শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন বিকল্প কোনো পথ নেই
বেতন জায়েজ করতে অনলাইন ক্লাস !
এম. আইউব
Published : Thursday, 16 July, 2020 at 1:18 AM

বেতন জায়েজ করতে অনলাইন ক্লাস !যশোরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ মাসিক বেতন জায়েজ করতে অনলাইন ক্লাস চালু করেছেন। যদিও এই ক্লাস অধিকাংশ শিক্ষার্থীর তেমন কাজে আসছে না। উপরন্তু বেতন দেওয়ার চাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শ’ শ’ অভিভাবক। তারা করোনা দুর্যোগের মধ্যে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নামে বেতন আদায় বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
করোনা মহামারি আকার ধারণ করায় গত ১৮ মার্চ থেকে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। তবে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বেশিদিন চুপচাপ থাকতে পারেনি। এক মাস যেতে না যেতেই অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের কাছে ফোন করা হয়। বলা হয় বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, কোনো কোনো স্কুল থেকে সময় বেধে দেওয়া হয় বেতন পরিশোধ করার জন্যে। বলা হয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন না দিলে টিসি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের কথা শুনে অনেক অভিভাবক পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কোনো ধরনের ক্লাস হচ্ছে না। তারপরও বেতন কেন নিচ্ছেন।’ অভিভাবকদের এ কথা শোনার পর যশোরের ‘নামিদামি’ বলে পরিচিত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। চালু করেছে অনলাইন ক্লাস। যদিও এই অনলাইন ক্লাস বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর তেমন কোনো কাজে আসছে না।
অনুসন্ধানে দেখাগেছে, অনেক অভিভাবক অনলাইন ক্লাসের লিঙ্ক ওপেন করতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ ওপেন করলেও সেখানে ক্লাসের কোনোকিছু পাচ্ছেন না। এমন তথ্যও পাওয়া গেছে যে, অনেক অভিভাবক স্মার্ট ফোনই ব্যবহার করেন না। ফলে, তাদের পক্ষে অনলাইন ক্লাস কখনো দেখা সম্ভব হবে না। কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, অধিকাংশ পরিবারে কেবলমাত্র পুরুষের কাছে স্মার্ট ফোন রয়েছে। তারা পেশাগত প্রয়োজনে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকেন। ক্লাসের সময় বাড়ির বাইরে থাকেন তারা। তাহলে অনলাইন ক্লাসের সুবিধা তারা তাদের সন্তানদের কীভাবে দেবেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যশোরে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে কালেক্টরেট স্কুল, শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শাহীন স্কুল, দাউদ পাবলিক স্কুল ও নবকিশলয় স্কুল। এর বাইরে জিলা স্কুল এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ও অনলাইনে ক্লাস চালু করেছে। বেসরকারি এসব স্কুলের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, অনলাইন ক্লাসের কথা বলে তাদেরকে সব বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্যে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি বেতন পরিশোধ না করলে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বের করে দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
অভিভাবকরা বলছেন, করোনার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অন্যান্য সময়ের মতো খরচ নেই। আগের মতো বিদ্যুৎ, পানিসহ অন্যান্য বিল দেওয়া লাগছে না। ক্লাস করার সময় আনুষঙ্গিক যে খরচ হতো তাও এখন আর হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা বেতন আদায় করেছে। তাদের সেই ফান্ড থেকে দুর্যোগকালীন খরচ চালানোর দাবি অভিভাবকদের। এই দুর্যোগের মধ্যে কিছুটা হলেও বেতন মওকুফ করার দাবি তাদের।
তবে, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বেতনের উপর। শিক্ষার্থীরা বেতন না দিলে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া যায় না। অন্যান্য খরচ মেটাতে পারেনা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সরেজমিন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হয়। কথা হয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে। নবকিশলয় স্কুলের অধ্যক্ষ আতাহার রহমান জানান, ‘আমার স্কুলে প্রতিমাসে সবমিলিয়ে চার লাখ টাকা খরচ হয়। করোনার প্রথম দু’ মাস বেতনের জন্যে কিছুৃ বলিনি। এরপর অভিভাবকদের ফোন করে বলা হয়েছে যে যতুটুকু পারে বেতন দেওয়ার জন্যে। তা না হলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে, হুমকির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠান। কোনো অভিভাবককে বেতন দেওয়ার জন্যে চাপ দেওয়া হচ্ছে না।’ নবকিশলয় স্কুলে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে সাতশ’ চারজন।
কালেক্টরেট স্কুলের অধ্যক্ষ মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, ‘সরকারি কোনো অনুদান পাওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া বেতনে চলতে হয়। প্রতি মাসে নয় লাখ টাকা খরচ। অভিভাবকরা যতটুকু পারেন ততটুকু দিয়ে যেতে বলা হচ্ছে। কাউকে কোনো চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না।’ তিনি জানান, তারা অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছেন। পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে বলে দাবি করেন মোদাচ্ছের হোসেন। তিনি বলেন, অনেকে স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন না। কেউ কেউ আবার যশোরের বাইরে রয়েছেন। এ কারণে তাদের সন্তানরা অনলাইনে ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। কালেক্টরেট স্কুলে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে আটশ’ ১০ জন।
শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ কল্যাণ সরকার বলেন, ‘করোনার প্রথম দিকে বেতনের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ করা হয়। এরপর আর বেতনের কথা বলা হয়নি।’
 তবে গ্রামের কাগজ অনুসন্ধানে জানা গেছে, যশোরের প্রায় সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেতন পরিশোধের জন্যে অভিভাবকদের চাপ দিয়ে যাচ্ছে। ফলে, অন্তত ছয় হাজার অভিভাবককে সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সময় পার করতে হচ্ছে।    




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft