরি স্কুলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ৩শ’ এবং নবম শ্রেণিতে ৪শ’, মুসলিম একাডেমিতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ৩শ’ ২০ ও নবম শ্রেণিতে ৩শ’ ৪০, কালেক্টরেট স্কুলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ৩শ’ ৫০ ও নবম শ্রেণিতে ৪শ’ এবং পুলিশ লাইন স্কুলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ৫শ’ এবং নবম শ্রেণিতে ৬শ’ টাকা করে গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে, কিছুটা কম নিচ্ছে শহরতলীর মুক্তেশ্বরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এখানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নেয়া হচ্ছে ১শ’ ৭০ টাকা করে।
এর বাইরে খুলনাসহ অন্যান্য জেলার বিভিন্ন এলাকার স্কুলেও খোঁজ নেয়া হয়েছে প্রশ্ন ফি গ্রহণের পরিমাণ জানার জন্যে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ মডেল স্কুলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ১শ’ ৫০ ও নবম শ্রেণিতে ২শ’ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। একই পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে জেলার বেদকাশি কলেজিয়েট স্কুল, জায়গীরমহল তকিম উদ্দীন হাইস্কুল, জাকারিয়া শিক্ষা নিকেতন, দক্ষিণ বেদকাশি হাইস্কুল ও মিলনী হাইস্কুলে। এর বাইরে কালিকাপুর চৌকুনী হাইস্কুলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ১শ’ ২০ ও নবম শ্রেণিতে ১শ’ ৫০ টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখাগেছে, গ্রামের স্কুল থেকে শহরের স্কুল অনেক বেশি প্রশ্ন ফি গ্রহণ করছে। অথচ পরীক্ষা হবে একইভাবে, একই রকম।
খুলনা বিভাগে মাধ্যমিক ও নি¤œমাধ্যমিক মিলিয়ে স্কুল রয়েছে ২ হাজার ৫শ’ ৩২ টি। এরমধ্যে খুলনা মহানগরসহ নয়টি জেলা শহরে দুশ’র মতো স্কুল রয়েছে। প্রত্যেকটি স্কুলে তিনটি শ্রেণি মিলে কমপক্ষে দুশ’ শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে। শহরের স্কুলগুলোতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গড়ে ২শ’ ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। সেই হিসেবে দুশ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। আর এ টাকা যাচ্ছে অভিভাবকের পকেট থেকে।
একইভাবে গ্রাম পর্যায়ের প্রত্যেকটি স্কুলে তিনটি শ্রেণিতে গড়ে ১শ’ ৫০ জন করে শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। সেই হিসেবে ২ হাজার ৩শ’ ৩২ টি স্কুলের কমপক্ষে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮শ’ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৮০ টাকা করে বেশি নেয়া হচ্ছে। এভাবে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে ২ কোটি ৭৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার বাণিজ্য করছেন শিক্ষকরা।
পরীক্ষা ফির নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হলেও তদারকি করার মতো সরকারি কোনো দপ্তর নেই। এ কারণে শিক্ষকরা যা ইচ্ছা তাই করছেন। যেন দেখার কেউই নেই। শিক্ষা সংক্রান্ত সরকারি দপ্তরগুলো যে যার মতো বলছে। এক দপ্তর দায় চাপাচ্ছে আরেক দপ্তরের ওপর। কেউই দায়িত্ব নিচ্ছে না।
কথা হয় যশোর মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুরের সাথে। তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা ফি নির্ধারণ করা হয়। কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছের হোসেন বলেন এটি প্রশাসনের স্কুল। সেখান থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয় সে মোতাবেক সবকিছু করা হয়।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এটি দেখার দায়িত্ব মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)। তারপরও কোনো অভিযোগ শিক্ষাবোর্ডে আসলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে সুপারিশ করে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
মাউশির জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষা ফি নির্ধারণ করে শিক্ষাবোর্ড। তারাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।
মাউশির খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক (ডিডি) নিভা রাণী পাঠকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফি গ্রহণের নীতিমালা রয়েছে। সেই অনুযায়ী নিতে হবে। নীতিমালায় কোন শ্রেণিতে কত নিতে পারবে জানতে চাইলে তিনি তা বলতে পারেননি। ডিডি পরামর্শ দিয়ে যেকোনো স্কুল থেকে জেনে নিতে বলেন। তার কথামতো বেশ কয়েকটি স্কুলে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে বলা হয় এ ব্যাপারে কোনো  নীতিমালা নেই। তার মানে সঠিক কোনো তথ্য নেই সরকারি কোনো দপ্তরে। দেখভাল তো দূরের কথা!




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft