মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সমিতিতে অ্যাড. আমিরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার
সাধারণ সভায় উত্থাপনের দাবি জানিয়ে ৮০ সিনিয়র আইনজীবীর আবেদন
নিজাম উদ্দিন শিমুল
Published : Tuesday, 7 July, 2020 at 12:47 AM
সাধারণ সভায় উত্থাপনের দাবি জানিয়ে ৮০ সিনিয়র আইনজীবীর আবেদনবহুল আলোচিত আমির হোসেনের বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের প্রতিবাদ ও তা বাতিলের দাবিতে এবার একাট্টা হয়েছেন সাধারণ আইনজীবীরা। সেইসাথে তারা যশোর জেলা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত আবেদনও জানিয়েছেন। এতে অ্যাডভোকেট আমিরের বরখাস্তের বিষয়টি সমিতির সাধারণ সভায় উত্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।
সাধারণ আইনজীবীদের পক্ষে সাবেক পিপি আবুল হোসেন সোমবার এ আবেদন জমা দেন। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পিপি, এপিপিসহ ৮০ জন সিনিয়র আইনজীবী এই আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।
আইনজীবীরা জানান, তৃতীয় দফায় আমিরের বরখাস্তের পর একশ’ ১৪ জন আইনজীবী স্বাক্ষরিত একটি আবেদন দেয়া হয়েছিল আইনজীবী সমিতিতে। সেখানে তার সদস্যপদ স্থায়ীভাবে বাতিল ও আইনজীবী সনদ বাতিলের জন্যে বার কাউন্সিলে প্রস্তাব পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সমিতি তা বিবেচনা না করে একজনের পক্ষ নিল। যা গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত সঠিক নয় দাবি করে তা প্রত্যাহার ও বিষয়টি সমিতির সাধারণ সভায় উত্থাপনের জোর দাবি জানানো হয় লিখিত আবেদনে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আমিরের কাজে শুধু সমিতিরই নয়, পুরো আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এর দায়ভার প্রত্যেকটা আইনজীবীকে বহন করতে হচ্ছে। সে কারণে আমিরের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ সদস্যদের মতামতেরও মূল্য দেয়া উচিত বলে অভিমত প্রকাশ করেন সিনিয়র আইনজীবীরা।
এরআগে একশ’ ১৪ জন আইনজীবী যে আবেদন করেছিলেন তাতে বলা হয়েছিল, সোনিয়া সুলতানা নামে এক নারীকে আমির বিয়ে করে পরে তা অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে সোনিয়া অভিযোগ দেয়ায় তাকে টাকা দিয়ে আমির তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করান। তিনি ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুলের সাথে অশোভন আচরণ করেন এবং তাকে হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে বারের অন্যান্য সিনিয়র সদস্যরা তার উপর ক্ষিপ্ত হন। পরে তদন্তে আমিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিতও হয়। কিন্তু ওই সময় তার বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সমিতি।
২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট নুরনাহার নামের এক নারী চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অ্যাডভোকেট আমিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর নাসিমা বেগম নামে আর এক নারী প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এছাড়া ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল আরও একটি মামলা হয় আমিরের বিরুদ্ধে। এগুলো সবই বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ওরফে সালেহাকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় আমির হোসেনকে পুলিশ আটক করে।  
এর বাইরেও কোতোয়ালী থানার একটি মামলার (জিআর-১২/১৯) আসামি আবুল বাসারকে জালিয়াতি করে জামিনে মুক্ত করানোর অভিযোগে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে অ্যাডভোকেট আমিরকে কৈফিয়ত তলব করা হয়। এ মামলায় জালিয়াতির অভিযোগে যশোর সদর কোর্টের সাবেক জিআরও শফি উদ্দিন মোল্লাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু আমির থেকে যান বহাল তবিয়তে। আইনজীবী সমিতির একটি পক্ষের সহযোগিতায় তিনি পার পেয়ে যান।
সোমবার সমিতিতে দেয়া আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল ইসলাম, আফজাল হোসেন, আমিনুর রহমান,  দুদকের পিপি জিএম জুলফিকার আলী ভুট্টো, অতিরিক্ত পিপি খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জিপি প্রদীপ কুমার পাঠক, নোটারিপাবলিক ও এপিপি জি এম আবু মুছা, এপিপি মিলন দত্ত, বেনজীর আহম্মেদ, মিজানুর রহমান মিন্টু, সিরাজুল ইসলাম নেন্টু,  সিনিয়র আইনজীবী আবু মুরাদ, নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী, নোটারি পাবলিক সৈয়দ রুহুল কদ্দুস কচি, সাবেক স্পেশাল পিপি এস এম বদরুজ্জামান পলাশ, এ বি এম সাইফুর রহমান, আব্দুল লতিফ লতা প্রমুখ।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft