রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস
বঙ্গবন্ধুর চেতনা শাণিত করার দিন
আসাদ আসাদুজ্জামান :
Published : Saturday, 15 August, 2020 at 3:16 AM
বঙ্গবন্ধুর চেতনা শাণিত করার দিনআজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। আজ কাঁদবার দিন। আজ পিতা হত্যার কলঙ্কিত দিন। আজ জাতির পিতার হন্তারক কুলাঙ্গারদের ঘৃণা করবার দিন। একই সাথে যারা বঙ্গবন্ধুর চেতনা বুকের ভেতর লালন করেন, তাদের সে চেতনা শাণিত করার দিন আজ। এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে শোক দিবসের কর্মসূচি পালিত হলেও চেনতার স্থানটি থাকছে অপরিবর্তিতই।
১৯৭৫ সালের এই দিনে রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়া আমেরিকার হেনরি কিসিঞ্জারের অনুসারী বাংলাদেশের কতিপয় মীরজাফরদের ষড়যন্ত্রে সপরিবারে নিহত হন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে ষড়যন্ত্র থামেনি আজও। বিদেশে অবস্থান করায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান জাতির জনকের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সেই শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন দুর্দান্ত গতিতে। ইতিমধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিক হামলা হয়েছে শেখ হাসিনার উপর। বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের শিঁড়িতে তর তর করে এগিয়ে চলেছে, ঠিক আবারো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শুরু হয়েছে। কিসিঞ্জারপন্থীরা একজোট হচ্ছে। চলছে নানা চক্রান্ত।
ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, এমন কিছু মহাপুরুষের জীবন এই পৃথিবীতে অকালে ঝরে গেছে, যাঁদের এই অপমৃত্যু বিবেক কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারে না। মানব জাতি ও মানব সভ্যতার চিরকল্যানকামী এ রকম এক মহাপুরুষের নাম সর্বকালের শ্রেষ্ট বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাঁর সন্তান।
১৯৭৫ সালের এই দিনে মানব ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ডের স্বীকার হন সর্বকালের শ্রেষ্ট বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঘাতকেরা শুধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ১৫ আগস্ট রাতে খ্যান্ত হয়নি, তাঁর সাথে প্রাণ দিতে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, পুত্র ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লে. শেখ জামাল, স্কুল ছাত্র ছোট শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি কামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা অব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৮জন সদস্যকে হত্যা করে ঘাতকেরা। হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিলকে। সেদিন ঘাতকদের নিক্ষিপ্ত কামানের গোলার আঘাতে মোহম্মদপুরে  একটি পরিবারের বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান।
সকল হত্যাই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। কিন্তু ১৫ আগস্ট এ দেশের, এ জাতির জন্য শুধু একটি দুঃখজনক অধ্যায়ই নয়, অত্যান্ত কলংকিত অধ্যায়। যে মহান নেতা হাজার বছরের পরাধীন বাঙালী জাতিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিলো, জাতিস্বত্ত্বা দিলো, তাঁকেই কতিপয় কুলাঙ্গার রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যা করলো! যা এক কলঙ্কিত অধ্যায়।
১৯৪০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পর্যন্ত তিনি বাঙালী জাতির কান্ডারী ছিলেন, যিনি পর্যায়ক্রমিক আন্দোলন স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিলেন, সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী, গতিশীল এবং ঐন্দ্রজালিক সাহসী নেতৃত্বে এই ভূ-খন্ডের মানুষ হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালী পেয়েছে লাল সবুজের পতাকার নিজস্ব জাতিরাষ্ট্র। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু যখন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই তাঁকে হত্যা করা হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য গণতান্ত্রিক উত্তরণের কেবল ভিত তৈরী হচ্ছিল, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু সেটা মুছে দিল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি বাঙালীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে ফেলাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি শুরু করে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সংবিধান স্থগিত করে মার্শাল ল জারি করা হয়। সেনা শাসক জিয়াউর রহমানকে দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করে দেশে কায়েম করে সামরিক শাসন। এমনকি তিনি ইনডেমিনিটি অর্ডিনেন্স দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথও রুদ্ধ করে দেন।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার চূড়ান্ত ডাক দিলেন ১৯৭১ এর ৭মার্চ রেসকোর্স ময়দানে। বললেন-আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, এদেশের মানুষের অধিকার চাই। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
এমন মুক্ত কন্ঠে খোলা মঞ্চে লাখো জনতার সমাবেশে দাড়িয়ে দেশের স্বাধীনতার ডাক দেয়া নেতা সারা পৃথিবীতে আর একজনও নেই। এমন একজন নেতাকে হত্যা করে জাতিকে চরমভাবে কলংকিত করা হয়েছে। নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বলেছিলেন, ‘মুজিব হত্যার পর বাঙালীদের আর বিশ্বাস করা যায়না। যারা মুজিবকে হত্যা করেছে, তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে। ঠিক যে নির্মম কাজ পাকিস্তানিরা করতে পারেনি। তা যারা করেছে তারা কোনো দিন বাঙালী হতে পারে না। আর এই বাঙালীদের বিশ্বাসও করা যায় না। যারা পিতাকে হত্যা করতে পারে, তারা পৃথিবীর এমন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নাই যা না করতে পারে। যারা মুজিবকে হত্যা করেছিল তারা ভেবেছিল মুজিবকে বাংলা থেকে, বাঙালীর হৃদয় থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাদের সে ধারনা ছিল ভূল। মুজিবের অস্তিত্ত্ব সব বাঙালীর হৃদয়ে। বাঙলার প্রতিটি মৃত্তিকা কণার সঙ্গে মিশে আছে। যা কেউ কোনো দিন আলাদা করতে পারবে না।’
বঙ্গবন্ধুর বেশ কয়েকজন খুনীর ফাঁসি হয়েছে। এখনো বেশ কয়েকজন খুনী ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছে। তাদেরকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসিতে ঝোলানোর দাবি আজ স্বার্বজনীন। সেই সব খুনিরা বিদেশে বসে আজো বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। দেশ-বিদেশের কিসিঞ্জার পন্থীরা একজোট হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। একবার কেন, ৭৫ এর খুনীদের লক্ষবার ফাঁসি হলেও বঙ্গবন্ধুর শূন্যতা পূরণ হবার নয়। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছে তারা বাংলার মাটিতে বসবাসকারী হলেও বাঙালী নয়। বাঙালী হতে পারে না। বাঙালী জাতি বাকী খুনীদের ফাঁসি দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। সময় গুনছে সব ষড়যন্ত্রের অবসানের। সে দিন বোধহয় বেশি দুরে নয়।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft