শিরোনাম: শামীম যুবলীগের কেউ নন : ওমর ফারুক       শামীমের নামে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর!       যুবলীগের দাপুটে কেন্দ্রীয় নেতা শামীম ৬ দেহরক্ষীসহ আটক       ঢাকার সেই ক্যাসিনোতে যা হতো রাতের আধাঁরে       ভালুকায় রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন       বিয়ের প্রলোভনে প্রতিবন্ধী কিশোরীর সর্বনাশ       খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বরিশালে যুবদলের পৃথক মানববন্ধন       আওয়ামী লীগের অনেকেই নজরদারিতে রয়েছেন : কাদের       কাশ্মীরীদের রাখা হয়েছে ৭শ কিলোমিটার দূরের বন্দি শিবিরে       রামেক হাসপাতালে আরো ৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি      
দশে মিলে করি কাজ ....
মিনা বিশ্বাস :
Published : Thursday, 12 September, 2019 at 6:18 AM
দশে মিলে করি কাজ ....‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে’। রবি ঠাকুরের এ গানটির মতো করেই এগোলেন যশোরের বারান্দিপাড়া মেঠোপুকুরপাড় এলাকার ৪০ ঘর বাসিন্দা। পৌরসভা কিংবা কোন সমাজপতি কেউ যখন তাদের ডাকে সাড়া দিলো না। তখন নিজেরাই নিজেদের সাহায্য এগিয়ে আসলেন। নিজ উদ্যোগে তারা তৈরি করে ফেললেন একটি রাস্তা।
পূর্ব পুরুষরা ভুগেছেন, বছরের পর বছর ধরে ভুগতে হয়েছে উত্তরসূরীদেরও। যশোরের বারান্দিপাড়া মেঠোপুকুরপাড় এলাকাবাসী পুকুরপাড়ে বসবাস করায় অল্প বৃষ্টি হলেই বাড়ির পাশের রাস্তাটি এতকাল চলাচলের জন্য অনুপযোগি হয়ে পড়তো। এলাকায় বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা বাইরে চলাচল, কর্মক্ষেত্র যাওয়া এবং ছেলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পথ পানিতে ডুবে থাকায় বাধাগ্রস্ত হতো দৈনন্দিন জীবন। তাই বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি এলাকাবাসীর কাছে ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে পৌরসভা ও নানান এনজিও প্রতিষ্ঠানকে জানালেও এ বিষয়ে কোন সমাধান মেলেনি। এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের বিষয়ে উদ্যোগী হন। স্থানীয় আইনজীবী সানি তার পুরানো বাড়ি ভেঙ্গে নতুন বাড়ি তৈরি করার খবর জানতে পেরে মেঠোপুকুরবাসী এলাকায় বাড়ি প্রতি ১০ টাকা করে চাঁদা তোলেন। এরপর একশটি সিমেন্টের বস্তা কিনে তাতে ঘ্যাস ভরে ৫০ ফুট দীর্ঘ ৬ফুট চওড়া এ রাস্তাটি নির্মাণ করেন। ২৫ জন নারী-পুরুষের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তৈরি হয় রাস্তাটি। আর তাদের এ কাজে সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেন এনজিও প্রতিষ্ঠান আইইডি কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির নারী পুরুষ দলের যৌথ উদ্যোগে এ রাস্তাটি তৈরি হয়েছে।  
মেঠোপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা রিক্সাচালক আলী হোসেন বলেন, ৪০ বছর ধরে এখানে আছি। ছোটবেলা থেকে দেখছি বর্ষা হলে এলাকার এ রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে এ পর্যন্ত আমরা অনেক ভুগেছি। আমরা এনজিওর লোকজনদেরও অনেকবার বলেছি, পৌরসভায়ও জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনদিন কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তাই নিজেরাই রাস্তা তৈরি করেছি। তবে আমরা চাই রাস্তাটি আরও ভালো করে মেরামত করে দেওয়া হোক। এলাকার গৃহবধূ পারভীন বলেন, রাস্তার অবস্থা এমন ছিল যে আমরা যদি কেউ মারা যাই আমাদের লাশ বের করারও কোন উপায় ছিলো না। পুকুরের তিনদিকে বাঁধানো হলেও আমাদের এখানে হয়নি। আর ওই তিনদিকের অবস্থাও যে খুব ভালো তাও না। কারণ ওদিকের বাঁধও নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা যেহেতু পৌরসভার মধ্যেই বাস করি, তাই মেয়রের কাছে আমাদের অনুরোধ তিনি যেন আমাদের সাহায্য করেন। এলাকাবাসী রেখা বলেন, নানান সময়ে আমরা অসুখ বিসুখে পড়ি। এমনও দিন গেছে এ রাস্তার কারণে আমরা বিপদে পড়েছি। রাস্তা আমরা তৈরি করেছি ঠিকই কিন্তু তেমন মজবুত নয়। পৌরসভা যদি আরও ভালো করে রাস্তাটি তৈরি করে দেয়, সে সাথে পুকুরের পাড় উঁচু করে বাঁধিয়ে দেয় তাহলে ভালো হয়। আরেক গৃহবধূ তাসলিমা বেগম বলেন, আমি আইইডির একজন সদস্য। ১৬বছর হলো বিয়ে হয়েছে। সেই থেকে এখানেই আছি। কিন্তু কেউ কোনদিন আমাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করেনি। তাই আমরা নিজেরাই রাস্তা তৈরি করেছি। এলাকাবাসী মনি বলেন, রাস্তা আমরা তেমন মজবুত করে তৈরি করতে পারিনি। আপাতত একটা ব্যবস্থা করা গেছে। তাই পৌরসভার সাহায্য দরকার। তারা যদি রাস্তাটা ভালো করে তৈরি করে দেয় তাহলে পরের বর্ষায় আমাদের আর ভাবতে হবে না।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft