মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সদ্য এসএসসি পাস করা ছাত্র-ছাত্রীরা এ পরিস্থিতির শিকার
লেখাপড়া বিছিন্ন দেড় লাখ শিক্ষার্থী
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Monday, 13 July, 2020 at 2:07 AM

লেখাপড়া বিছিন্ন দেড় লাখ শিক্ষার্থীলেখাপড়া বিছিন্ন হয়ে পড়েছে যশোরাঞ্চলের দেড় লাখ শিক্ষার্থী। সদ্য এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরাই এ অবস্থার শিকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাসের বই ও সিলেবাস না থাকার কারণে তারা পড়ার টেবিলের ধারে কাছেও ঘেঁষছে না। করোনা মহামারি দেশের শিক্ষার্থীদের এ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। যা শিক্ষাবোর্ডের ইতিহাসে এই প্রথম।
যশোর শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষা গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে একসাথে শুরু হয়। যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষায় মোট এক লাখ ৬০ হাজার ৬৩৫ জন ছাত্রছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। গত ৩১ মে পরীক্ষার ফলাফল একযোগে প্রকাশিত হয়। ফলাফলে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৪০ হাজার ২৪৩ জন। এরমধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ২০ হাজার ৩৯২ জন। পাসের হার ৮৭ দশমিক ৩১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন ছাত্রছাত্রী। ২০১৯ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৮৮ ভাগ।
এদিকে, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ইতিমধ্যে প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু পাস করা এক লাখ ৪০ হাজার ২৪৩ ছাত্র ছাত্রীর কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া আজো শুরু হয়নি। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা শুরু হয়েছে। তারা তাদের কাঙ্খিত কলেজ জীবনে আজো প্রবেশ করতে পারেনি। তারা চলে গেছে পড়াশুনার বাইরে। করোনাকালে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী বাড়িতে বসে মোবাইলে গেম খেলে বা পারিবারিক আড্ডায় সময় পার করছে। তারা পড়াশুনার আশেপাশেও ঘেঁষছে না। পড়ার টেবিলে যাচ্ছে না এ কারণে যে, তারা কী পড়বে? তাদের নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাসের বই ও সিলেবাস। ফলে শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে না এখন তাদের কী কী বিষয়ে পড়া উচিত। কোন স্যারের ক্লাসে কী পড়া দিতে হবে। অথবা টিউটোরিয়াল পরীক্ষার জন্য কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে। অথচ এই সময়ে তাদের কলেজ প্রাঙ্গণ দাপিয়ে বেড়াবার কথা। কলেজ, ক্লাস ও ক্যাম্পাসের আড্ডায় কাটবে তাদের প্রাণবন্ত সময়। কারণ কলেজ জীবনই হচ্ছে একজন ছাত্রের জন্য শ্রেষ্ট সময়। যে সব স্মৃতি থাকবে তার গোটা জীবনে।
এ বিষয়ে সদ্য এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী সাজিম আহমেদ সৌমিক জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে বসেই ঘেম খেলে তার সময় কাটছে। বাড়িতে তার কোন পড়াশুনার চাপ নেই। এখন সে ক্লাসের কী বই পড়বে, সেটাও তার জানা নেই। কারণ হচ্ছে কলেজে ভর্তি হতে না পারায় গত দেড় মাস যাবৎ তার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি তার কোন ক্লাসের বই বা সিলেবাস নেই। এ জাতীয় ঘটনা তার শিক্ষা জীবনে এবারই প্রথম ঘটল। এরআগে এতো বেশিদিন সে কখনো পড়াশুনা থেকে বিছিন্ন ছিল না বলে জানায়।   
করোনা পরিস্থিতিতে যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ সদ্য পাসকৃত এসএসসির শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তিত রয়েছে। তারা এসব শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির জন্য আজো সার্কুলার দিতে পারেনি। যা শিক্ষাবোর্ডের রেকর্ডে এবারই প্রথম। এরআগে এসএসসির ফলাফল প্রকাশের এক সপ্তাহ পরই কলেজে ভর্তির সকল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবারই প্রথম তা হয়নি। করোনা পরিস্থিতি গোটা বিশ্বের ন্যায় শিক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম থমকে দিয়েছে। শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে পুরনো ২০১৯ সালে কলেজে ভর্তির সার্কুলার ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা ফলাফল প্রকাশের পর গত দেড়মাসেও ভর্তি সংক্রান্ত কোন নোটিশ দিতে পারেনি। কারণ এ কাজটি তাদের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আন্ত:শিক্ষাবোর্ড সভার মাধ্যমেই এ সার্কুলার দেয়া হয়ে থাকে। সারাদেশেই একসাথে সকল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। কোন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বা নিয়মে ভর্তি কার্যক্রম চালাতে পারে না। যদিও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদ অধিবেশনে বলেছেন, খুব শিঘ্রই এইচএসসিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এ ব্যাপারে যশোর ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতি তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে খানিকটা থমকে দিয়েছে। এই প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও তারা ছাত্র ছাত্রী ভর্তি করতে পারেননি। সরকারিভাবে ভর্তির ঘোষণা ছাড়া তারা এ কাজ শুরু করতে পারেন না। তবে শিঘ্রই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বিষয়টি নিয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, যশোর শিক্ষাবোর্ড চাইলেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এইচএসসি পর্যায়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করার অনুমতি দিতে পারে না। এটা আন্ত:শিক্ষাবোর্ডের সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এই কার্যক্রম থমকে রয়েছে। যা শিক্ষাবোর্ডের ইতিহাসে প্রথম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এতদিনে শিক্ষার্থীরা কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস করতো ও লেখাপড়ার মধ্যে থাকত। কিন্তু করোনা তাদেরকে পিছিয়ে দিয়েছে। তবে খুব দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি জানান।






সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft