শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অবৈধ দখলদার ও ড্রেন-ফুটপাত প্রধান বাধা
দড়াটানা-চাঁচড়া ফোরলেন বিঘ্নিত
জাহিদ আহমেদ লিটন
Published : Thursday, 9 July, 2020 at 11:59 PM
দড়াটানা-চাঁচড়া ফোরলেন বিঘ্নিতযশোর শহরের দড়াটানামোড় থেকে চাঁচড়া পর্যন্ত সড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সড়কটি এখন আংশিক ফোরলেন হচ্ছে। সর্বোচ্চ চওড়া হচ্ছে চল্লিশ ফুট ও সর্বনিম্ন ৩০ ফুট। শহরাংশের এ কাজ এখন পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।
দড়াটানামোড়ে সড়কে প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে চাঁচড়া পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার নতুন করে নির্মিত হচ্ছে। শত কোটি টাকা উন্নয়ন বাজেটের এ রোডটি যুক্ত হয়েছে যশোর-বেনাপোল সড়ক প্রকল্পে।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক বছরের অধিককাল যশোরের প্রধান দুটি মহাসড়ক যশোর-খুলনা ও যশোর-বেনাপোলের উন্নয়ন কাজ চলছে। এরমধ্যে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ৩৮ কিলেমিটার উন্নয়নে ৩২৮ কোটি টাকা প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু সড়কের পাশে যথেষ্ট জায়গা না থাকায় বরাদ্দ ২১ কোটি টাকা কমে নির্ধারণ হয়েছে ৩০৭ কোটি টাকা। সড়কটি নতুন করে ভিতের মাধ্যমে ডাবল লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কাজ এখন শেষের পথে। মহাসড়কটি শহরের দড়াটানামোড়ের মুজিব সড়ক থেকে শুরু হয়ে বেনাপোল বন্দরের চেকপোস্ট নোম্যান্স ল্যান্ড পর্যন্ত যাবে। মূল সড়কটি দু’পাশেই ৫ ফুট করে মোট ১০ ফুট বাড়ানো হয়েছে। অবশ্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুরনো দিনের ঐতিহাসিক শতবর্ষী গাছ থাকায় সমানভাবে বর্ধিত করা যায়নি। যেখানে যতটুকু সম্ভব, সেখানে ততটুকু বাড়ানো হয়েছে। এ কারণেই বেনাপোল সড়ক নির্মাণের বাজেট ২১ কোটি টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে।
এ সড়কটি বর্ধিতকরণে যশোর শহরাংশে এসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের পরিকল্পনা কিছুটা পরিবর্তন করে। যেহেতু সড়কটি শহরের যানজটপূর্ণ মুজিব সড়ক থেকে শুরু হয়েছে। সেহেতু কর্তৃপক্ষ দড়াটানা থেকেই তাদের নকশা কিছুটা পরিবর্তন করে। কিন্তু দড়াটানামোড়ে তাদের জায়গা কম। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ফুটপাতের কারণে তারা খানিকটা থমকে দাঁড়ায়। এরপর নকশায় ফের পরিবর্তন এনে মুজিব সড়কের ঈদগাহমোড় থেকে চাঁচড়া চেকপোস্ট পর্যন্ত নতুন নকশা তৈরি ও বাজেট করা হয়। এরপর মে মাসের শুরুতে ঠিকাদার দড়াটানা থেকে চাঁচড়া পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, যশোর শহরকে পরিকল্পিতভাবে যানজটমুক্ত করার জন্যই তারা মূলত এ সড়ক বর্ধিতকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। মুজিব সড়কে যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। শহরবাসীকে যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতেই সড়ক বিভাগ পৌরসভাকে সাথে নিয়ে এ কাজ শুরু করে। সড়ক বর্ধিতকরণের এ বাজেট যশোর-বেনাপোল প্রকল্পে যুক্ত হয়। এরপর দেশে করোনা সংক্রমনের কারণে গত ২৬ এপ্রিল থেকে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সওজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঠিকাদার গত ২ মে থেকে এ সড়কের কাজ শুরু করেছেন। শহরের দড়াটানামোড় থেকে চাঁচড়ামোড় পর্যন্ত গিয়ে শহরাংশের এ কাজ শেষ হবে। অবশ্য সেক্ষেত্রে যশোর শহর অংশকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দড়াটানামোড় থেকে চাঁচড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ সর্বোচ্চ বর্ধিত করা হচ্ছে। এ কারণে সড়কের দু’পাশের জমি মাপজোক ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব কাজ করতে গিয়ে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নানা ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। এমনকি জেলা প্রশাসনের জমির খোঁজ জানতে গিয়ে তাদেরকে লাল চিঠি খেতে হয়েছে। এরপরও তারা থেমে নেই। জনগণের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে এ সমস্ত কর্মকান্ডের পরও দড়াটানামোড় থেকে ঈদগাহমোড় পর্যন্ত সড়কটি খুব বেশি বর্ধিত হচ্ছে না। যেহেতেু সড়কের একপাশে জেলা প্রশাসক ও আদালতের জমিতে সীমানা প্রাচির এবং পৌরসভার ড্রেন রয়েছে। সেহেতু এ অংশে সড়কটি খুব বেশি চওড়া হচ্ছে না। সড়কটি এ স্থানে সব মিলিয়ে চওড়া হচ্ছে ৩০ ফুট। এরপর ঈদগাহমোড় থেকে সার্কিট হাউসমোড় পর্যন্ত হবে ৩২ ফুট। এ সড়কের দু’পাশে ড্রেন থাকায় শত চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষ জায়গা বৃদ্ধি করতে পারেননি। জিলাস্কুলের সামনে থেকে চাঁচড়া ডালমিল পর্যন্ত হচ্ছে ৩৫ ফুট। এরপর ডালমিল থেকে চাঁচড়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ বর্ধিত হচ্ছে ৪০ ফুট। সড়কের এ স্থানটি হচ্ছে ফোরলেন ও ডিভাইডার রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এখনই সেটা নিশ্চিত নয়। সড়কটি নির্মাণের পরই সিদ্ধান্ত হবে কোথায় কি করা হবে, এ তথ্য জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। তারা বলেছে, সড়কের পূর্বপাশে তাদের বেশি জমি রয়েছে। এ কারণে তারা এ অংশেই সড়কটি বেশি প্রশস্ত করছে। এক্ষেত্রে তারা যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও শহরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তাদের প্রথম পরিকল্পনায় দড়াটানা মোড় থেকে চাঁচড়া চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়কটি ফোরলেন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সড়কের জমি কম থাকায় তারা পিছিয়ে গিয়ে ঈদগাহমোড় থেকে ডাবল লেনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। আর দড়াটানা মোড় থেকে ঈদগাহমোড় পর্যন্ত যতদুর সম্ভব সড়ক প্রশস্ত করা হবে।
তিনি বলেন, মুজিব সড়কের বামপাশে সড়ক বিভাগের জমি বেশি। এ কারণে পূর্বপাশে সড়কটি বেশি প্রশস্ত হবে। তিনি বলেন, শহরাংশের সড়কের কাজ আরো আগেই শুরু হবার কথা ছিল। কিন্তু করোনা দুর্যোগ তাদেরকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে। তারপরও যতদ্রæত সম্ভব তারা এ কাজ শেষ করবেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft