শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে করোনা আক্রান্তের চার মাসে আশংকা বাড়াচ্ছে সংক্রমণের হার
স্বপ্না দেবনাথ
Published : Wednesday, 12 August, 2020 at 1:15 AM
যশোরে করোনা আক্রান্তের চার মাসে
আশংকা বাড়াচ্ছে সংক্রমণের হার করোনায় যশোর আক্রান্তের চার মাস পূর্ণ হল আজ। একশ’ ২০ দিনের পরিক্রমায় জেলার মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক পথে চললেও করোনা পরিস্থিতির চিত্র স্বাভাবিক নয়।  নমুনা অনুপাতে করোনা পজিটিভ ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে আশার বিপরীতে আশংকা বাড়াচ্ছে বেশি। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় করোনা রোগী ছিল ৫৫ জন। মে মাসে শনাক্ত হয় ৪৯ জন। পুরো জুন মাসে শনাক্ত হয় চারশ’ ৫১ জন। জুলাই মাসে যার সংখ্যা এক হাজার দু’শ’ ৩০ জন।  আর আগস্টের এ কয়েক দিনের প্রাপ্ত ফলাফল বিশেষ ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ৫ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষিত এক হাজার একশ’ ৫৮ নমুনার মধ্যে চারশ’ ৪৩ জনই করোনায় আক্রান্ত। যা শতকরা ৩৮ জনেরও বেশি। এদিকে মাসভিত্তিক রোগী শনাক্তের হারও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। নমুনার সংখ্যা যেখানে সমানুপাতিক।  
শুধু যশোরই নয়, কোরবানি ঈদের পর কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় সকল জেলাতেই বেড়েছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগী শনাক্ত, আইসোলেশন ও আক্রান্তদের প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ উদ্যোগী  হতে হবে বলে মত দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ মনে করছেন  করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখিতা রুখতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আরও বেশি কঠোর হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
গত ১২ এপ্রিল যশোর জেলায় প্রথম করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়। সে থেকে জেলার মানুষের মধ্যে দিনভিত্তিক রোগী শনাক্তের সংখ্যা জানার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় বেশি। ছিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ে চর্চার আগ্রহ। তবে সময়ের সাথে সাথে এ কয়েক মাসে সে আগ্রহ ও সচেতনতায় কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে। বাড়ছে করোনা পজিটিভ এবং মৃত্যুর সংখ্যা।
গড় সুস্থতার হারও আশারূনুপ নয়। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ১১ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন দু’হাজার তিনশ’ ২২ জন। সুস্থতার সনদ পেয়েছেন এক হাজার তিনশ’ আটজন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩২ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে গত ১০ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম  একশ’ ১২ দিনে চার হাজার একশ’ ৫৮ জনের মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হন ছয়শ’জন। ৩০ জুন পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয় চার হাজার সাতশ’ ২৪টি। পরবর্তী ৪২ দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এক হাজার সাতশ’ ২৮ জনে। নমুনার সংখ্যা যেখানে পাঁচ হাজার দু’শ’র কিছু বেশি। ১১ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মোট ১০ হাজার ছয়শ’ ৪৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে টেস্টের ফলাফল হাতে পেয়েছেন নয় হাজার তিনশ’ ৯৬ জন।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাক্তার মোস্তাক হোসেন মঙ্গলবার গণমাধ্যমে বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে করোনাতে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে আক্রান্তরা নানান জটিলতায় পড়েন। সেই হিসাবে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তা থেকে অপক্ষোকৃত জটিল রোগীরা হাসপাতালমুখি হবেন। তৃতীয় সপ্তায় গিয়ে করোনা জটিলতা নিয়ে মৃত্যুর হার বাড়ারও আশংকা রয়েছে। বর্তমানে করোনা শনাক্তে মোট পরীক্ষার ২১ থেকে ২৩ শতাংশ করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। যদিও দেশ থেকে করোনা পরিস্থিতি নির্র্মূল করতে হলে করোনাতে আক্রান্তের হার পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।
ডাক্তার মোস্তাক হোসেনের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যশোরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় জেলায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তিন চতুর্থাংশ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বাড়িতে থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেই দায়িত্ব শেষ করেন। এক্ষেত্রে ও বাড়ির কেউ নিয়ম ভঙ্গ করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ জরুরি।  
 
 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft