রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
সারাদেশ
প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৪ বছর ধরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
মোঃ সেলিম হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 8 July, 2020 at 2:58 PM
প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৪ বছর ধরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগরাজশাহীর পবা উপজেলার দর্র্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৪ বছর ধরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় পবা উপজেলার কর্ণহার থানায় লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের নাম কামরুল হাসান রাজ। তিনি পবা উপজেলার ১নং দর্শনপাড়া  ইউপি চেয়ারম্যান। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম রুমানা (৩০)। স্বামী মোঃ আনারুল । তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার বারোঘাটি গ্রামে স্বামীসহ বসবাস করতেন।
অভিযোগ কারির দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে প্রথমে মেলামেশা করেন। এরপর তার ভিডিও ধারণ করা আছে জানিয়ে তাকে বার বার মিলিত হতে চেয়ারম্যান বাধ্য করেছেন।
ওই নারীর জানান, ২০০৫ সালে কামরুল হাসান রাজের সঙ্গে তার পরিচয়। সে সময় কামরুল হাসান তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। বিশ্বাস করে তিনি তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দেন। এরপর তার সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হন। পরবর্তীতে কামরুল তাকে জানান, তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা আছে। তার ডাকে সাড়া না দিলে সেই ভিডিও ফাঁস করে দেয়া হবে। এভাবে কামরুল তাকে ১৪ বছর জিম্মি করে রেখেছেন।
ওই নারী আরোও জানান, কামরুল হাসান তাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সে বিয়ে করেননি। উল্টো তিনিই ওই নারীর অন্য এক যুবকের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন। বাধ্য হয়ে তিনি বিয়েও করেন। বিয়ের পরেও চেয়ারম্যান তাকে মুক্তি পাইনি। সুযোগবুঝে রাজশাহী মহানগরীতে নিজের ফাকা বাড়ি এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে মিলিত হতেন।
করোনাকে উপেক্ষা করে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বিয়ের দাবি নিয়ে মঙ্গলবার দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান। চেয়ারম্যান তখন তাকে বের করে দেন। এরপর তিনি ইউপি কার্যালয়ের সামনেই বসে কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর ওই নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী বলেন, চেয়ারম্যান রাজ আবারো আগের শারীরিক মিলামেশার কিছু ভিডিও রয়ে গেছে সেগুলো আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দিবো বলে ভয় দেখালে, আমি ভয়ে তার কথায় রাজি হয়ে তার জীবনে ফিরে আসি। এতে করে তিনি আমাকে আশ্বাস দেন বাড়ী করে দিবেন ব্যাংক একাউন্টে টাকা দিবেন। এ বলে তিনি প্রতি মাসে আমাকে ৫-৭ হাজার টাকা দিতেন আমার বিকাশে। চলতি বছরের জানুযারি মাস থেকে আমাকে কোন খারচ দেন না। এদিকে, এ সর্ম্পকের কথা কাউকে বললে পুলিশী বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দেয়া হয় বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে রুমানার ভাই হাবিব জানান, আমার বোনের সাথে চেয়ারম্যানের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়ে চেয়ারম্যানের স্ত্রী সিমা ও মাকে জানানো হয়েছে এবং তারাও দীর্ঘ দিন ধরে অবগত আছে। এ নিয়ে আমার বোনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
চেয়ারম্যান কামরুল হাসান এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কয়েকবার ফোন রিসিভ না করে পরে ফোন বন্ধ করে দেয় তিনি।
এ বিষয়ে কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে এই নারীর অভিযোগে বিষয়ে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ওই নারী পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ত্রাণ না পেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান ইউনিয়নের দর্শনপাড়ার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বোরহানুল ইসলাম মিলন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মিলে পিটিয়ে তাকেসহ তার ভাই বাবু মুন্নাকেও পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান রাজ।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft