মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কচুয়ায় ভূমিদস্যু শম্ভুনাথের কুদৃষ্টিতে জমি হারানোর শঙ্কায় সাবেক শিক্ষক
কাগজ সংবাদ
Published : Sunday, 12 July, 2020 at 1:10 AM
কচুয়ায় ভূমিদস্যু শম্ভুনাথের কুদৃষ্টিতে
জমি হারানোর শঙ্কায় সাবেক শিক্ষকযশোর সদর উপজেলার মালিডাঙ্গা গ্রামে শম্ভুনাথ মল্লিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখল, সরকারি জমির ডিসিআর কেটে তা বিক্রি এবং এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী এই ব্যক্তির দৌরাত্ম্য এমন বেড়েছে যে, কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস দেখান না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের করা সালিশিকেও তিনি থোড়াই কেয়ার করছেন।
অভিযোগে জানাগেছে, মালিডাঙ্গা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী মশিউর রহমানের এক একর ১৭ শতাংশ জমির উপর কুদৃষ্টি পড়েছে ভূমিদস্যু শম্ভুনাথ মল্লিকের। ওই জমিটি দখলে নিতে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন নানা অপতৎপরতা। মশিউর রহমানের চলাচলের দু’টো পথের একটি ইতোমধ্যে আটকে দিয়েছেন তিনি। বাকিটাও আটকানোর পায়তারা করছেন। এমনকি দেয়া হচ্ছে নানা হুমকি। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা বিভাগীয় উপভূমি সংস্কার কমিশনারের কার্যালয় থেকে ‘আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রসঙ্গে’ যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেয়া হলেও তার কোনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেও অভিযোগে জানাগেছে।
মশিউর রহমানের ছেলে কাজী নাঈমুর রহমান জানান, যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মালিডাঙ্গা গ্রামে তার পিতা ২০ বছর আগে এক একর ৯১ শতাংশ জমি কিনে ভোগদখল করে আসছেন। নরেন্দ্রনাথ কর্মকারের ছেলেদের কাছ থেকে কেনা সেই জমির ৭৪ শতাংশ সরকারের খাসতালিকায় থাকায় তা ছেড়েও দেন। এনিয়ে সরকারের সঙ্গে একটি মামলা চেয়ারম্যানের সালিশিতে তুলে নেন। কিন্তু, ভূমিদস্যু শম্ভুনাথ মল্লিক ওই জমি দখলে নিতে নানা প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি একটি ভুয়া ওয়ারিশনামাও দালিখ করেন ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। তদন্তে সেটা খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি ওই পরিবারের সদস্যদের একের পর এক হুমকি দিতে থাকেন। যার প্রেক্ষিতে গত মে মাসে কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু, সেটাকে আমলে না নিয়ে নরেন্দ্রপুর ক্যাম্পের পুলিশ শম্ভুনাথের করা একটি অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগে জানানো হয়। যাতে আরও উগ্র শম্ভুনাথ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন মশিউর রহমানের জমি। এমনকি তার ঘেরের কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে নাঈমুর থানায় একটি জিডি করেন।
ওই জিডির ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এস আই হারুন। তিনি জানান, অভিযোগে সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনার সত্যতা পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর উচ্চতর তদন্তের জন্য আবেদন করি। তিনি মঞ্জুরও করেন। কিন্তু এরপর আমার বদলি হওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বলতে পারছি না।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শম্ভুনাথ একজন খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। দু’জন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে তিনি এসব অপকর্ম চালাচ্ছেন। স্থানীয় পুলিশকেও তিনি টাকায় ‘বশ’ করেছেন বলে অনেকের দাবি। সে কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। যারা এর আগে এমন সাহস দেখিয়েছেন তাদেরকেও তিনি নানাভাবে ‘শায়েস্তা’ করেছেন। এমনকি তিনি এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টেও নানা ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নরেন্দ্রপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘জমিজমার বিরোধ দেখা আমার কাজ নয়। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে যা করার আমি করেছি। বাকিটা তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে সুরাহা করে আসতে বলেছি।’
কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ‘শম্ভুনাথের দায়ের করা ওয়ারিশনামা তদন্তে ফেক প্রমাণ হওয়ায় সেটা বাতিল করা হয়। এবিষয়ে আপোষনামা করা হলেও সে মানতে চায় না। আমরা আপোষনামার পক্ষে আছি ও থাকবো।’
শম্ভুনাথ মল্লিকের কাছে উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft