মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
খাওয়া ঘুম নেই আব্দুলপুরের চাষিদের
যশোরের ফুল ও বাধাকপির চারা যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়
মিজানুর রহমান, চুড়ামনকাটি ( যশোর )
Published : Sunday, 12 July, 2020 at 1:33 AM

যশোরের ফুল ও বাধাকপির
চারা যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়সবজির চাষাবাদ এখন আর ঋতুভিত্তিক নেই। সব ধরনের সবজির প্রায় সারা বছর চাষাবাদ করেন কৃষক। ফলে, গরমের সময়ও হাটবাজারে রকমারি শীতকালীন সবজির দেখা মিলছে। যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকায় শীতকালীন সবজি ফুলকপি ও বাধাকপি সারা বছর চাষের জন্যে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।
স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এখানকার উৎপাদিত চারা জেলার বাইরেও যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি ও বাধাকপির চারা বিক্রি লাভজনক হওয়ায় অনেকেই উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
আগে শীতের শুরুতে ব্যস্ততা বেড়ে যেত আব্দুলপুর গ্রামের কৃষকদের। এখন বারো মাসই থাকে তাদের ব্যস্ততা। তাইতো বছর জুড়েই বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাধা ও ফুল কপির চারা রোপণে ব্যস্ত থাকেন এখানকার কৃষক পরিবারের সদস্যরা। মাত্র চার মাসে লাভজনক চাষ হওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন এই চাষে। ইতোমধ্যে গোটা গ্রামটি কপি পল্লী হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন জাতের কপির চারা বিক্রি। শুধু কৃষক না, লাভবান হচ্ছেন জমির মালিকরাও। তারা এক জমি বছরে দু’বার লিজ দিতে পারছেন। সারা দেশের মধ্যে সবজি চাষে চুড়ামনকাটি এলাকার কৃষকদের রয়েছে আলাদা খ্যাতি। তারা সবজি চাষের পাশাপাশি নিজেরাই শুরু করেন বিভিন্ন ভালো বীজ ও চারা উৎপাদন। কৃষকরা জানান, আট ১০ বছর পূর্বে তাদের উৎপাদিত চারা প্রথমে এলাকা ভিত্তিক চললেও গত তিন-চার বছর ধরে বিভিন্ন জেলার চাষিরা কিনে নিয়ে রোপণ করছেন। আব্দুলপুর গ্রামের চাষি টিটো জানান, মাত্র চার মাসে ব্যাপক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এখানকার কৃষকরা এই চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।
পোলতাডাঙ্গা গ্রামের জাকির হোসেন জানান, তার আট কাঠা জমিতে খরচ হয়েছে এক লাখ টাকা। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার চারা বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
মোড়ল আলী নামের এক কৃষক জানান, তাদের উৎপাদিত কপির চারা খুলনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার কৃষক নিয়ে যায়।
সরেজমিন দেখা যায়, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী পুরুষ সবাই মাঠে আছে। কেউবা আবার কুঁড়েঘর বানিয়ে চারা পরিচর্যায় রাতদিন মাঠেই থাকে। বর্তমানে প্রচণ্ড গরম পড়ায় কৃষক নাজেহাল হয়ে পড়ছে।  খেতে গিয়ে দেখা যায়, কেউ বীজতলা তৈরি করছে, কেউ পানি দিচ্ছে, আবার কেউ আগাছা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
কৃষকরা জানান, বীজ বপনের ৩০ দিনের মধ্যে চারা বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। ফুলকপির ফলন আসতে ৫৫ দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। বাধাকপির ক্ষেত্রেও ফলন পেতে জাতভেদে ৫০ থেকে ৫৫ এবং ৬০ থেকে ৯০দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালনক ডক্টর আকতারুজ্জামান জানান, গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি ও বাধাকপির চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় চাষিদের অনেকেই এখন আবাদ করছেন। শীতকালীন সবজি দু’টির গ্রীষ্মকালে চাষেও ফলন ভালো আসছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft