মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোর প্রশাসনের নজর রাজারহাটে
ব্যবহার হয়েছে ১৫০ মেট্রিকটন লবণ
এম.আইউব
Published : Friday, 7 August, 2020 at 1:17 AM
যশোর প্রশাসনের নজর রাজারহাটেযশোরে প্রশাসনের নজর এখন রাজারহাটে। চামড়া এবং লবণ নিয়ে কারসাজি রুখতে এতসব কড়াকড়ি। যদিও চামড়ার দাম না থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এক প্রকার পথে বসেছেন। এতকিছুর পরও রাজারহাটের সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা প্রশাসনের।
এ বছর রাজারহাটে আসা চামড়া সংরক্ষণের জন্যে দেড়শ’ মেট্রিকটন লবণের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী এই লবণ বিক্রি করেন। তাদের সবাই রাজারহাট কেন্দ্রিক। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর লবণের কোনো ঘাটতি হয়নি। লবণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি কোনো চামড়া।
রাজারহাটের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে জেলা প্রশাসন কঠোর দৃষ্টি রেখেছে। কোনো প্রকার অনিয়মের অভিযোগ যাতে না ওঠে এ জন্যে বিভিন্ন দপ্তরকে দেখভালের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।
ইজারাদার যাতে কোনোভাবেই অধিকহারে খাজনা আদায় করতে না পারেন সেজন্যে জেলা বাজার কর্মকর্তাকে দেখার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তার নির্দেশ পাওয়ার পর জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান হাটের ইজারাদারকে একটি পত্র দেন। যে পত্রে সরকার নির্ধারিত হারে খাজনা গ্রহণ এবং প্রকাশ্য স্থানে রেটচার্ট টাঙাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিগুণ হারে খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় পত্রে। পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়,‘অতিরিক্ত খাজনা বা মার্কেট চার্জ আদায়সহ নানাবিধ কারণে যশোরের ঐতিহ্যবাহী রাজারহাট চামড়ার বাজারটি আজ বিলুপ্তির পথে।’
তদারকিতে কেবল বাজার কর্মকর্তা একাই নেই। তার সাথে যুক্ত করা হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবকে। তিনি জানিয়েছেন, পরপর তিনদিন চামড়ার হাটে ছিলেন। এই তিনদিন তিনি লবণের কোনো সংকট দেখেননি। ৭০ কেজির লবণের বস্তা ছয়শ’ ৭০ থেকে ছয়শ’ ৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখেন।
জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানিয়েছেন, যশোর থেকে চামড়া যাতে ভারতে পাচার হতে না পারে এজন্যে বিজিবিকেও পত্র দেওয়া হয়েছে। বাজার কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, চামড়া দাম কমে যাওয়া চিন্তার কারণ। তারপরও এটি ঢাকার বিষয়। কমানো-বাড়ানো ঢাকা থেকে হয়। স্থানীয়ভাবে দাম কমানো-বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে, দামের বিষয়টি বাদ দিয়ে স্থানীয়ভাবে যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেগুলো কঠোরভাবে দেখভাল করা হচ্ছে।
রাজারহাটের পাইকারি লবণ ব্যবসায়ী কাজী এজাহার বলেন,‘৭০ কেজির প্রতি বস্তা লবণ তিনি ছয়শ’ ৮০ থেকে ছয়শ’ ৯০ টাকায় বিক্রি করেছেন। ঈদের আগেই সব লবণ বিক্রি হয়ে যায়। পরে আর আনতে পারিনি।’
আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী মনির উদ্দিন জানান,‘কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুনেছি এবার চাহিদা ছিল একশ’ ৫০ মেট্রিকটন লবণের। ব্যবসায়ীদের কাছে চাহিদার তুলনায় লবণ বেশি ছিল। তা না হলে সংকট দেখা দিত। আমি ৭০ কেজির প্রতি বস্তা লবণ প্রথমে সাতশ’ টাকা দরে বিক্রি করি। ঈদের পরের দিন সাতশ’ ৪০ টাকা করে বিক্রি করতে হয়। কারণ আগে সরাসরি কোম্পানি থেকে লবণ এনেছিলাম। পরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনতে হয়েছে। তাছাড়া, ঈদের পর গাড়ি ভাড়াও বেড়ে যায়।’
মনির উদ্দিন জানান, বছর তিনেক আগে রাজারহাটের চামড়া সংরক্ষণের জন্যে লবণের সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন লবণের অভাবে অনেক চামড়া নষ্ট হয়। তারপর থেকে এখনো পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজারহাটে এ বছর চারজন ব্যবসায়ী মূলত লবণের ব্যবসা করেছেন। তারা হচ্ছেন, কাজী এজাহার, মনির উদ্দিন, ইমরান হোসেন পাপ্পু ও আব্দুস সালাম। ইমরান হোসেন পাপ্পু এ বছর লবণের ব্যবসা শুরু করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
চামড়ার হাট তদারকির সাথে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজারহাটে কোনো ধরনের অসঙ্গতির খবর পাওয়া গেলে সাথে সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। রাজারহাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যা যা করা প্রয়োজন প্রশাসন তার সবটুকু করবে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ঢাকা থেকে আসা ফড়িয়াদের কাছ থেকে খাজনা নিয়ে থাকেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো খাজনা নেন না। ফলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও চাপমুক্ত থাকেন।    




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft