শিরোনাম: রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে       স্বাধীনতা-বিরোধীদের নামে থাকা ফলক বদলের নির্দেশ       বিক্ষোভে উত্তাল হংকং, ছাত্র-পুলিশ ব্যাপক সংঘর্ষ       ‘গণতন্ত্রকে হত্যার জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে’       পদত্যাগ করলেন কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী       দেশে জঙ্গী, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       মুসলিমরাই ফিলিস্তিনকে মুক্ত করবে : হাসান রুহানি       শুদ্ধি অভিযান বিষয়ে নীরবতা চক্রান্তের আলামত : ইনু       লাদেন ও জাওয়াহিরি ছিল পাকিস্তানের হিরো : পারভেজ মোশাররফ        ৭ কোটি ছয় লাখ টাকার আয়কর দিলেন অর্থমন্ত্রী      
কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ
ফখরে আলম :
Published : Wednesday, 23 October, 2019 at 6:07 AM
কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজআজ ২৩ অক্টোবর বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন। এখন শিউলি ফোটার সময়। স্বেত শুফ্র খোশবুময় দোলনচাঁপা ফোটার সময়। বাংলার এই দুটি ফুলাঞ্জলি তাঁর চরণে নিবেদন করছি।
কবিতায় তারা হয়ে আছেন শামসুর রাহমান। দুঃখিনী এই বাংলায় সেই তারা জ্বলছে রাতদিন। মাদকের ধোঁয়া, সন্ত্রাসের নীল, মৌলবাদের অন্ধকার, দুর্নীতির বিষ এর বিরুদ্ধে শামসুর রাহমানের কবিতা লড়াই করছে। এ লড়াইয়ে একদিন তাঁর কবিতায় জয়ী হবে।
শামসুর রাহমানের অনেক বড় অফিস। তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রধান সম্পাদক। আমি তার অফিসে ১০০ বার গিয়েছি। এই অফিসে সবসময়ই খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিকরা আড্ডা দিতেন। আশির দশকের শুরুতে ঢাকায় লেখাপড়া করার সুবাদে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমি তাঁর অফিসে গিয়ে দুপুর বেলা বসে থাকতাম। কবি সাহিত্যিকরা কথা বলতেন আমি তাই শুনতাম। লক্ষ্য করেছি শামসুর রাহমানও শোনেন। তিনি খুব কম কথা বলেন। দুয়েকটি কথা যা বলেন তা আমার কাছে উর্ত্তীণ কবিতার মতই মনে হয়। শামসুর রাহমান বিচিত্রা আর দৈনিক বাংলায় আমার অনেকগুলি কবিতা ছেপেছেন। তিনি খুব মনদিয়ে সম্পাদনা করেছেন। যার ফলে অনেক কবিই তার হাতে সাবালোক হয়েছেন।
শামসুর রাহমান ১৯৮৪ সালে প্রথম যশোরে আসেন। এরপর তিনি ১৯৯২ সালে যশোরে এসেছেন। এর আগে পরে ভারতে যাওয়ার সময় তিনি যশোরে এসেছেন। আমি তাঁর সঙ্গে মধুসূদনের জন্মস্থান সাগরদাড়িতে গিয়েছি। বেনাপোলে গিয়েছি। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে চুয়াডাঙ্গার জাহাপুর গ্রামে সাধক খোদাবক্সের বাড়ি গিয়েছি। খোদাবক্সের বাড়ির উঠানে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের শত শত মানুষ শামসুর রাহমানের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেছেন। আমি ছবি তুলেছি। আর ভেবেছি কবির মত শক্তি অন্য কারো নেই। ১৯৯২ সালে যশোর সাহিত্য পরিষদের সাহিত্য সম্মেলনে এসে কবি শামসুর রাহমানের নেতৃত্বে কবি রফিক আজাদ, কবি আজীজুল হক, কবি সমুদ্র গুপ্ত, রবীন্দ্রনাথের বংশধর প্রণতী ঠাকুর, আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর ব্রহ্মচারীসহ একঝাক তরুণ কবি সাগরদাড়িতে যায়। শামসুর রাহমান মাইকেল মধুসূদন দত্তের আবক্ষ ভাষকর্যের পাশে দাড়িয়ে ছবি তোলেন। মুগ্ধ নয়নে কপতক্ষ নদ দেখেন। বিকেলে যশোর ফেরার পথে গাড়ী বিকল হয়ে যায়। শামসুর রাহমানসহ আমরা সবাই রাস্তার পাশে বসে থাকি। সামনে সবজি ক্ষেত। কয়েকজন ছোট শিশু তাদের মধ্যে দুয়েকজন বস্ত্রহীন। তারা সবজী ক্ষেত থেকে টমেটো, মূলা তুলে খাচ্ছে। শামছুর রাহমান তন্ময় হয়ে এই দৃশ্য দেখলেন। তিনি বললেন, ‘ফখরে আলম প্রকৃত বাংলাদেশ দেখলাম।’ ১৯৮৪ সালে শামসুর রাহমান যশোর সাহিত্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন। রাতে তিনি শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেষ্ট হাউজে ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন কবি মুহাম্মদ নূরুলহুদা, কবি আজীজুল হক, কবি দারা মাহমুদ, প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক। আমিও ছিলাম। রাত ১০/১১টার দিকে ‘খানাপিনা’ চলছিল। তখন এক সুদর্শন যুবক এসে হাজির। সে শামসুর রাহমানের সঙ্গে করোমর্দন করে বললো, ‘আপনি ন বর্ণের জন্যে শ্রেষ্ঠ কবি হয়েছেন। যদের নামে ন বর্ণ আছে তার সবাই পৃথিবীর খ্যাতিমান। যেমন- লেনিন, নির্মলেন্দুগুন, হুমায়ন আহমেদ, নজরুল, মধুসূদন।’ শামসুর রাহমান অনেকক্ষণ ছেলেটির দিকে তাকিয়ে থাকলেন। বললেন, ‘বাবা তোমার নাম কি?’ ছেলেটি বলল,‘ লাভলু। ন বর্ণের জন্যে নাম দিয়েছি লাভলুন।’ শামসুর রাহমান মাথা নিচু করে চলেগেল। কিছুক্ষণ পর শুনি কান্নার আওয়াজ। শামসুর রাহমানের কক্ষে গিয়ে দেখি তিনি অঝরে কাঁদছেন। আমরা সবাই হতবাক। পরে জানতে পেরেছি লাভলুর মত শামসুর রাহমানের একটি ছেলে ছিল। পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। আমি এখনও শামসুর রাহমানের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। মৃত্যুর আগে শামছুর রাহমান তাঁর জামাতা এনএসআই এর পরিচালক ক্যাপ্টেন আমিনের মাধ্যমে ‘সেরা শামসুর রহমান’ কাব্য সমগ্র বইসহ তিনটি বই প্রীতি ভাজনেষু লিখে উপহার দেন। আমি সেই বই বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি। কেননা আমি পড়তে পারিনা।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft