মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
মতামত
ভাগ্য কি পূর্ব নির্ধারিত?
Published : Wednesday, 15 July, 2020 at 1:24 AM
ভাগ্য কি পূর্ব নির্ধারিত?এ প্রশ্নটিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও দার্শনিক দিক থেকে পৃথিবীতে প্রচুর আলোচনা হয়েছে এবং এখনো হয়। এ বিষয়ে আমাদের মনে সাধারণত দু’টি প্রশ্ন জাগে। ‘তাকদীর’ বা ভাগ্য যদি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা আর ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে লাভ কি?
অথবা,
আমরাই যদি নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি, তাহলে আল্লাহ দ্বারা নির্ধারিত ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে হবে কেন?
এ প্রশ্নগুলোর জবাব জানার আগে কিছু উদাহরণের সাহায্যে আসুন বিষয়টি আমরা প্রাথমিকভাবে বোঝার চেষ্টা করি। যেহেতু বিষয়টির শেকড় ধর্মবিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত সেহেতু প্রাসঙ্গিকতায় ধর্মীয় উদ্ধৃতি অনিবার্যভাবেই চলে আসবে।
উদাহরণ এক।
বিশ্বজগতে আমরা যা কিছু দেখি এবং যা কিছু চিন্তা করতে পারি, সবকিছুর দুটি দিক থাকে। একটি অংশ পূর্ব থেকে নির্ধারিত এবং অন্য একটি অংশ পরিবর্তনশীল।
যেমন, ইচ্ছা করলে আপনি এ লেখাটা না পড়ে অন্য লেখায় চোখ বুলাতে পারেন। কিন্তু, ইচ্ছা করলেই চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে এই লেখাটা দেখতে পারবেন না। চোখ বন্ধ করে নাকের সাহায্যে কোনো কিছু দেখার চেষ্টা আপনি করতেই পারেন, কিন্তু মানুষের নাক দিয়ে কোনো কিছুই দেখা সম্ভব না। এই যে নাক দিয়ে মানুষ দেখতে পারে না, এটা আল্লাহ তায়ালা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই মানুষ নাক দিয়ে কোনো কিছু দেখতে পারে না। আবার, চোখ দিয়ে যে মানুষ যা ইচ্ছা তা দেখতে পারে, এটাও আল্লাহ তায়ালা আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
এরপর ধরুন, আপনি ইচ্ছা করলেই আপনার হাতের মোবাইলটা বন্ধ বা চালু করতে পারেন। কিন্তু, আপনি ইচ্ছা করলেও মোবাইলের ব্যাটারিটা খুলে রেখে ঐ মোবাইলটি চালু করতে পারবেন না।
তারপর ধরুন, ফেইসবুকে আপনার যা ইচ্ছা তা পড়তে পারেন ও লিখতে পারেন। কিন্তু, ইচ্ছা করলেই মার্ক জুকারবার্গ ফেইসবুককে আপনি গুগল বানিয়ে ফেলতে পারবেন না। মার্ক জুকারবার্গ যে পদ্ধতিতে ফেইসবুক সাজিয়েছেন, আপনাকে সে পদ্ধতি মেনে নিয়েই ফেইসবুক ব্যবহার করতে হবে।
বিশ্বের সবকিছুর এমনি দুটি দিক আছে। সবকিছুর ক্ষেত্রেই একটু স্বাধীনতা দেয়া আছে, আবার পূর্ব নির্ধারিত একটি ফর্মুলা দেয়া রয়েছে।
আমাদের জীবনের একটি ইচ্ছা শক্তি আছে, আবার আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। আমাদের ইচ্ছা শক্তি অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে, আবার অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে না। মানুষ কি পরিবর্তন করতে পারবে এবং কতটুকু পরিবর্তন করতে পারবে, এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়। এই নির্ধারিত হওয়ার বিষয়টাকে বিশ্বাস করার নাম-ই তাকদীর বা ভাগ্য।
উদাহরণ দুই।
প্রত্যেক মানুষের-ই কিছু না কিছু ক্ষমতা রয়েছে। মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছার মাধ্যমে সেই ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে পারে। তবে, একটি ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে তার চেয়ে বড় অন্য একটি ক্ষমতা থাকে। যেমন, একজন মন্ত্রী চাইলে তাঁর অধীনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন, সে ক্ষমতা তার আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা তার চেয়েও বেশি। প্রধানমন্ত্রী চাইলে মন্ত্রীর ক্ষমতাকে রোধ করতে পারেন। অর্থাৎ, মন্ত্রীর ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অধীনে। ঠিক একইভাবে, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মানুষকে কিছু না কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন, কিন্তু মানুষের সকল ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতার অধীনে।
উদাহরণ তিন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কিছু ইচ্ছা শক্তি দিয়েছেন, আবার ইচ্ছার সীমাবদ্ধতাও দিয়েছেন। ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে আমাদের ভাগ্য আমরা পরিবর্তন করতে পারি ঠিক, কিন্তু আমাদের সেই ইচ্ছা শক্তি এবং ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষমতা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
কল্পনা করুন, মহা সড়কের পাশে একটি পার্ক আছে। শহরের একটি পরিবার তাদের ৬ বছর বয়সী একটি বাচ্চাকে নিয়ে ঐ পার্কে হাঁটতে গেল। বাচ্চাটির মা-বাবা তাকে ঐ পার্কের ভিতরে খেলার অনুমতি দিল, কিন্তু রাস্তায় যেতে নিষেধ করল। বাচ্চাটি খেলেতে খেলতে যখনি রাস্তায় চলে যেতে লাগলো, তখনি তার মা-বাবা তাকে ধরে ফেলল। পার্কের ভিতরে যা ইচ্ছা তা করার স্বাধীনতা বাচ্চাটির থাকলেও রাস্তায় যাবার স্বাধীনতা বাচ্চাটির নেই। এই যে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, এটা তকদীরের অন্তর্ভুক্ত। আমরা যা কিছু ইচ্ছা করি, সবকিছু করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, তা করার ক্ষমতা আল্লাহর আছে। –এটা বিশ্বাস করার নাম তাকদীর।
এবার মূল প্রশ্নে আসি “তাকদীর বা ভাগ্য কি পূর্ব নির্ধারিত না পরিবর্তনশীল?” এই প্রশ্নটির মাঝে একটি শব্দ হলো ‘পূর্ব’। ‘পূর্ব’ শব্দের অর্থ অতীত। মানে, ভাগ্য কি অতীতে থেকে নির্ধারিত থাকে? ‘অতীত’ শব্দটি সময়ের সাথে সম্পর্কিত। সময়কে মানুষ সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করে – অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। মানুষ সময়ের অধীন। সময়ের মাত্রা-জ্ঞান ব্যতীত মানুষ কোনো কিছু কল্পনা করতে পারে না। তাই, মানুষ প্রশ্ন করে, ভাগ্য কি ‘পূর্ব’ থেকে নির্ধারিত? কিন্তু, আল্লাহ সময়ের অধীন নন, তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে। আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল বলে কিছু নেই। যেমন, আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলছেন “আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো চোখের পলকের ন্যায়, অথবা তার চাইতেও দ্রুত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান”। [সূরা নাহল, আয়াত-৭৭] তাকদীর বা ভাগ্য বোঝার জন্যে এই আয়াতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এই আয়াতে তাকদীর সম্পর্কে বেশ কিছু অনুসিদ্ধান্ত রয়েছে। যেমন,
অনুসিদ্ধান্ত এক।
আল্লাহ তায়ালা আসমান ও জমিনে সবকিছুর গায়েব জানেন। এখানে গায়েব জানার অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালা ভবিষ্যতের বিষয়াবলীকে ঠিক সেভাবেই জানেন, যেভাবে তিনি অতীতের বিষয়াবলীকে জানেন। অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালার নিকট অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
অনুসিদ্ধান্ত দুই।
আল্লাহ তায়ালা সময়ের অধীন নন, তিনি সময়ের অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁর কাছে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব একই। ফলে, পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এই সময়টা মানুষের কাছে হাজার মিলিয়ন বছর হলেও আল্লাহর কাছে একটি চোখের পলকের চেয়েও কম সময়। অর্থাৎ, আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ এগুলো নেই।
বিষয়টা আরেকটু বিস্তারিত বলি। দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতার মত ‘সময়’ও একটি মাত্রা। দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা ব্যতীত যেমন কোনো মানুষকে কল্পনা করা যায় না, তেমনি সময় ব্যতীত কোনো মানুষকে কল্পনা করা যায় না। মানুষ যখন পৃথিবীতে আকৃতি লাভ করে, তখন সে একটি সময়ে প্রবেশ করে; আবার যখন মৃত্যু বরণ করে, তখন এই সময় থেকে বের হয়ে যায়। তাই, মানুষ সময়ের অধীন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার জন্ম ও মৃত্যু নেই, শুরু বা শেষ নেই। তাই আল্লাহ তায়ালা সময়ের অধীন নন বরং সময়-ই আল্লাহ তায়ালার অধীন। মানুষের বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কাল আছে। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল বলে কিছু নেই। মানুষ সময়ের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে পারে না, কিন্তু আল্লাহর কাছে সব কালই বর্তমান কাল।
অনুসিদ্ধান্ত তিন।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টিজগতের মাঝে কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু সকল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের মালিক তিনি।
এ তিনটি অনুসিদ্ধান্তের পর আমরা বলতে পারি, “আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের ভাগ্য ‘পূর্ব’ নির্ধারিত” –এ কথাটা কেবল মানুষের জন্যে প্রযোজ্য। আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, মানুষের জন্যে যা অতীত, আল্লাহর জন্যে তা ‘অতীত’ নয়। আবার, মানুষের জন্যে যা ভবিষ্যৎ, তাও আল্লাহর জন্যে ‘ভবিষ্যৎ’ নয়। আল্লাহর নিকট অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সবই এক। তিনি ভবিষ্যতকে অতীতের মতই জানেন। তিনি যখন মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, তখন অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ বলে কোনো কিছু থাকে না। কিন্তু মানুষেরা যেহেতু অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে থাকে, তাই মানুষকে বোঝানোর জন্যে রাসূল (স) বলেছেন যে, মানুষের ভাগ্য ‘অতীত’ অর্থাৎ ‘পূর্ব’ থেকেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।
এবার কুর’আন থেকে উদাহরণ দেয়া যাক: "পৃথিবীতে এবং তোমাদের উপর যে বিপদ আসে, তা পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ করা আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ"। [ সূরা হাদীদ, আয়াত-২২] দুটি আয়াতের প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন যে, মানুষের উপর যে বিপদ আসে তা আগেই লিপিবদ্ধ করা থাকে। কিন্তু, দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন যে, মানুষের কৃতকর্মের কারণেই তার উপর বিপদ আসে।
“তোমাদের উপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। এবং তোমাদের অনেক গোনাহ তিনি ক্ষমা করে দেন।” [ সূরা শূরা, আয়াত-৩০] এই আয়াত দুটি কি পরস্পর বিপরীত? একটু লক্ষ্য করলেই দেখব, মানুষ যখন কোনো কাজ করে, তখন সে কাজের একটি অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ থাকে। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কাল একই। তাই দেখুন, বিপদের ব্যাপারটা যখন আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত হয়েছে, তখন তিনি বলেছেন – বিপদ আসার আগেই তা আল্লাহ নিকট লেখা থাকে এবং এটি আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ একটি কাজ। কিন্তু বিপদের ব্যাপারটা যখন মানুষের সাথে সম্পর্কিত হয়েছে, তখন আল্লাহ বলছেন – মানুষের কৃতকর্মের ফলেই বিপদ আসে। আল্লাহর ক্ষেত্রে সময় এবং মানুষের সময়, দুটি বিষয়ের পার্থক্য মাথায় নিলে আয়াত দুটির মাঝে কোনো বৈপরীত্য আর থাকে না।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে চোখ দিয়ে দেখার ক্ষমতা দিয়েছেন অন্যদিকে, নাক দিয়ে দেখার ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দেননি, তাই আমরা শত চেষ্টা করলেও নাক দিয়ে কোনো কিছু দেখতে পারব না। সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সীমাবদ্ধ ক্ষমতার কারণেই আমরা করতে পারি। ভালো বা খারাপ যাই করি না কেন, সেই ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দিয়েছেন বলেই আমরা তা করতে পারি। তিনি তাঁর ক্ষমতা আমাদের থেকে কেড়ে নিলে, আমরা যেমন ভালো কোনো কাজও করতে পারব না, তেমনি খারাপ কোনো কাজও করতে পারব না।
মানুষ যখন কোনো কিছু চায়, তখন তা সময়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। মানুষ বর্তমানে কোনো কিছু চাইলে তা ভবিষ্যতে গিয়ে পরিপূর্ণ হয়। কিন্তু, আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন সেটি সময়ের অধীন হয় না। যেহেতু তাঁর কাছে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব একই, তাই তিনি কোনো কিছু চাওয়া মাত্রই তা হয়ে যায়। তাই, আল্লাহর চাওয়া ও মানুষের চাওয়ার মাঝে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে।
বিষয়টি আরো সহজভাবে বোঝার জন্যে সর্বশেষ একটি উদাহরণ। ধরুন, তাজা ঘাসে পরিপূর্ণ একটি মাঠ। একজন মালিক একটি গরুর গলায় রশি লাগিয়ে তাকে ঐ মাঠে ছেড়ে দিল। মাঠের নির্দিষ্ট অংশে ইচ্ছামত বিচরণ করার ক্ষমতা গরুটির আছে, যেখান থেকে ইচ্ছা সেখান থেকে খাবারের সুযোগও তার আছে। কিন্তু গরুর গলার রশি যতদূর যায়, তার বাইরে গিয়ে ঘাস খাওয়ার সুযোগ গরুটিকে দেয়া হয়নি। এখন, গরুটি ইচ্ছা করলে মাঠের নির্দিষ্ট অংশের তাজা ঘাসগুলো খেয়ে নিজের পেট পূর্ণ করতে পারে, অথবা কিছু না খেয়ে উপোস থাকতে পারে। মালিক জোর করে ঐ গরুটিকে ঘাস খাইয়ে দেবে না। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। গরুটির মালিক যেহেতু মানুষ, তাই সে সময়ের দ্বারা আবদ্ধ। গরুটি ঘাস খাবে কি খাবে না, এটা সে আগে থেকে জানে না। কিন্তু স্রষ্টা যেহেতু সময়ের ঊর্ধ্বে, তাই তিনি আগে থেকে জানেন মানুষ কি করবে বা করবেনা। অর্থাৎ, স্রষ্টা সময়ের ঊর্ধ্বে, তাই তিনি মানুষের ভবিষ্যৎ জানেন। কিন্তু তিনি মানুষের ভবিষ্যৎ জানেন বলেই মানুষ যদি ভবিষ্যত তৈরির আশা ত্যাগ করে, তাহলে মানুষ ভবিষ্যতকে হারিয়ে ফেলবে।
শেষ ও সহজ কথা হচ্ছে, তাকদীর বা ভাগ্য হলো এমন একটি বিষয় যা মহান স্রষ্টার সামগ্রিক ইচ্ছা এবং মানুষের সীমাবদ্ধ ইচ্ছার দ্বারা পরিবর্তনশীল।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft